
ঝিনাইদহ জেলা জুড়ে দিন দিন বেড়ে চলেছে মাটি খেকোদের দৌরাত্ম। জেলার বিভিন্ন এলাকায় সরেজমিনে ঘুরে দেখা যায়, বোরো মৌসুমের অল্প সময় বাকি। কৃষকদের বীজতলায় শোভা পাচ্ছে সবুজ ধানের চারা। সদ্য রোপা আমন ধান কেটে ঘরে তুলেছে কৃষক। খালি পড়ে আছে এসব জমি। আর এই সুযোগে কিছু অসাধু মাটি খেকো দানব কৃষি জমির টপ সয়েল কেটে নিয়ে ইট ভাটায় বিক্রি করছে। যার ফলে ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে কৃষি জমি, কমছে উৎপাদন ক্ষমতা। আর এসব মাটি বহনে ব্যবহার হচ্ছে অবৈধ ট্রলি যুক্ত ট্রাক্টর। উচ্চ শব্দে মাটি ভর্তি এসব গাড়ি অবাধে দাপিয়ে বেড়াচ্ছে সড়ক ও মহাসড়ক দিয়ে। মাটি ভর্তি এসব গাড়ি চলাচলের ফলে সড়কগুলো বেশ ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে। দিনের চেয়ে রাতের বেলায় বেশি সক্রিয় এসব মাটি খেকো ব্যবসায়ীরা।
পরিবেশ অধিদপ্তর ঝিনাইদহের সহকারী পরিচালক মোঃ মুন্তাছির রহমান বলেন, কৃষি জমির টপ সয়েল রক্ষায় পরিবেশ অধিদপ্তর, জেলা প্রশাসন ও প্রান্তিক কৃষকদের নিয়ে ইতিমধ্যেই একটি ওরিয়েন্টেশন করেছে। এবিষয়ে কৃষকদের সদিচ্ছা খুবই গুরুত্বপূর্ণ।কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তর ঝিনাইদহের উপ-পরিচালক কৃষিবিদ মো. কামরুজ্জামান জানান, কৃষি জমির সিংহভাগ পুষ্টি উপাদান থাকে টপ সয়েলে।
কিছু অসাধু ব্যক্তি টপ সয়েল কেটে নিয়ে যাচ্ছে। এতে জমির উর্বরতা হ্রাস পাচ্ছে। জমি হারাচ্ছে উৎপাদন ক্ষমতা। জমির টপ সয়েল রক্ষায় কৃষি বিভাগের পক্ষ থেকে কৃষকদের প্রতিনিয়ত সচেতন করা হচ্ছে।জেলা প্রশাসক আব্দুল্লাহ আল মাসউদ এ বিষয়ে বলেন, কৃষি জমির টপ সয়েল রক্ষায় সকল উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তাগণ কে নির্দেশনা দেয়া হয়েছে প্রয়োজনীয় আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ করতে।
ইতোমধ্যে বেশ কয়েকটি অভিযান করা হয়েছে। তথ্য পেলে সঙ্গে সঙ্গে ব্যবস্থা নেয়া হবে বলে জানান তিনি।