ঢাকা শুক্রবার, ১৩ মার্চ ২০২৬, ২৮ ফাল্গুন ১৪৩২ | বেটা ভার্সন

চান্দিনায় ভুট্টার বাম্পার ফলনের সম্ভাবনা

চান্দিনায় ভুট্টার বাম্পার ফলনের সম্ভাবনা

চান্দিনার দিগন্তজোড়া ফসলি মাঠে এখন সবুজের সমারোহ। যেদিকে চোখ যায়, সেদিকেই বাতাসে দুলছে পুষ্ট ও সতেজ ভুট্টার চারা।

কুমিল্লার চান্দিনা উপজেলায় চলতি মৌসুমে ভুট্টার রেকর্ড পরিমাণ ফলনের সম্ভাবনা দেখা দিয়েছে। অনুকূল আবহাওয়া আর কৃষি অফিসের নিবিড় তত্ত্বাবধানে কৃষকদের মুখে এখন তৃপ্তির হাসি। ধান বা অন্যান্য ফসলের তুলনায় স্বল্প খরচে অধিক মুনাফা লাভের আশায় এ অঞ্চলের চাষিরা এখন ব্যাপকভাবে ভুট্টা চাষের দিকে ঝুঁকছেন।

চান্দিনা উপজেলা কৃষি অফিসের সাম্প্রতিক তথ্য বিশ্লেষণ করলে দেখা যায়, এবার উপজেলায় মোট ৬৮৫ হেক্টর জমিতে ভুট্টার চাষ করা হয়েছে। কৃষি কর্মকর্তাদের অক্লান্ত পরিশ্রম এবং মাঠ পর্যায়ে কৃষকদের আধুনিক চাষাবাদ পদ্ধতির প্রশিক্ষণ দেওয়ার ফলে ভুট্টার ফলন বিগত বছরগুলোর তুলনায় অনেক ভালো হবে বলে আশা করা হচ্ছে। উপজেলা কৃষি অফিসার ব্যক্তিগতভাবে মাঠ পরিদর্শন করে চাষিদের প্রয়োজনীয় পরামর্শ ও সার্বিক সহযোগিতা প্রদান করছেন, যা কৃষকদের মনোবল বাড়িয়ে দিয়েছে কয়েক গুণ।

উপজেলার মেহার গ্রামের চিত্রটি আরও আশাব্যঞ্জক। ওই গ্রামের পরিশ্রমী চাষি বাবুল মিয়া এবার ১২ শতক জমিতে ভুট্টার আবাদ করেছেন। তার ক্ষেতের ভুট্টার চারাগুলোর সতেজতা আর বাড়বাড়ন্ত দেখে আশপাশের চাষিরাও মুগ্ধ। বাবুল মিয়ার মতে, ভুট্টা চাষে শ্রম ও সেচ খরচ তুলনামূলক অনেক কম, অথচ বাজারে এর চাহিদা ও দাম বেশ ভালো।

পোকাণ্ডমাকড়ের উপদ্রব কম হওয়ায় বাড়তি কীটনাশকের খরচও বেঁচে যায়, যা দিনশেষে লাভের অঙ্কটা বড় করে তোলে। তবে উদ্ভাবনী চাষাবাদের এক অনন্য দৃষ্টান্ত স্থাপন করেছেন একই গ্রামের কৃষক ইসমাইল হোসেন।

তিনি শুধু প্রথাগতভাবে ভুট্টা চাষেই সীমাবদ্ধ থাকেননি, বরং জমির সর্বোচ্চ ব্যবহার নিশ্চিত করতে ভুট্টার সঙ্গে সাথী ফসল হিসেবে ধনিয়ার চাষ করেছিলেন।

ইসমাইল হোসেন তার অভিজ্ঞতার কথা জানিয়ে বলেন যে, একই জমিতে ভুট্টার পাশাপাশি ধনিয়া চাষ করায় তাকে বাড়তি কোনো সার বা বিশেষ পরিচর্যা করতে হয়নি। ফলস্বরূপ, ভুট্টার মূল ফলন ঘরে তোলার আগেই তিনি ক্ষেতের ধনিয়া তুলে বাজারে বিক্রি করে ফেলেছেন।

এই বাড়তি আয়ে তার চাষের প্রাথমিক খরচ উঠে এসেছে। বর্তমানে তার ক্ষেতে শুধুমাত্র ভুট্টা রয়েছে এবং গাছের স্বাস্থ্য দেখে তিনি বাম্পার ফলনের ব্যাপারে শতভাগ নিশ্চিত। চান্দিনার কৃষকদের এই সাফল্যে স্থানীয় বাজারেও ইতিবাচক প্রভাব পড়ছে।

পশু খাদ্যের কাঁচামাল হিসেবে ভুট্টার ব্যাপক চাহিদা থাকায় কৃষকদের বিক্রির দুশ্চিন্তা করতে হয় না। পাইকারি ব্যবসায়ীরা মাঠ থেকেই ভুট্টা কিনে নেওয়ার আগ্রহ দেখাচ্ছেন।

আধুনিক কৃষি প্রযুক্তির প্রসার এবং সাথী ফসল চাষের প্রতি কৃষকদের এই আগ্রহ চান্দিনার কৃষি অর্থনীতিতে এক নতুন দিগন্তের উন্মোচন করেছে। সরকারি সহায়তা এবং সঠিক বাজারজাতকরণ ব্যবস্থা নিশ্চিত করা গেলে আগামীতে এই উপজেলায় ভুট্টার চাষ আরও কয়েক গুণ বাড়বে বলে সংশ্লিষ্টরা মনে করছেন। এখন শুধু সোনালি দানার অপেক্ষায় প্রহর গুণছেন চান্দিনার কয়েক হাজার কৃষক।

আরও পড়ুন -
  • সর্বশেষ
  • সর্বাধিক পঠিত