
শরীয়তপুরের জাজিরার বিলাসপুরে রাতের আঁধারে ককটেল বিস্ফোরণে পরিত্যক্ত বসতঘর উড়ে গিয়ে সোহান বেপারী নামের একজন নিহত ও দুই জন গুরুতর আহত হয়েছে। গুরুতর আহত একজনকে উন্নত চিকিৎসার জন্য ঢাকায় পাঠিয়েছে স্বজনরা। এদিকে এলাকার পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে অতিরিক্ত পুলিশ মোতায়েন করা হয়েছে। পুলিশ এলাকায় সন্দেহভাজনদের জিজ্ঞাসাবাদ করছে। বিস্ফোরণকে কেন্দ্র করে আশপাশের গ্রামও পুরুষ শূন্য হয়ে গিয়েছে। পুরো এলাকায় এখন আতঙ্ক বিরাজ করছে। ঘটনা তদন্তে সংশ্লিষ্ট এলাকায় পুলিশের ক্রাইম সিন কাজ করছে।
পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, গতকাল বৃহস্পতিবার ভোর ৪টার দিকে জাজিরা উপজেলার বিলাসপুর ইউনিয়নের মুলাই বেপারীকান্দি গ্রামের সাগর বেপারীর একটি নবনির্মিত ঘরের ভিতরে ককটেল বিস্ফোরণ ঘটে। বিস্ফোরণের বিকট শব্দে এলাকাবাসীর ঘুম ভাঙে। এলাকাবাসী গিয়ে দেখতে পায় ঘরের চাল ও বেড়া উড়ে গিয়ে আশপাশে ছড়িয়ে ছিটিয়ে রয়েছে। কিছুক্ষণ পরে তারা পাশর্^বর্তী একটি রসুন খেতে সোহান বেপারীর ক্ষতবিক্ষত লাশ দেখতে পেয়ে পুলিশকে খবর দেয়। সোহান বেপারী একই এলাকার দেলোয়ার বেপারীর ছেলে। পুলিশ লাশ উদ্ধার করে সুরতহাল শেষে ময়না তদন্তের জন্য শরীয়তপুর সদর হাসপাতালে পাঠায়। বিস্ফোরণের ঘটনায় জড়িত সন্দেহে পুলিশ কয়েকজনকে জিঞ্জাসাবাদ করেছে। তবে এখনও কোনো সুনির্দিষ্ট অভিযুক্তকে আটক করতে পারেনি। ক্রাইম সিন বিস্ফোরণের এলাকা ও বিষ্ফোরক দ্রব্যগুলো পর্যবেক্ষণ করছে।
ঘর মালিক সাগরের স্ত্রী শিল্পী বেগম বলেন, আমার স্বামী একজন সহজ সরল ভ্যান চালক। তিনি ভ্যান চালিয়ে এবং মানুষের সহযোগিতা নিয়ে কোনোরকম সংসার চালায়। আমাদের কোনো ঘর ছিল না। এনজিও থেকে লোন নিয়ে ঘরটি করেছি। এখনও ঘরে আমরা থাকতে শুরু করিনি। ঘরে কোনো মালামাল না থাকায় তালা দেওয়া হয়নি। ভোরে বোমার শব্দ পেয়ে ঘুম ভাঙলে এসে দেখি আমার ঘর আর ঘর নেই। কারা এখানে ছিল এবং কি ঘটেছে এ ব্যাপারে কিছুই জানি না। জাজিরা থানার ওসি সালেহ আহম্মেদ বলেন, গতকাল ভোর ৪টার দিকে বিলাসপুর ইউনিয়নের মুলাই বেপারীকান্দি গ্রামে ককটেল বিস্ফোরণে একটি বসত ঘর উড়ে গেছে। ঘটনাস্থলে গিয়ে পাশর্^বর্তী একটি রসুন খেতে সোহান বেপারীর লাশ উদ্ধার করে সুরতহাল করি। লাশ ময়নাতদন্তের জন্য শরীয়তপুর সদর হাসপাতালে পাঠানো হয়েছে। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে এলাকায় অতিরিক্ত পুলিশ মোতায়েন করা হয়েছে। পরবর্তী আইনগত বিষয়ে তৎপরতা চালিয়ে যাচ্ছি। এলাকার পরিস্থিতি এখন শান্ত রয়েছে।