
ঝালকাঠি জেলার ঐতিহ্যবাহী নলছিটি লঞ্চঘাটকে শহীদ শরিফ ওসমান হাদির নামে নামকরণ করা হয়েছে। গতকাল শুক্রবার ঝালকাঠির নলছিটিতে এক অনাড়ম্বর অনুষ্ঠানের মাধ্যমে নামকরণের ফলক উন্মোচন করেন নৌপরিবহন এবং শ্রম ও কর্মসংস্থান মন্ত্রণালয়ের উপদেষ্টা ব্রিগেডিয়ার জেনারেল (অবসরপ্রাপ্ত) ড. এম. সাখাওয়াত হোসেন। এ সময় তিনি শহীদ ওসমান হাদির স্মৃতির প্রতি গভীর শ্রদ্ধা জানান। নৌপরিবহন উপদেষ্টা বলেন, জুলাই গণঅভ্যুত্থানের সম্মুখভাগের অকুতোভয় যোদ্ধা, প্রতিবাদী তারুণ্যের প্রতীক এবং ইনকিলাব মঞ্চের মুখপাত্র শহীদ শরিফ ওসমান হাদির স্মরণে তার নামে নলছিটির ঐতিহ্যবাহী লঞ্চঘাটটির নামকরণ করতে পেরে আমি গর্বিত। তিনি শুধু নলছিটির কৃতি সন্তানই নন, তিনি ছিলেন দেশ ও জনগণের জন্য আত্মত্যাগকারী এক সাহসী সন্তান। তাঁর নামানুসারে এই লঞ্চঘাটের নামকরণ ভবিষ্যৎ প্রজন্মকে দেশপ্রেম, সাহস ও দায়িত্ববোধে উদ্বুদ্ধ করবে। তিনি আরও বলেন, বর্তমান সরকার প্রান্তিক ও দুর্গম দ্বীপাঞ্চলের জনগণকে মূলধারার উন্নয়নের সঙ্গে সম্পৃক্ত করতে নৌযোগাযোগ অবকাঠামো উন্নয়নে বিশেষ গুরুত্ব দিচ্ছে। নদীমাতৃক বাংলাদেশের সম্ভাবনাকে কাজে লাগিয়ে দেশের প্রতিটি অঞ্চলে সমান উন্নয়ন নিশ্চিত করাই সরকারের লক্ষ্য। উপদেষ্টা বলেন, প্রান্তিক ও উপকূলীয় জনগণের জীবনমান উন্নয়নে এ ধরনের অবকাঠামোগত উন্নয়ন কার্যক্রম ভবিষ্যতেও অব্যাহত থাকবে। একই সঙ্গে নদীপথ ব্যবহারে নিরাপত্তা ও শৃঙ্খলা বজায় রাখতে সংশ্লিষ্ট সকলকে আরও সচেতন হতে হবে। বাংলাদেশ অভ্যন্তরীণ নৌ-পরিবহন কর্তৃপক্ষ (বিআইডব্লিউটিএ) ইতোমধ্যে শহীদ ওসমান হাদি লঞ্চঘাটের সংস্কার ও আধুনিকায়ন কাজ সম্পন্ন করেছে। নলছিটির কৃতি সন্তান শহীদ ওসমান হাদির নামে সাবেক নলছিটি লঞ্চঘাটের নামকরণ করার সিদ্ধান্তে স্থানীয় বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষ নৌপরিবহন উপদেষ্টার প্রতি আন্তরিক ধন্যবাদ ও কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেন। তারা বলেন, এটি নলছিটির ইতিহাসে একটি গুরুত্বপূর্ণ সংযোজন, যা তরুণ প্রজন্মকে ন্যায়বোধ, প্রতিবাদ এবং আধিপত্যবাদের বিরুদ্ধে নাগরিক অধিকার প্রতিষ্ঠায় আরও সচেতন করবে।
উল্লেখ্য, নৌপরিবহন উপদেষ্টার উদ্যোগে সমুদ্র উপকূলীয় মানুষের স্বাস্থ্যসেবা নিশ্চিতকল্পে ভোলার মনপুরা উপজেলা প্রশাসনের কাছে ‘শহীদ ওসমান হাদি ওয়াটার অ্যাম্বুলেন্স’ হস্তান্তর করা হয়েছিল। এছাড়াও নৌপরিবহন উপদেষ্টা শুক্রবার সকালে বরিশালের বাকেরগঞ্জ উপজেলার দুর্গাপাশা ইউনিয়নে নবনির্মিত লঞ্চঘাটের উদ্বোধন করেন। এ সময় তিনি বলেন, ‘দুর্গাপাশা লঞ্চঘাট চালু হওয়ার ফলে এ এলাকার মানুষের যাতায়াত আরও সহজ, নিরাপদ ও সাশ্রয়ী হবে।’ পাশাপাশি কৃষি ও ব্যবসা-বাণিজ্যের প্রসারে এই লঞ্চঘাট গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে বলে তিনি আশাপ্রকাশ করেন। অনুষ্ঠানে বাংলাদেশ অভ্যন্তরীণ নৌ-পরিবহন কর্তৃপক্ষ (বিআইডব্লিউটিএ)-এর চেয়ারম্যান রিয়ার অ্যাডমিরাল আরিফ আহমেদ মোস্তফা, শহীদ শরিফ ওসমান হাদির স্বজনরাসহ নৌপরিবহন মন্ত্রণালয় ও বিআইডব্লিউটিএর সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা, জেলা ও উপজেলা প্রশাসনের কর্মকর্তারা এবং স্থানীয় গণ্যমান্য ব্যক্তিরা উপস্থিত ছিলেন।