ঢাকা সোমবার, ০৫ জানুয়ারি ২০২৬, ২১ পৌষ ১৪৩২ | বেটা ভার্সন

সুন্দরবনে কাঁকড়া ধরায় দুই মাসের নিষেধাজ্ঞা

সুন্দরবনে কাঁকড়া ধরায় দুই মাসের নিষেধাজ্ঞা

প্রজনন মৌসুম শুরু হওয়ায় সুন্দরবনে কাঁকড়া ধরায় নিষেধাজ্ঞা শুরু হয়েছে। গত ১ জানুয়ারি থেকে ২ মাসের জন্য সুন্দরবনে কাঁকড়া আহরণ বন্ধ হয়েছে। জানুয়ারি ও ফেব্রুয়ারি এই দুই মাস কাঁকড়ার প্রজনন মৌসুম। এ সময় সুন্দরবনে কাঁকড়া ধরা নিষিদ্ধ।

সুন্দরবনের পূর্ব ও পশ্চিম এলাকা জুড়ে কাঁকড়া ধরা দুই মাসের জন্য নিষিদ্ধ ঘোষণা করেছে বন বিভাগ। চলতি বছরের গত ১ জানুয়ারি থেকে আগামী ফেব্রুয়ারি পর্যন্ত এ দুই মাস সুন্দরবন থেকে কাঁকড়া আহরণ, পরিবহন করা সম্পূর্ণ নিষেধ থাকবে। তাই সুন্দরবনের দুই বিভাগের নদী-খালে কাঁকড়ার প্রাকৃতিক প্রজনন নিশ্চিত করতে গত ১ জানুয়ারি বৃহস্পতিবার থেকে দুই মাসের জন্য কাঁকড়া ধরায় নিষেধাজ্ঞা জারি করেছে বন বিভাগ। নিষেধাজ্ঞা আগামী ২৮ ফেব্রুয়ারি পর্যন্ত বলবৎ থাকবে। চলতি এ দুই মাস শিলা কাঁকড়াসহ ১৪ প্রজাতির কাঁকড়া র প্রজনন হয় সুন্দরবনে।

এই সময়ে কাঁকড়ার প্রজনন নির্বিঘ্ন করতে বন বিভাগের পক্ষ থেকে এ উদ্যোগ গ্রহণ করা হয়েছে। বন বিভাগ সূত্র জানায়, বাংলাদেশে কাঁকড়ার চাহিদা না থাকলেও বিদেশে এর প্রচুর চাহিদা রয়েছে। বাংলাদেশ থেকে জীবন্ত কাঁকড়া দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়ার বিভিন্ন দেশে রপ্তানি করা হয়। নব্বই দশকের মাঝামাঝি প্রচলিত পণ্য হিসেবে সিঙ্গাপুর, তাইওয়ান, চিন, হংকং ও মালয়েশিয়ায় কাঁকড়া রপ্তানি শুরু হয়। তাই বিশ্বের বাণিজ্যিক বাজারে কাঁকড়া চাহিদা মিটাতে এবং সুন্দরবনে কাঁকড়ার প্রজনন নির্বিঘ্ন করতে প্রতি বছরের ন্যায় এবারও উদ্যোগ নিয়েছে বন বিভাগ। প্রতিবছর জানুয়ারি ও ফেব্রুয়ারি এ দুই মাস সুন্দরবনের নদী-খালে থাকা কাঁকড়ার ডিম হয়। সেই ডিম থেকে বাচ্চা ফুটে বের হয়। এ সময়ে কাঁকড়া অত্যন্ত সংবেদনশীল অবস্থায় থাকে। প্রতিবছরের মতো এবারও নিষেধাজ্ঞা আরোপ করা হয়েছে। এ সময় কাঁকড়া ধরার অনুমতিপত্র বন্ধ জেলেদের প্রবেশ নিসিদ্ধ করা হয়েছে। বন বিভাগের তথ্যানুযায়ী সুন্দরবনের সম্পদ আহরণের জন্য সুন্দরবন বন পূর্ব বিভাগ ও পশ্চিম বিভাগে নৌকার অনুমতিপত্র দেওয়া হয়, যার এক-তৃতীয়াংশ কাঁকড়া ধরার জন্য বরাদ্দ। প্রজনন মৌসুমে কাঁকড়া ধরার অনুমতি বন্ধ থাকবে। কিন্তু এই সময় মাছ ধরার ওপর কোনো নিষেধাজ্ঞা নেই। এই পদক্ষেপ কাঁকড়ার প্রাকৃতিক প্রজনন ও বংশবৃদ্ধি নিশ্চিত করতে এবং সুন্দরবনের জীববৈচিত্র্য রক্ষায় সহায়ক হবে বলে বন বিভাগ জানিয়েছে।

সুন্দরবন বন বিভাগের পশ্চিম বিভাগের বিভাগীয় বন কর্মকর্তা এজেডএম হাছানুর রহমান বলেন, জানুয়ারি-ফেব্রুয়ারি মাসে কাঁকড়া ডিম পাড়ে ডিমওয়ালা কাঁকড়ারা ক্ষুধার্ত থাকে, তাই সহজে ধরা যায়। এ সময় শিকার না করলে পরের বছর বেশি কাঁকড়া উৎপাদন করা সম্ভব। অসাধু কাঁকড় শিকারিদের ধরতে আমরা টহল জোরদার করেছি। কেউ নিষেধাজ্ঞা অমান্য করলে বন আইনের আওতায় এনে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া হবে। স্থানীয় জনগণ, জেলে ও ব্যবসায়ীদের নিষেধাজ্ঞা মেনে চলার আহ্বান জানানো হয়েছে বন বিভাগের পক্ষ থেকে।

আরও পড়ুন -
  • সর্বশেষ
  • সর্বাধিক পঠিত