ঢাকা সোমবার, ০৫ জানুয়ারি ২০২৬, ২১ পৌষ ১৪৩২ | বেটা ভার্সন

সরিষার ফলনে খুশি কৃষক

সরিষার ফলনে খুশি কৃষক

কুমিল্লার চান্দিনা উপজেলার মাইজখার ইউনিয়নের আলিকামোড়া গ্রামের দিগন্তজোড়া মাঠে এখন হলুদের সমারোহ। শীতের মিষ্টি রোদে চারদিকে ছড়িয়ে পড়ছে সরিষা ফুলের মন মাতানো ঘ্রাণ। এই হলদে আভার মাঝেই নিজের স্বপ্ন বুনছেন কৃষক রাকিবুল আলম মান্নান। এ বছর তিনি তার ২০ শতাংশ জমিতে উচ্চফলনশীল বারি-১৮ জাতের সরিষা চাষ করে এলাকায় ব্যাপক সাড়া ফেলেছেন। মাঠের চোখ ধাঁধানো ফলন দেখে শুধু রাকিবুল আলমই নন, আশপাশের কৃষকদের মাঝেও নতুন করে সরিষা চাষের আগ্রহ তৈরি হয়েছে। রাকিবুল আলম মান্নান জানান, ধান বা অন্যান্য রবি শস্যের তুলনায় সরিষা চাষ অনেক বেশি লাভজনক এবং ঝামেলামুক্ত। তিনি বলেন, ‘সরিষা চাষে লাভ বেশি কিন্তু খরচ অনেক কম। আমি এবার নামমাত্র খরচে এই বারি-১৮ জাতের সরিষা আবাদ করেছি। এখন মাঠে যে পরিমাণ ফলন দেখতে পাচ্ছি, তাতে আমি অত্যন্ত আনন্দিত। মনে হচ্ছে আমার দীর্ঘদিনের আশা-আকাঙ্ক্ষার সঠিক প্রতিফলন এবার ঘটবে।’ তার মতে, সরিষার অন্যতম বড় সুবিধা হল এতে অন্যান্য ফসলের মতো হাড়ভাঙা খাটুনি বা অতিরিক্ত পরিচর্যার প্রয়োজন হয় না। সঠিক সময়ে বীজ বপন আর সামান্য তদারকি করলেই ভালো ফলন পাওয়া সম্ভব। বিশেষ করে অল্প সময়ে অধিক মুনাফা অর্জনের জন্য সরিষার কোনো বিকল্প নেই বলে তিনি মনে করেন। রাকিবুলের এই অভাবনীয় সাফল্যের পেছনে বড় ভূমিকা পালন করেছে স্থানীয় কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের সঠিক দিকনির্দেশনা। মাইজখার ইউনিয়নের উপসহকারী কৃষি কর্মকর্তা জনাব জালাল উদ্দিন তাকে নিয়মিত পরামর্শ ও কারিগরি সহযোগিতা প্রদান করেছেন। উন্নত জাতের বীজ নির্বাচন থেকে শুরু করে সার প্রয়োগ ও পোকা দমনে জালাল উদ্দিনের নিবিড় পর্যবেক্ষণ রাকিবুলকে আত্মবিশ্বাসী করে তুলেছে। কৃষি কর্মকর্তাদের এমন আন্তরিকতা ও আধুনিক জাতের সরিষা চাষের প্রচারণার ফলে আলিকামোড়াসহ পার্শ্ববর্তী গ্রামগুলোতেও সরিষার আবাদ বাড়ছে। বারি-১৮ জাতের সরিষা মূলত এর উচ্চফলন এবং তেলের গুণগত মানের জন্য পরিচিত।

এই জাতের সরিষা চাষে রোগবালাইয়ের উপদ্রব কম হয় এবং এর জীবনকালও তুলনামূলক সংক্ষিপ্ত। ফলে সরিষা কাটার পর ওই জমিতে অনায়াসেই বোরো ধান চাষ করা যায়, যা কৃষকের ফসলের নিবিড়তা বৃদ্ধিতে সহায়তা করে। রাকিবুল আলম মান্নানের এই সাফল্য এখন স্থানীয় কৃষকদের জন্য এক উজ্জ্বল দৃষ্টান্ত। তার ২০ শতাংশ জমির এই হলুদ হাসি বলে দিচ্ছে, সঠিক জাত নির্বাচন এবং সামান্য তদারকি থাকলে কৃষিই হতে পারে স্বাবলম্বী হওয়ার প্রধান হাতিয়ার। ভোজ্য তেলের আমদানি নির্ভরতা কমাতে এবং স্থানীয় পর্যায়ে সরিষার তেলের চাহিদা মেটাতে রাকিবুলের মতো কৃষকদের এই উদ্যোগ গ্রামীণ অর্থনীতিতে এক নতুন প্রাণের সঞ্চার করেছে।

আরও পড়ুন -
  • সর্বশেষ
  • সর্বাধিক পঠিত