
ফেনীতে নিত্যদিনের সমস্যায় রূপ নিয়েছে আবাসিক গ্যাস সংকট। প্রতিদিনই সকাল থেকে নিভু নিভু গ্যাসে মারাত্মক সমস্যায় পড়তে হচ্ছে গৃহিনীদের। শহর থেকে গ্রাম কোথাও বাদ যাচ্ছে না এ সমস্যা। গ্রাহকরা আন্দোলনের হুমকি দিচ্ছে। বর্তমানে অনেক গ্রাহক বাধ্য হয়ে গ্যাসের পাশাপাশি বিকল্প হিসেবে সিলিন্ডার ও লাকড়ির চুলা ব্যবহার করছে। বাখরাবাদ গ্যাস কর্তৃপক্ষের মতে, এ সমস্যা শুধু ফেনী নয়, সারাদেশেই। জানুয়ারী মাস জুড়েই থাকবে গ্যাস সংকট। ফেনীতে আবাসিক/অনাবাসিক মিলে গ্যাসের চাহিদা রয়েছে ৫০ মিলিয়ন ঘনফুট, বরাদ্দ পাওয়া যায় ৩০ মিলিয়ন ঘনফুট, যা চাহিদার তুলনায় অর্ধেক। রান্নায় প্রয়োজনীয় গ্যাস না পেয়ে অনেক পরিবার খাবার ও নাস্তার জন্য হোটেল-রেস্তোরাঁর ওপর নির্ভরশীল হয়ে পড়েছে। গত কয়েকমাস ধরে বিশেষ শীতের মাস আসার পরপরই দেখা দিয়েছে এমন সমস্যা। এ বিষয়ে বাখরাবাদ গ্যাস অফিস থেকে কার্যত কোনো ব্যবস্থা না নেওয়ায় গ্রাহকদের মধ্যে ক্ষোভ ও অসন্তোষ দেখা দিয়েছে। স্বল্প সময়ের মধ্যে গ্যাসের সমস্যা সমাধান না হলে আন্দোলনেরও হুমকি দিচ্ছেন গ্রাহকরা।
তবে গ্যাস অফিস থেকে জানানো হয়েছে, চাহিদা অনুযায়ী গ্রাহকদের গ্যাস দিতে পুরাতন সঞ্চালন লাইনের পাশাপাশি নতুন একটি লাইন স্থাপন করা হচ্ছে। তবে জেলার চাহিদার তুলনায় গ্যাস প্রাপ্তি কম হওয়ায় সহসা এই সমস্যার সমাধান হচ্ছে না। তবে জানুয়ারী মাস শেষ হলে গ্রাহকদের এই সমস্য সমস্যা সমাধান হয়ে যাবে এবং ধীরে ধীরে সংকট কেটে যাবে।
জানা যায়, বাখরাবাদ গ্যাস ডিস্ট্রিবিউশন কার্যালয় ফেনীর আওতায় প্রায় ৩২ হাজার গ্রাহক রয়েছে। ফেনীর ৬ উপজেলায় এসব গ্রাহক নিরবচ্ছিন্ন গ্যাস সংযোগ পাওয়ার শর্তে নিয়মিত বিল পরিশোধ করে থাকেন। কিন্তু বিগত কয়েক মাস ফেনী শহর ও আশপাশের আবাসিক গ্রাহকরা নিয়মিত গ্যাস পাচ্ছেন না বলে অভিযোগ করছেন। অন্যদিকে আবাসিক গ্যাসের লাইনটি অনেক পুরাতন। দিনের শুরুতে বাণিজ্যিক গ্যাসের ব্যবহার শুরু হলে আবাসিক গ্যাসের চাপ কমে যাচ্ছে। তাছাড়া শীতের তীব্রতায় গ্যাসের ঘনত্ব বেড়ে যাওয়ায় বাসাবাড়িতে গ্যাসের চাপ কমে গেছে। এ লাইনে এখন গ্রাহকদের চাহিদা মত গ্যাস দেওয়া সম্ভব নয়।
তাদের দাবি, ফেনী শহরের পূর্ব উকিল পাড়া, পেট্টোবাংলা, বাঁশপাড়া, সহদেবপুর, আলোকদিয়া, শহরের পুরাতন পুলিশ কোয়ার্টার, রামপুর, বিরলী, রতনপুর, রাজাপুরসহ শহর ও আশপাশের প্রায় সব গ্রাহকই কমবেশি গ্যাস সমস্যায় রান্নার কাজে বিড়ম্বনার শিকার হচ্ছেন।
সুলতান আহম্মদ নামে এক গ্রাহক জানান, ভোরের সূর্য ওঠার সঙ্গে সঙ্গে কমতে থাকে গ্যাসের চাপ। একপর্যায়ে সকাল ৬টা থেকেই চাপ কমে গ্যাসের চুলা বন্ধ হয়ে যায়। দুপুরের দিকেও থাকে একই অবস্থা। রাতের প্রায় ১১টায় দেখা মিলে গ্যাসের। এতে গৃহিনীদের রান্না-বান্নায় চরম ভোগান্তি পোহাতে হচ্ছে। গ্রাহকদের দাবি, নিয়মিত বিল পরিশোধ করেও সময়মত গ্যাস সরবরাহ পাচ্ছেন না। সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের বারবার অবহিত করলে তারাও কোনো উদ্যোগ নিচ্ছেন না।
ফেনী শহরতলীর আলোকদিয়া গ্রামের গ্রাহক জসিম উদ্দিন বলেন, রাত ১১টার দিকে গ্যাস আসে আবার সকাল ৭টার দিকে চলে যায়। তাই সিলিন্ডার ব্যবহার করতে বাধ্য হয়েছি। এতে করে লাইনের গ্যাসের বিলও দিতে হচ্ছে আবার সিলিন্ডারও কিনতে হচ্ছে। ফেনী শহরের পুরাতন পুলিশ কোয়ার্টার এলাকার এক বাড়ির মালিক জানান, তার সাততলা বিল্ডিংয়ে ১৪টি গ্যাসের চুলা ব্যবহার করা হয়। প্রায় প্রতিদিনই গ্যাসের সমস্যা নিয়ে ভাড়াটিয়ারা অভিযোগ করছেন। বারবার গ্যাস অফিসে যোগাযোগ করেও কোনো ফল হচ্ছে না। এমতাবস্থায় ভাড়াটিয়ারা গ্যাসের বিল দিতে চাচ্ছে না।
ফেনীস্থ বাখরাবাদ গ্যাসের ব্যবস্থাপক এসএম জাহিদুল ইসলাম বলেন, শুধু ফেনীতে নয় সারাদেশেই আমাদের গ্যাসের সংকট রয়েছে। মুল কারণ হচ্ছে- চাহিদার তুলনায় সরবরাহ অনেক কম। আমাদের নিজস্ব যে গ্যাস অর্থাৎ দেশের যে গ্যাস এ গ্যাস আমাদের জন্য যথেষ্ট নয়। তাই আমাদের বিদেশ থেকে গ্যাস কিনে আনতে হয়। বর্তমানে কিনার পরিমাণও কম আবার গ্যাস বহনকারী জাহাজ কুয়াশার কারণে সমুদ্রের তীরে ভিড়তে পারে না। এই বিভিন্ন জটিলতা নিয়ে বর্তমানে গ্যাস সংকট বেশি। জানুয়ারী মাসটা একটু কষ্ট হবে, ধীরে ধীরে সংকট কমে যাবে।