ঢাকা শনিবার, ০৩ জানুয়ারি ২০২৬, ১৯ পৌষ ১৪৩২ | বেটা ভার্সন

নকলায় ১২ হাজার হেক্টর জমিতে বোরো আবাদের লক্ষ্যমাত্রা

নকলায় ১২ হাজার হেক্টর জমিতে বোরো আবাদের লক্ষ্যমাত্রা

শেরপুরের নকলা উপজেলায় চলতি রবি মৌসুমে মোট ১২ হাজার ৪২৫ হেক্টর জমিতে বোরো আবাদের লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হয়েছে। এর মধ্যে হাইব্রিড জাতের ৯ হাজার ৮১০ হেক্টর ও উফসী জাতের ২ হাজার ৬১৫ হেক্টর জমিতে বোরো আবাদ করা হবে।

এসব জমিতে চারা রোপণের জন্য মোট ৬৯৫ হেক্টর জমিতে বীজতলা করা হয়েছে। এর মধ্যে হাইব্রিড জাতের বীজতলা ৫৪০ হেক্টর এবং উফসী জাতের বীজতলা ১৪৫ হেক্টর জমিতে করা হয়েছে। সরেজমিনে দেখা গেছে, উত্তরাঞ্চলের কৃষকরা এরইমধ্যে বোরো চারা রোপণের কাজে মাঠে নেমে পড়েছেন। ব্যক্তি উদ্যোগে চাষাবাদে মনোনিবেশ করেছেন কৃষকরা।

কৃষি অফিস সূত্রে জানা গেছে, চলতি বোরো মৌসুমে সরকারিভাবে কৃষি প্রণোদনা কর্মসূচির আওতায় উপজেলার মোট ৩ হাজার ২০০ কৃষককে বীজ ও সার সহায়তা প্রদান করা হয়েছে।

এর মধ্যে ২ হাজার ৮০০ কৃষকের মাঝে হাইব্রিড জাতের বীজ এবং ৪০০ কৃষকের মাঝে উফসী জাতের বীজ ও সার বিতরণ করা হয়েছে। এসব সহায়তা পেয়ে প্রতি বছরের ন্যায় এবারও নির্দিষ্ট সময়ে কৃষকরা বোরো চাষাবাদের কাজে নেমেছেন।

এছাড়া কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের পক্ষ থেকে কৃষি মাঠের খবরাখবর রাখাসহ কৃষকদের নিয়মিত পরামর্শ প্রদান করা হচ্ছে। ভূরদী খন্দকার পাড়া কৃষিপণ্য উৎপাদক কল্যাণ সংস্থার প্রতিষ্ঠাতা সভাপতি ছাইদুল হকসহ অনেকে জানান, উত্তরাঞ্চলের কৃষকরা বোরো বীজ রোপণের কাজ শুরু করলেও দক্ষিণাঞ্চলে রোপণ কাজ শুরু হবে আগামী সপ্তাহ থেকে। আবহাওয়া অনুকূল থাকলে যথাসময়ে বোরো বীজ রোপণের কাজ শুরু হয়ে উপযুক্ত সময়ের মধ্যেই শেষ হবে।

কৃষি সম্প্রসারণ কর্মকর্তা কৃষিবিদ সাগর চন্দ্র দে জানান, ১২ হাজার ৪২৫ হেক্টর জমিতে বোরো আবাদের লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হয়েছে। এর জন্য ৬৯৫ হেক্টর জমিতে কৃষকরা বীজতলা তৈরি করেছেন। আবহাওয়া অনুকূলে থাকলে লক্ষ্যমাত্রা অর্জনের পাশাপাশি কৃষকরাও লাভবান হবেন বলে তিনি আশাবাদ ব্যক্ত করেন।

উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা কৃষিবিদ মো. আবদুল ওয়াহেদ খান জানান, রবি মৌসুমে লক্ষ্যমাত্রা অর্জনের জন্য নিয়মিত কাজের পাশাপাশি বিভিন্ন কার্যক্রম পরিচালনা করা হচ্ছে। বৃহৎ এই মৌসুমে যেন সার, বীজ ও কীটনাশকের কৃত্রিম সংকট সৃষ্টি না হয়, সেজন্য নিয়মিত বিভিন্ন বাজার ও কৃষিপণ্য বিক্রির দোকান তদারকি বৃদ্ধি করা হয়েছে। ভ্রাম্যমাণ আদালত পরিচালনার মাধ্যমে অনিয়ম দূর করতে ব্যবস্থা গ্রহণ করা হয়েছে। এরইমধ্যে বেশ কিছু দোকানিকে জরিমানা করার পাশাপাশি সতর্ক করা হয়েছে। বোরো মৌসুম শেষ না হওয়া পর্যন্ত প্রয়োজনে এই কার্যক্রম অব্যাহত রাখা হবে বলেও তিনি জানান।

তিনি আরও বলেন, কোনো প্রাকৃতিক দুর্যোগের মুখে না পড়লে নকলা উপজেলায় উৎপাদিত বোরো ধান দিয়ে উপজেলার খাদ্য চাহিদা মিটিয়ে বরাবরের ন্যায় অন্যান্য জেলা ও উপজেলায় ধান ও চাল সরবরাহ করা সম্ভব হবে। কৃষি অফিসের সিটিজেন চার্টারের তথ্যানুযায়ী, নকলা উপজেলার ৩২ হাজার ৪৫টি কৃষি পরিবার ৭৬ হাজার ৯০০ একর আবাদি জমিতে কৃষি কাজ করেন। এর মধ্যে এক ফসলি জমি ২ হাজার ৭৫০ একর, দুই ফসলি জমি ২২ হাজার ৬০০ একর এবং তিন ফসলি জমি ৯ হাজার ৬৫০ একর। তবে উপজেলায় নীট ফসলি জমির পরিমাণ ৩৬ হাজার ২৫০ একর।

আরও পড়ুন -
  • সর্বশেষ
  • সর্বাধিক পঠিত