ঢাকা রোববার, ১৮ অক্টোবর ২০২৬, ৩ কার্তিক ১৪৩৩ | বেটা ভার্সন

চট্টগ্রাম কাস্টম হাউসে রাজস্ব আদায়ে ঘাটতি

এক মাসে ১৬৮ চালান লক
চট্টগ্রাম কাস্টম হাউসে রাজস্ব আদায়ে ঘাটতি

দেশের সবচেয়ে বড় রাজস্ব আহরণকারী প্রতিষ্ঠান চট্টগ্রাম কাস্টম হাউসে গত সেপ্টেম্বরে রাজস্ব আদায় হয়েছে প্রায় ৭ হাজার ৪৯৯ কোটি টাকা। লক্ষ্যমাত্রা ছিল ১০ হাজার ৫০১ কোটি ৯২ লাখ টাকা। এর আগের অর্থবছরে এ মাসে আদায় হয়েছিল ৭ হাজার ৯৪৫ কোটি ৫২ লাখ টাকা। এর আগে জুলাই মাসে ১০ হাজার ৯৮৬ কোটি ১১ লাখ টাকা লক্ষ্যমাত্রার বিপরীতের রাজস্ব আয় হয়েছে ৬ হাজার ৯৩৬ কোটি ১১ লাখ টাকা। আগস্টে লক্ষ্যমাত্রা ছিল ১০ হাজার ৫৪৪ কোটি ২৩ লাখ টাকা, আদায় হয়েছে ৭ হাজার ৬১৭ কোটি ৯৫ লাখ টাকা। চলতি অর্থবছরের প্রথম তিন মাসে মোট আদায় ২২ হাজার ৫৩ কোটি টাকা। এ অর্থবছরের চট্টগ্রাম কাস্টম হাউসের রাজস্ব লক্ষ্যমাত্রা ১ লাখ ৩২ হাজার কোটি টাকা। প্রতিদিনের রাজস্ব লক্ষ্যমাত্র ৩২১ কোটি টাকা। রাজস্ব আহরণ বাড়াতে সাপ্তাহিক ছুটির দিনও আমদানি পণ্যচালান খালাসে শুল্কায়ন কার্যক্রম পরিচালনা করছে কাস্টম হাউস। যদিও ব্যাংক, শিপিং এজেন্ট, সিঅ্যান্ডএফ এজেন্ট, আমদানিকারকের অফিস বন্ধ থাকাসহ নানা কারণে আশানুরূপ সাড়া মেলেনি। ফলে রাজস্ব আদায়ের লক্ষ্যমাত্রা অর্জনে প্রতিষ্ঠানটিকে চ্যালেঞ্জের মুখে পড়তে হচ্ছে। সেপ্টেম্বরেই চট্টগ্রাম বন্দর দিয়ে আসা ১৬৮টি চালান লক করেছে কাস্টম হাউস। এটি মূলত মিথ্যা ঘোষণা, রাজস্ব ফাঁকির আশঙ্কায় থাকা চালানগুলোই জব্দ করা হয়। গোপন সংবাদের ভিত্তিতে শুধু কাস্টম হাউসের অডিট ইনভেস্টিগেশন অ্যান্ড রিসার্চ (এআইআর) শাখা জাতীয় রাজস্ব বোর্ডের অ্যাসাইকুডা ওয়ার্ল্ড সিস্টেমে এসব চালান লক করে। লক করা চালান আনলক না করা পর্যন্ত বন্দর, শেড, টার্মিনাল, বেসরকারি কনটেইনার ডিপো, কমলাপুর আইসিডি, পানগাঁও ইনল্যান্ড কনটেইনার টার্মিনাল থেকে খালাস করা যায় না। যার মধ্যে কায়িক পরীক্ষা করা চালান ১৩৯টি। এর মধ্যে ৫৫টিতে ঘোষণা অনুযায়ী পণ্য পাওয়া গেছে। ৮৪টি চালানে অনিয়ম পাওয়া যায়, যার ৫৭টির বিপরীতে শুল্ক কর আদায় করা হয়েছে। বাকি ২৭টি চালানের বিপরীতে শুল্ক কর আদায়ের প্রক্রিয়া চলছে। এ ছাড়া সেপ্টেম্বর ও তার আগে লক করা চালানের মধ্যে কায়িক পরীক্ষা হয়েছে ১৬৬টি। যার মধ্যে ৯০টি চালানের অনিয়ম উদ্ঘাটন করে ৬৭টি চালানের শুল্ক কর আদায় করা হয়েছে। বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন কাস্টম হাউসের সহকারী কমিশনার শরীফ মোহাম্মদ আল আমিন। তিনি জানান, লক করা চালানের মধ্যে প্রাপ্ত অনিয়ম ৫৪ দশমিক ২২ শতাংশ। অনিয়মের বিপরীতে রাজস্ব আদায় করা হয়েছে ৭ কোটি ১১ লাখ টাকা। একই সঙ্গে জরিমানা আদায় করা হয়েছে ৫ কোটি ৯৫ লাখ টাকা। মোট রাজস্ব আয় ১৩ কোটি ৬ লাখ টাকা। এক প্রশ্নের উত্তরে তিনি বলেন, আমদানি নথিপত্রে কোনো পণ্যের উৎপাদনকারী দেশ, রপ্তানিকারক দেশ, উৎস, পণ্যের ধরন, আমদানিকারকের বিগত সময়ের তথ্য ইত্যাদি পর্যালোচনা করে এআইআর শাখা চালান লক করে। এ ছাড়া সরকারি বিভিন্ন সংস্থার তথ্য, গোপন তথ্যের ভিত্তিতে চালান লক করা হয়ে থাকে। এআইআর ছাড়াও শুল্ক গোয়েন্দা এবং এনবিআরের সেন্ট্রাল ইন্টেলিজেন্স সেল (সিআইসি) সিস্টেমে চালান লক করতে পারে। কাস্টম হাউস আমদানি পণ্য চালানের বিপরীতে শুধু রাজস্ব আহরণই করে না। একই সঙ্গে দেশে ভোগ্যপণ্যের নিরবচ্ছিন্ন সাপ্লাই চেইন ঠিক রাখা, শিল্পকারখানায় উৎপাদন, কর্মসংস্থানের লক্ষ্যে দেশি-বিদেশি বিনিয়োগ, জাতীয় নিরাপত্তা, দেশি শিল্পকারখানাকে পৃষ্ঠপোষকতার দিকেও নজর রাখে।

আরও পড়ুন -
  • সর্বশেষ
  • সর্বাধিক পঠিত