ঢাকা রোববার, ১৫ মার্চ ২০২৬, ১ চৈত্র ১৪৩২ | বেটা ভার্সন

পালংশাকের ফলন ও দামে খুশি কৃষক

পালংশাকের ফলন ও দামে খুশি কৃষক

চান্দিনার মেহার গ্রামের সবুজ প্রান্তরে এখন সবুজের সমারোহ। বিস্তীর্ণ মাঠের এককোণে ১২ শতাংশ জমিতে লকলকিয়ে বাড়ছে পালং শাক। সেই গাঢ় সবুজ পাতার দিকে তাকিয়ে আত্মতৃপ্তির হাসি হাসছেন কৃষক শাহজালাল। তার এই হাসির নেপথ্যে রয়েছে কঠোর পরিশ্রম আর সঠিক সময়ে সঠিক ফসল নির্বাচনের বুদ্ধিমত্তা। কৃষিকে শুধু জীবনধারণের উপায় নয়, বরং লাভজনক ব্যবসায় পরিণত করার এক উজ্জ্বল দৃষ্টান্ত স্থাপন করেছেন তিনি। অল্প সময়ে এবং নামমাত্র খরচে কীভাবে ভাগ্যের চাকা ঘোরানো যায়, শাহজালালের পালংশাক চাষ যেন সেই গল্পেরই এক জীবন্ত প্রতিচ্ছবি। শীতের আমেজ শেষ হতে না হতেই মেহার গ্রামের এই কৃষক তার ১২ শতাংশ জমিতে পালং শাকের বীজ বপন করেছিলেন। জমি তৈরি থেকে শুরু করে বীজ কেনা এবং সার-সেচ বাবদ তার খরচ হয়েছে- মাত্র দুই থেকে তিন হাজার টাকা।

বর্তমানে মাঠের যে অবস্থা, তাতে ফলন দেখে শাহজালাল অত্যন্ত আশাবাদী। তিনি জানান, আর মাত্র কয়েক দিনের অপেক্ষা। এরপরই শুরু হবে ফসল সংগ্রহ ও বাজারে বিক্রির ধুম। বর্তমান বাজার দর অনুযায়ী প্রতি কেজি পালংশাক ১৫ থেকে ২০ টাকা দরে বিক্রি করতে পারবেন বলে তিনি আশা করছেন। এতে করে বিনিয়োগের তুলনায় কয়েকগুণ বেশি মুনাফা অর্জনের সম্ভাবনা তৈরি হয়েছে, যা তার চোখেমুখে আনন্দের ঝিলিক ফুটিয়ে তুলেছে। শাহজালালের এই সাফল্যের মূলে রয়েছে স্বল্পমেয়াদি ফসল নির্বাচনের কৌশল। প্রথাগত দীর্ঘমেয়াদি ফসলের পরিবর্তে তিনি বেছে নিয়েছেন এমন এক সবজি, যা খুব দ্রুত ঘরে তোলা যায়।

তিনি অভিজ্ঞতার আলোকে জানান, পালংশাক চাষের সবচেয়ে বড় সুবিধা হলো এর স্বল্প জীবনকাল। বীজ বোনার অল্প কিছুদিনের মধ্যেই এই শাক বিক্রির উপযোগী হয়ে ওঠে। এতে করে জমি দীর্ঘসময় আটকে থাকে না। শাহজালাল পরিকল্পনা করেছেন, পালংশাক তোলা শেষ হওয়ার পরপরই তিনি ওই একই জমিতে অন্য কোনো নতুন ফসল চাষ করবেন। একই জমিতে বছরে বারবার ফসল ফলানোর এই পদ্ধতি তাকে অর্থনৈতিকভাবে স্বাবলম্বী করে তুলছে। চান্দিনা এলাকার কৃষি অর্থনীতিতে শাহজালালের এই উদ্যোগ একটি ইতিবাচক বার্তা দিচ্ছে।

সাধারণত অনেক কৃষকই দীর্ঘমেয়াদি ফসলের পেছনে শ্রম ও সময় ব্যয় করে কাঙ্ক্ষিত মুনাফা পান না। কিন্তু শাহজালাল প্রমাণ করেছেন যে, আধুনিক ও বুদ্ধিদীপ্ত কৃষি ভাবনা থাকলে অল্প জমিতেও বাজিমাত করা সম্ভব। স্বল্পমেয়াদি সবজি চাষের মাধ্যমে তিনি শুধু নিজের ভাগ্যবদল করছেন না, বরং এলাকার অন্যান্য কৃষকদের জন্যও অনুপ্রেরণা হয়ে দাঁড়িয়েছেন। তার মতে, কম সময়ে অধিক লাভ করতে হলে কৃষকদের উচিত বাজার বুঝে এবং সময়োপযোগী স্বল্পমেয়াদি সবজি চাষে মন দেওয়া।

এতে ঝুঁকি কম থাকে এবং নগদ অর্থের প্রবাহ সচল থাকে। মেহার গ্রামের এই নিভৃত পল্লির মাঠে দাঁড়িয়ে যখন শাহজালাল তার আগামীর স্বপ্নের কথা বলেন, তখন বোঝা যায় বাংলাদেশের কৃষির ভবিষ্যৎ কতটা উজ্জ্বল।

তিনি বিশ্বাস করেন, সঠিক যত্ন আর ভালোবাসায় মাটিকে আগলে রাখলে মাটি কাউকে খালি হাতে ফিরিয়ে দেয় না। তার এই ১২ শতাংশ জমির পালং শাক শুধু একটি ফসল নয়, বরং তার স্বপ্ন পূরণের সিঁড়ি। অল্প পুঁজিতে অধিক লাভ করার এই মন্ত্র এখন মেহার গ্রামের প্রতিটি কৃষকের মুখে মুখে। শাহজালালের চোখে এখন শুধু বিক্রির অপেক্ষা আর নতুন ফসল বোনার নতুন স্বপ্ন। মেহার গ্রামের এই সবুজ বিপ্লব বলে দিচ্ছে, পরিশ্রম আর সঠিক পরিকল্পনার সমন্বয় ঘটলে কৃষকের মুখে হাসি ফোটানো মোটেও অসম্ভব কোনো কাজ নয়।

আরও পড়ুন -
  • সর্বশেষ
  • সর্বাধিক পঠিত