ঢাকা মঙ্গলবার, ১৩ জানুয়ারি ২০২৬, ২৯ পৌষ ১৪৩২ | বেটা ভার্সন

জাজিরায় যৌথ বাহিনীর অভিযানে ককটেল ও দেশীয় অস্ত্র উদ্ধার

জাজিরায় যৌথ বাহিনীর অভিযানে ককটেল ও দেশীয় অস্ত্র উদ্ধার

শরীয়তপুরের জাজিরার বহুল আলোচিত বিলাসপুরে যৌথ বাহিনী ডগ স্কোয়াডসহ অভিযান পরিচালনা করে বিপুল পরিমাণ দেশীয় অস্ত্র-শস্ত্র, ককটেল বোমা ও বোমা তৈরির সরঞ্জাম উদ্ধার করা হয়েছে।

গতকাল সোমবার ভোর চারটা থেকে জাজিরার বিলাসপুর ও পার্শ্ববর্তী নড়িয়ার রাজনগর ইউনিয়নের মুলাই বেপারী এবং চেরাগ আলী বেপারি কান্দিসহ বিভিন্ন স্থানে অভিযান চালিয়ে ৪৫টি ককটেল, ককটেল বানানোর সরঞ্জাম ও দেশীয় অস্ত্র-শস্ত্র উদ্ধার করে যৌথ বাহিনী।

এ সময় বিলাসপুরের মুলাই বেপারি কান্দির বাবুল বেপরীর বাড়ির পশ্চিম পার্শ্বে মজিদ বেপারির বাড়ির বাঁশঝারে ১২টি, নুরুজ্জামান বেপারীর বাড়ির পশ্চিম পার্শ্বে বসতঘরের বাহিরের কানায় ১২টি, শামচুল বেপারীর বাড়ির পার্শ্বে বাঁশঝার থেকে ১২টি ও চেরাগ আলী বেপারি কান্দির শাজাহান ছৈয়ালের বাড়ির পার্শ্বে ৯টি ককটেল উদ্ধার করা হয়।

যেগুলো পরবর্তী সংঘর্ষের পস্তুতি হিসেবে প্লাস্টিকের বালতিতে করে রেখে দেওয়া ছিলো। উক্ত অভিযানে প্রায় ৫০-৬০ জন পুলিশ সদস্যের পাশাপাশি শতাধিক সেনা সদস্য অংশগ্রহণ করেন।

এছাড়াও অভিযানে বিপুল পরিমাণ ককটেল বোমা তৈরির সরঞ্জাম, দেশীয় অস্ত্র-শস্ত্র এবং একটি খেলনা ড্রোন উদ্ধার করা হয়। উক্ত অভিযানে তিনজন মহিলা ও একজন পুরুষকে প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদের জন্য আটক করা হয়েছে। উদ্ধারকৃত ককটেল বোমা ও ককটেল বোমা তৈরির সরঞ্জাম পরবর্তীতে বোম ডিসপোজাল ইউনিটের মাধ্যমে ডিসপোজ করা হবে এবং দেশীয় অস্ত্র-শস্ত্রসহ অন্যান্য সরঞ্জাম সংরক্ষণ করে রাখার জন্য নিয়ে যাওয়া হয়েছে।

অভিযান শেষে বিলাসপুর কুদ্দুস বেপারী উচ্চ বিদ্যালয়ের মাঠে একটি প্রেস ব্রিফিংয়ের মাধ্যমে শরীয়তপুর জেলার অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (এএসপি) ক্রাইম এন্ড অবস তানভীর হোসেন গণমাধ্যমকর্মীদের এসব তথ্য নিশ্চিত করেন।

উক্ত অভিযানে জাজিরা ক্যান্টনমেন্টের বিভিন্ন পর্যায়ের সেনা অফিসার ও শরীয়তপুর জেলা পুলিশের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (এএসপি) অর্থ ও প্রশাসন শরিফ উজ জামানসহ বিভিন্ন কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন। এ সময় তারা বিলাসপুরের সার্বিক পরিস্থিতি স্থিতিশীল রাখার স্বার্থে প্রয়োজনীয় যেকোনো পদক্ষেপ গ্রহণ করতে প্রস্তুত রয়েছে বলে জানায়।

উল্লেখ্য বিলাসপুরে যুগ-যুগ ধরে আধিপত্য বিস্তারকে কেন্দ্র করে বিরোধ চলে আসছে। তারই ধারাবাহিকতায় গত ৮ জানুয়ারি বৃহস্পতিবার ভোরে নির্জন একটি ঘরের মধ্যে ককটেল বিস্ফোরণে তাৎক্ষণিক একজন ও পরে চিকিৎসাধীন অবস্থায় আরেকজন মারা যায়।

উক্ত ঘটনায় জাজিরা থানার পুলিশের উপ-পরিদর্শক (এসআই) আবুল কালাম আজাদ বাদী হয়ে বিবাদমান ৩৯টি গ্রুপের ৫৩ জনের নাম উল্লেখপূর্বক আরও অজ্ঞাত ১৪০-১৫০ জন আসামি দিয়ে একটি মামলা দায়ের করেন।

আরও পড়ুন -
  • সর্বশেষ
  • সর্বাধিক পঠিত