ঢাকা বৃহস্পতিবার, ০৫ মার্চ ২০২৬, ২০ ফাল্গুন ১৪৩২ | বেটা ভার্সন

ময়মনসিংহে ৫৮৩ ভোটকেন্দ্র ঝুঁকিপূর্ণ

ময়মনসিংহে ৫৮৩ ভোটকেন্দ্র ঝুঁকিপূর্ণ

আসন্ন ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনকে সামনে রেখে ময়মনসিংহের ১১টি সংসদীয় আসনে জমে উঠেছে রাজনৈতিক তৎপরতা। বিএনপি, জামায়াত ও বিদ্রোহী প্রার্থীদের ত্রিমুখী প্রতিদ্বন্দ্বিতার সম্ভাবনার মধ্যেই জেলার ভোটকেন্দ্রগুলোর নিরাপত্তা নিয়ে বাড়ছে উদ্বেগ। জেলা প্রশাসন ও পুলিশ বিভাগের তথ্য মতে, ময়মনসিংহ জেলায় মোট ১৩৬৫টি ভোটকেন্দ্রের মধ্যে ৫৮৩টিকে ‘ঝুঁকিপূর্ণ’ হিসেবে চিহ্নিত করা হয়েছে। বাকি ৭৮২টি কেন্দ্র সাধারণ হিসেবে বিবেচিত। অর্থাৎ জেলার প্রায় ৪৩ শতাংশ কেন্দ্রেই বাড়তি নজরদারি ও বিশেষ নিরাপত্তা ব্যবস্থার প্রয়োজন হবে। গোয়েন্দা তথ্য ও মাঠপর্যায়ের বিশ্লেষণে দেখা গেছে, সবচেয়ে বেশি ঝুঁকিপূর্ণ কেন্দ্র রয়েছে ত্রিশাল ও ভালুকা উপজেলায়, উভয় উপজেলায় ৭২টি করে কেন্দ্র।

এছাড়া ময়মনসিংহ সদর (ময়মনসিংহ-৪) এলাকায় ৬৫টি, পাগলা থানায় ৫৮টি, ফুলবাড়িয়ায় ৫০টি, ঈশ্বরগঞ্জে ৪৭টি, নান্দাইলে ৪৩টি এবং গৌরীপুরে ৪২টি কেন্দ্র ঝুঁকিপূর্ণ তালিকায় রয়েছে। তুলনামূলক কম ঝুঁকিপূর্ণ কেন্দ্র রয়েছে হালুয়াঘাট (২০), ধোবাউড়া (২৫), ফুলপুর (১৯), তারাকান্দা (২৯), মুক্তাগাছা (১৯) ও গফরগাঁও (২২) উপজেলায়। ঝুঁকিপূর্ণ কেন্দ্রগুলোর মধ্যে উল্লেখযোগ্য কয়েকটি হলো, ময়মনসিংহ সদর এলাকার সিরতা উচ্চ বিদ্যালয় অ্যান্ড কলেজ, চরখরিচা উচ্চ বিদ্যালয়, সানাদিয়া সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়, পরানগঞ্জ সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়, বোরর চর উচ্চ বিদ্যালয় ও বিদ্যাগঞ্জ রানী রাজবালা উচ্চ বিদ্যালয়।

এছাড়া মুক্তাগাছার চেচুয়া উচ্চ বিদ্যালয়, গাবতলী উচ্চ বিদ্যালয়, নরকোণা সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়; ত্রিশালের রুদ্রগ্রাম ও বৈলর কানহর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়; ভালুকার ভালুকা পাইলট উচ্চ বিদ্যালয় ও সরকারি বালিকা উচ্চ বিদ্যালয়; গফরগাঁওয়ের চারিপাড়া সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় ও চর মসলন্দ জিরাতি পাড়া দাখিল মাদ্রাসাসহ একাধিক কেন্দ্রে বাড়তি নিরাপত্তা জোরদারের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।

মুক্তাগাছার চেচুয়া উচ্চ বিদ্যালয়ের সদ্য সাবেক প্রধান শিক্ষক আব্দুল আওয়াল বলেন, গত ২০ বছরের নির্বাচনি অভিজ্ঞতায় এই কেন্দ্রে একাধিকবার সহিংসতার ঘটনা ঘটেছে। প্রভাবশালীরা কেন্দ্র দখলের চেষ্টা করেছে, হামলার ঘটনাও ঘটেছে। এসব কারণেই কেন্দ্রটি ঝুঁকিপূর্ণ। ময়মনসিংহ সদর এলাকার বোরর চর উচ্চ বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক আবুল কাশেম জানান, চরাঞ্চলের ভৌগোলিক অবস্থান ও যোগাযোগ সীমাবদ্ধতার কারণে ভোটের দিন উত্তেজনা তৈরি হয়। বিগত কয়েকটি নির্বাচনে আধিপত্য বিস্তারকে কেন্দ্র করে অনাকাঙ্ক্ষিত পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়েছে। ভোটারদের নিরাপত্তা নিশ্চিতে এরইমধ্যে কেন্দ্রে আটটি সিসি ক্যামেরা স্থাপন করা হয়েছে। জেলা রিটার্নিং কর্মকর্তা সাইফুর রহমান জানান, ঝুঁকিপূর্ণ কেন্দ্রগুলোতে অতিরিক্ত পুলিশ, র‌্যাব ও আনসার সদস্য মোতায়েন থাকবে। দায়িত্বপ্রাপ্ত পুলিশ সদস্যদের বডি ওর্ন ক্যামেরা ব্যবহার নিশ্চিত করা হবে। যেকোনো সহিংস পরিস্থিতি মোকাবিলায় কুইক রেসপন্স টিম প্রস্তুত থাকবে। অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (প্রশাসন ও অর্থ) আবদুল্লাহ আল মামুন বলেন, গোয়েন্দা তথ্য ও পূর্ববর্তী নির্বাচনের অভিজ্ঞতার ভিত্তিতে ঝুঁকিপূর্ণ কেন্দ্র নির্ধারণ করা হয়েছে। ভোটের দিন স্ট্রাইকিং ফোর্স হিসেবে বিজিবি ও সেনাবাহিনীর টহল থাকবে। কোনো ধরনের বিশৃঙ্খলা বা পেশিশক্তি ব্যবহারের চেষ্টা কঠোরভাবে দমন করা হবে।

আরও পড়ুন -
  • সর্বশেষ
  • সর্বাধিক পঠিত