
জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়ের অতিরিক্ত সচিব কাজী মুহাম্মদ মোজাম্মেল হক বলেছেন, অতীতে আমরা দেখেছি সরকার তার গণতান্ত্রিক অধিকার হারিয়ে ফ্যাসিবাদে পরিণত হয়েছিল। চব্বিশের আন্দোলনের অঙ্গীকার অনুযায়ী আমরা এ ব্যবস্থার পরিবর্তন চাই।
প্রধান উপদেষ্টা ঘোষণা দিয়েছেন আসন্ন জাতীয় নির্বাচন ও গণভোট ২০২৬ মিলিয়ে এমন একটি নির্বাচন অনুষ্ঠিত হবে, যা আগামী ১০০ বছর মানুষ স্মরণ রাখবে। এই নির্বাচনের মাধ্যমেই যে গতকাল শুক্রবার দুপুরে নারায়ণগঞ্জ সদর উপজেলা পরিষদের অডিটোরিয়ামে ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন ও গণভোট উপলক্ষে আয়োজিত উদ্বুদ্ধকরণ সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন। উদ্বুদ্ধকরণ সভায় সভাপতিত্ব করেন জেলা রিটার্নিং অফিসার ও জেলা প্রশাসক মো. রায়হান কবির।
অতিরিক্ত সচিব কাজী মুহাম্মদ মোজাম্মেল হক আরও বলেন, গত ১৫ বছর আমরা ভোটাধিকার প্রয়োগ করতে পারিনি। অনেকেই ভোট দেওয়ার অভ্যাস ভুলে গেছি। এই সময়ে যারা ভোটার হয়েছেন, তারাও ভোট দিতে পারেননি, এমনকি ভোটের প্রকৃত গুরুত্ব বোঝার সুযোগও পাননি। ভোট যেমন একটি অধিকার, তেমনি এটি একটি দায়িত্ব।
জনগণের প্রতিনিধিত্ব করার যে অধিকার রয়েছে, রাষ্ট্র সেই অধিকার দিতে বাধ্য। সেই অধিকার আমরা অবশ্যই প্রয়োগ করবো এবং কেউ তা হরণ করতে পারবে না। সরকার আমাদের সেই অধিকার দিয়েছে। একই সঙ্গে সঠিক প্রতিনিধি নির্বাচন করাও আমাদের দায়িত্ব- সুনাগরিক ও সচেতন নাগরিক হিসেবে।
তিনি বলেন, আমি যদি আমার দায়িত্ব পালন করতে ব্যর্থ হই এবং খারাপ ব্যক্তি প্রতিনিধি হিসেবে নির্বাচিত হন, তাহলে খারাপ শাসন প্রতিষ্ঠিত হবে। এর ফলে জনগণ ভোগান্তির শিকার হবে এবং সে দায় আমারও থাকবে।
নির্বাচন প্রসঙ্গে অতিরিক্ত সচিব বলেন, আমরা প্রত্যাশা করছি আগামী ১২ ফেব্রুয়ারি একটি সুন্দর, সুষ্ঠু ও উৎসবমুখর পরিবেশে সর্বস্তরের জনগণের অংশগ্রহণে নির্বাচন অনুষ্ঠিত হবে। এই নির্বাচন প্রজন্ম থেকে প্রজন্ম স্মরণ করবে। সদর উপজেলা সহকারী কমিশনার (ভূমি) সাদিয়া আক্তারের সঞ্চালনায় অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (সার্বিক) মো. আলমগীর হুসাইন, সদর উপজেলা নির্বাহী অফিসার এসএম ফয়েজ উদ্দিন, সদর উপজেলা প্রকৌশলী ইয়াসির আরাফাতসহ সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা। অনুষ্ঠানের শুরুতে নারায়ণগঞ্জ সদর উপজেলার জন্য ‘ভোট ইনফো হাব’ অ্যাপের উদ্বোধন করেন প্রধান অতিথি কাজী মুহাম্মদ মোজাম্মেল হক।