
দেশের অষ্টম বিভাগীয় শহর হিসেবে যাত্রার পর দ্রুত সম্প্রসারিত হচ্ছে ময়মনসিংহ। তবে পরিকল্পিত নগরায়নের অভাবে বাড়ছে বিশৃঙ্খলা। অনুমোদিত নকশায় পার্কিংয়ের জায়গা থাকলেও বাস্তবে সেখানে গড়ে উঠছে দোকান ও মার্কেট। ফলে নগরজুড়ে বাড়ছে যানজট ও জনদুর্ভোগ। ময়মনসিংহ নগরীতে বহুতল ভবন নির্মাণে যেন প্রতিযোগিতা চলছে। অনুমোদিত নকশা মানার ক্ষেত্রে রয়েছে চরম অনিয়ম। পার্কিংয়ের জন্য নির্ধারিত আন্ডারগ্রাউন্ড ও নিচতলা ব্যবহার করা হচ্ছে বাণিজ্যিক দোকান ও মার্কেট হিসেবে। ইমারত নির্মাণ বিধিমালা অনুযায়ী পার্কিং স্পেস পরিবর্তন শাস্তিযোগ্য অপরাধ। তবুও অভিযোগ রয়েছে, অনেক ভবন মালিক ও ডেভেলপার প্রতিষ্ঠান নকশা লঙ্ঘন করেই ব্যবসা চালিয়ে যাচ্ছেন।
নগরীর নতুন বাজার এলাকার দুটি শোরুম’ ভবনের মালিকদের বিরুদ্ধে নকশাবহির্ভূত কাজের অভিযোগে একাধিক নোটিশ দিয়েছে ময়মনসিংহ সিটি কর্পোরেশন। অন্যদিকে কিছু প্রতিষ্ঠান, যেমন ‘গ্রীন ডেভেলপার’, দাবি করছে তারা অনুমোদিত নকশা মেনেই ভবন নির্মাণ করছে।
সুশাসনের জন্য নাগরিক (সুজন)-এর সাধারণ সম্পাদক কাজল কোরাইশী ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, পরিকল্পনা ছাড়াই ব্যাঙের ছাতার মতো বহুতল ভবন নির্মাণের প্রতিযোগিতাই শহরটির বর্তমান দুরবস্থার প্রধান কারণ। ১০ ফুট রাস্তায় ২০ তলা ভবন নির্মাণ করা হচ্ছে, যা অত্যন্ত অন্যায়। প্রত্যেক ভবন নির্মাণের কিছু নির্দিষ্ট কোড রয়েছে- যেমন নির্দিষ্ট পরিমাণ জায়গা ছেড়ে দেওয়া, আন্ডারগ্রাউন্ডে পার্কিংয়ের ব্যবস্থা রাখা। অনুমোদন দেওয়া হলেও নকশা অনুযায়ী কাজ হচ্ছে কি না, তা দেখার কেউ নেই। পরিকল্পিত নগরায়ন না হলে ময়মনসিংহ বসবাসের অযোগ্য হয়ে পড়বে। আইন প্রয়োগে কঠোর হতে হবে।
ময়মনসিংহ সিটি কর্পোরেশনের প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা সুমনা আল মজিদ বলেন, কার পার্কিংয়ের স্থানগুলোতে কিছু ভবন মালিক ও ডেভেলপার বাণিজ্যিকভাবে মার্কেট করে ভাড়া দিয়েছেন। বিষয়টি নিয়ে একাধিকবার আলোচনা ও নোটিশ দেওয়া হয়েছে। বিশেষ করে চরপাড়া, সিকে ঘোষ রোড, রামবাবু রোড ও নতুন বাজার এলাকায় এ ধরনের অনিয়ম বেশি। সংশ্লিষ্টরা নোটিশকে গুরুত্ব দিচ্ছেন না। তাই আমরা অভিযানে নামার সিদ্ধান্ত নিয়েছি। প্রয়োজনে ভবনের নকশা বাতিল ও আরও কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
নগরীর বাসিন্দা সাজ্জাদ হোসেন বলেন, পার্কিং না থাকায় গাড়ি রাস্তায় রাখতে হয়। এতে প্রতিদিনই যানজটে পড়তে হচ্ছে। পার্কিং স্পেস খালি রাখা, অবৈধ বাণিজ্যিক ব্যবহার বন্ধ এবং ভ্রাম্যমাণ আদালতের মাধ্যমে উচ্ছেদ অভিযান ও জরিমানা নিশ্চিত করা হোক।