
প্রতি বছরের ন্যায় যেন প্রকৃতির ডাকে সারা দিয়ে নতুন কোনো শীতের ভিন্ন আমেজ এসে গেছে। তারই ধারাবাহিকতায় শুরু হয়েছে খেজুর রস সংগ্রহের প্রস্তুতি। আমতলী উপজেলায় বিভিন্ন এলাকায় গাছিদের ব্যস্ততা এখন তুঙ্গে। চাষীরা চরম ব্যস্ততার মধ্যে শ্রমবিনিয়োগ করছেন।
গত রোববার আমতলী উপজেলা ঘুরে দেখে গেছে, পজেলার, গুলিশাখালী, কুকুয়া, চাওড়া, হলদিয়া, আঠারোগাছিয়া, আমতলী ও আরপাংগাশিয়ার ৭ ইউনিয়নেই, খেজুর গাছ নেই বলতে গেলেই চলে। কিছু গাছ রয়েছে তাও অনেক জায়গাতেই চাষীরা চাষ করছে না। অল্প সংখ্যক গাছ রয়েছে। এতে কিছু চাষীরা রস প্রস্তুত করছেন।
কালের বিবর্তনে একবারে বিলিনও হতে পারে খেজুর গাছগুলো। বর্তমানে চলছে গাছ ঝাড়া, পরিষ্কার এবং নল বসানোর কাজ। কয়েকদিন পর শীতের তীব্রতা বাড়লে শুরু হবে খেজুর গাছের বুক চিরে সুস্বাদু রস আহরণের মৌসুম।
যেসব এলাকায় বেশি খেজুর গাছ রয়েছে, সেখানে এরমধ্যে গাছিদের অস্থায়ী ঘাঁটি স্থাপন করা হয়েছে। রস থেকে গুড় তৈরির জন্য আগেভাগেই সংগ্রহ করা হচ্ছে বিকল্প জ্বালানি।
এ বিষয় উপজেলা কৃষি অফিসার জানিয়েছেন, আমতলী উপজেলার বিভিন্ন এলাকায় বিচ্ছিন্নভাবে প্রায় ৩০ হেক্টর জমিতে খেজুর গাছ রয়েছে।
গ্রামের বাড়ির উঠান, রাস্তার ধারে কিংবা ফসলের মাঠের পাশে মাঝেমধ্যেই দুএকটি করে খেজুর গাছ চোখে পড়ে, যা এখনও গ্রামীণ জীবনের ঐতিহ্য বহন করে চলছে। আস্তে আস্তে খেজুর গাছ বিলীন হতে চলছে এবং চাষীরাও খেজুর গুড় প্রস্তুত না করতে পেরে হতাশ হয়ে পরেছে।
আমতলী উপজেলার গুলিশাখালী ইউনিয়নের কলাগাছিয়া গ্রামের খলিল প্যাদা বলেন, আমতলী উপজেলার আরপাংগাশিয়া ও আশপাশের এলাকায় যেখানে খেজুর গাছ বেশি, মৌসুমে সেখানে যাই।
মালিকদের কাছ থেকে মৌসুমের জন্য গাছ কিনে নিই। পরে আমার লোকজন দিয়ে রস সংগ্রহ ও বিক্রি করি। বাবুল ঘরামি বলেন, গাছের সংখ্যা কমে যাওয়া এবং তরুণ প্রজন্মের কৃষি কাজে অনাগ্রহের কারণে গাছির সংখ্যা দিন দিন হ্রাস পাচ্ছে। ফলে অনেক গাছই অব্যবহৃত থেকে যাচ্ছে।
গুলিশাখালী ইউনিয়নের খেকুয়ানী গ্রামের চাষী জয়নাল বলেন, বর্তমান প্রজন্মে খেজুর গাছ চাষিরদের চাষের উদ্যোগ নেই বলতে গেলেই চলে। আগের মত গাছিদের চাষে মনোযোগী নেই। তারা সবাই শহরমুখী, পড়াশোনা ও চাকরিতে ব্যস্ত। সরকার যদি প্রশিক্ষণ ও প্রণোদনা দিত, তাহলে নতুন গাছি তৈরি হতো এবং গ্রামীণ অর্থনীতি আরও শক্তিশালী হয়ে উঠত।
আমতলী উপজেলা কৃষি অফিসার মো. রাসেল মিয়া বলেন, প্রকৃতির ভারসাম্য রক্ষায় খেজুর গাছের ভূমিকা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। এটি গ্রামের বসবাসরত মানব জাতির অন্যতম খাবার। এ খেজুর রস ও গুড় ঐতিহ্যবাহি বলতে হয়।
তিনি আরও বলেন, বর্তমানে আমতলী উপজেলায় উল্লেখযোগ্য সংখ্যক খেজুর গাছ চোখে পড়ে না। তবে এখনও যে গাছগুলো রয়েছে, সেগুলোর যথাযথ পরিচর্যা ও নতুন করে বীজ বপনের উদ্যোগ নেওয়া হলে রস আহরণ ও গুড় উৎপাদনের পরিমাণ উল্লেখযোগ্যভাবে বাড়ানো সম্ভব। খেজুর গাছের বিষয়টিকে আরও বেশি গুরুত্ব দিয়ে দেখব।