
ব্রাহ্মণবাড়িয়ার নবীনগরে কৃষিকে লাভজনক ও টেকসই খাতে রূপান্তরের লক্ষ্যে উদ্যোক্তা কৃষকদের নিয়ে দুই দিনব্যাপী দক্ষতা উন্নয়ন প্রশিক্ষণ অনুষ্ঠিত হয়েছে। গত বুধ ও গতকাল বৃহস্পতিবার জানুয়ারি উপজেলা কৃষি অফিসের কনফারেন্স রুমে কুমিল্লা অঞ্চলের টেকসই কৃষি প্রযুক্তি সম্প্রসারণ প্রকল্পের অর্থায়নে এ প্রশিক্ষণের আয়োজন করা হয়। এতে নবীনগর উপজেলার ৩০ জন উদ্যমী ও আগ্রহী তরুণ কৃষক অংশগ্রহণ করেন।
প্রশিক্ষণে আধুনিক কৃষি প্রযুক্তির ব্যবহার, উৎপাদন ব্যয় কমানো এবং বাজারমুখী কৃষি ব্যবস্থা গড়ে তোলার ওপর গুরুত্বারোপ করা হয়। অংশগ্রহণকারী কৃষকদের আধুনিক চাষাবাদ পদ্ধতি, মানসম্মত বীজ ও সার ব্যবস্থাপনা, মাটি স্বাস্থ্য সংরক্ষণ, রোগবালাই দমন, স্মার্ট কৃষি প্রযুক্তি, ভ্যালু অ্যাডিশন, কৃষিপণ্য বিপণন কৌশল, মাশরুম চাষাবাদ, জৈবসার উৎপাদন এবং অসময়ের সবজি চাষাবাদ বিষয়ে হাতে-কলমে প্রশিক্ষণ দেওয়া হয়। প্রশিক্ষণ কার্যক্রম পরিচালনা করেন- ব্রাহ্মণবাড়িয়া জেলা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের উপ-পরিচালক ড. মোস্তফা এমরান হোসেন- উপজেলা কৃষি অফিসার মো. জাহাঙ্গীর আলম লিটন, সহকারী কৃষি সম্প্রসারণ অফিসার মো. শাহআলম মজুমদার এবং উপ-সহকারী উদ্ভিদ সংরক্ষণ অফিসার পরিমল চন্দ্র দত্ত।
এ সময় উপ-পরিচালক ড. মোস্তফা এমরান হোসেন বলেন, তরুণ কৃষকদের দক্ষতা বৃদ্ধি ছাড়া কৃষিতে টেকসই উন্নয়ন সম্ভব নয়। বর্তমান প্রতিযোগিতামূলক বাজারে টিকে থাকতে হলে আধুনিক জ্ঞান ও প্রযুক্তির ব্যবহার অপরিহার্য। এই প্রশিক্ষণের মাধ্যমে উদ্যোক্তা কৃষকরা নতুন প্রযুক্তি গ্রহণে আগ্রহী হবেন এবং কৃষিকে লাভজনক পেশা হিসেবে গড়ে তুলতে পারবেন। উপজেলা কৃষি জাহাঙ্গীর আলম লিটন জানান, ভবিষ্যতেও কৃষকদের দক্ষতা উন্নয়নে এ ধরনের প্রশিক্ষণ কার্যক্রম অব্যাহত থাকবে। উদ্যোক্তা কৃষকদের পছন্দ অনুযায়ী প্রদর্শনী উপকরণ ও সহায়তা প্রদান করা হবে, যাতে তারা আরও উৎসাহের সঙ্গে কৃষি কার্যক্রম পরিচালনা করতে পারেন। যা দেশের কৃষি অর্থনীতিকে শক্তিশালী করতে ভূমিকা রাখবে। দুই দিনব্যাপী প্রশিক্ষণে কৃষকদের জৈবসার উৎপাদন, কোকোডাস্টে চারা উৎপাদন এবং মাটি শোধন প্রক্রিয়া সরাসরি হাতে-কলমে দেখানো হয়। এ ধরনের উদ্যোগ নবীনগর উপজেলার কৃষকদের মধ্যে নতুন প্রাণচাঞ্চল্য সৃষ্টি করবে বলে আশা প্রকাশ করেন প্রশিক্ষণপ্রাপ্ত কৃষকরা।