ঢাকা সোমবার, ১২ জানুয়ারি ২০২৬, ২৮ পৌষ ১৪৩২ | বেটা ভার্সন

বিএনপি-জামায়াতের সামনে বড় প্রতিপক্ষ আঞ্চলিক ভোট ব্যাংক

খাগড়াছড়ি
বিএনপি-জামায়াতের সামনে বড় প্রতিপক্ষ আঞ্চলিক ভোট ব্যাংক

ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে খাগড়াছড়ি ২৯৮নং আসনে এবার জাতীয় দলগুলোর প্রার্থীদের সামনে বড় চ্যালেঞ্জ হবে আঞ্চলিক অনিবন্ধিত সংগঠনগুলোর নিয়ন্ত্রিত এলাকার ভোট ব্যাংক। এখন পর্যন্ত মাঠ পর্যায়ের চিত্রে এমন আভাস মিলছে। বিশেষ করে পাহাড়ের প্রত্যন্ত এলাকার ভোটাররা এখন বড় নিয়ামক জয় নিশ্চিতে। নির্বাচনী আচরণ বিধি মোতাবেক তফসিল ঘোষণার পর আনুষ্ঠানিক প্রচারণা করার সুযোগ না থাকলেও নানা কৌশলে সমর্থন অর্জনে মাঠে কাজ করছেন প্রার্থী ও তাদের সমর্থকরা। তবে এখনও পর্যন্ত ভোটের মাঠে সুষ্ঠু পরিবেশ বিরাজ করছে। পার্বত্য তিন জেলার মধ্যে সবচেয়ে বেশি ভোটার সংখ্যা এ আসনে। জাতীয় ও স্থানীয় সব নির্বাচনে এখানে জাতীয় রাজনীতির পাশাপাশি বড় অবস্থান রাখা বিভিন্ন আঞ্চলিক দল। এছাড়া জাতিগত ও সাম্প্রদায়িক নানা হিসাব নিকেশ ভোটের সমীকরণে সামনে থাকে। এবারও তার ব্যতিক্রম নয়।

বিগত সময়ের জাতীয় নির্বাচনের তথ্য পর্যালোচনা করে দেখা যায়, খাগড়াছড়ি আসনে বিএনপি ২ বার, জাতীয় পার্টি ১ বার ও আ.লীগ ৫ বার জয় পেলেও আঞ্চলিক সংগঠন সমর্থিত বা স্বতন্ত কেউ জয় পায়নি। তবে স্থানীয় সরকারের বিভিন্ন নির্বাচনে সংখ্যাগরিষ্ঠভাবে আঞ্চলিক সমর্থনে স্বতন্ত্র প্রার্থীরা জয় ছিনিয়ে আনছে। অপূর্ণতার স্বাদ পূরণে এবার একাট্টা হয়েছে অনিবন্ধিত আঞ্চলিক সংগঠন গুলোর কয়েকটি। বিশেষ করে ইউনাইটেড পিপলস ডেমোক্রেটিক ফ্রন্ট (ইউপিডিএফ) এর দুই গ্রুপ ও পার্বত্য চট্টগ্রাম জনসংহতি সমিতি (জেএসএস) এবং তাদের সমর্থনপুষ্ট বিভিন্ন সামাজিক ও নাগরিক সমাজ ঐক্যবদ্ধ হয়েছে ত্রয়োদশ নির্বাচন ঘিরে। এরইমধ্যে একক স্বতন্ত্র প্রার্থী হিসেবে দীঘিনালা উপজেলার সাবেক চেয়ারম্যান ধর্মজ্যোতি চাকমাকে সমর্থন দেওয়া হয়েছে।

মনোনয়ন বাতিল হওয়া স্বতন্ত্র প্রার্থী লাব্রেচাই মারমা বলেন, পাহাড়ি জাতিগোষ্ঠীর অধিকার নিয়ে কাজ করার লক্ষ্যে ধর্ম জ্যোতি চাকমাকে নাগরিক সমাজের সমর্থন দেওয়ায় তিনি মনোনয়ন বাতিলের পর আবেদন করেননি। একক প্রার্থীর পক্ষে সমর্থন রয়েছে বলেও জানান তিনি। এ দিকে পার্বত্য চট্টগ্রাম জনসংহতি সমিতি কেন্দ্রীয় কমিটির যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক সুদর্শন চাকমা বলেন, জাতীয় রাজনৈতিক দলগুলো সরকারে যেতে একরূপ এবং সরকারে গিয়ে অন্য রূপ দেখিয়েছে পাহাড়ি জনগোষ্ঠীর সঙ্গে। সেখানে এবার পাহাড়ি জনগোষ্ঠীরা জাতীয় দলের প্রতি আর বিশ্বাস রাখতে পারছে না। জনগণের আশার প্রতি আস্থা রাখতে হবে।

জামায়াতে ইসলামীর প্রার্থী এয়াকুব আলী বলেন, ২০২৫ সালের মার্চ থেকে দলীয়ভাবে মনোনয়ন পেয়ে তিনি কাজ করছেন। মাঠ পর্যায়ে পাহাড়ি বাঙালি সকলের ভালো সাড়া মিলছে। সুষ্ঠুভাবে ভোট অনুষ্ঠিত হলে জয়ের ব্যাপারে আশাবাদি তিনি। বিএনপি প্রার্থী ওয়াদুদ ভূইয়া বলেন, অতীতে তিনি সংসদ সদস্য হিসেবে দায়িত্ব পালন করার সময় পাহাড়ি বাঙালি সকল সম্প্রদায়ের উন্নয়নে কাজ করেছেন। বিগত ফ্যাসিস্ট সরকারের মেয়াদে তিনি কোনো নির্বাচনে অংশ নিতে পারেননি। আগামী ১২ ফেব্রুয়ারির নির্বাচন ঘিরে তিনি মাঠে ব্যাপক উৎসাহ দেখছেন। জয়ের ব্যাপারে তিনি আশাবাদ ব্যক্ত করে আরও বলেন, নির্বাচিত হতে পারলে তিনি পাহাড়ের মানুষের জন্য বৈষম্যহীন উন্নয়ন করবেন।

আরও পড়ুন -
  • সর্বশেষ
  • সর্বাধিক পঠিত