
কক্সবাজারের কলাতলীতে নবনির্মিত একটি গ্যাস পাম্পে বিস্ফোরণের পর আগুনে ৯ জন দগ্ধের তথ্য পেয়েছে বলে জানিয়েছে পুলিশ। দগ্ধদের মধ্যে আবু তাহের নামের একজনের অবস্থা আশঙ্কাজন হওয়ায় ঢাকায় পাঠানো হয়েছে, ৪ জনকে চট্টগ্রাম ও অন্যরা কক্সবাজার সদর হাসপাতালে চিকিৎসা নিচ্ছেন।
গত বুধবার সন্ধ্যা ৭টার দিকে হঠাৎ করে পাম্পের গ্যাস লাইনে লিকেজ দেখা দেয়। পরে রাত ১০টার দিকে আগুন ছড়িয়ে পড়ে। পরে রাত পৌনে ২টার দিকে আগুন নিয়ন্ত্রণে আনা হয়। এতে ফিলিং স্টেশনটি ছাড়াও আশপাশের অন্তত ১০টি বসতবাড়ি ও ২০টির বেশি গাড়ি পুড়েছে।
দগ্ধরা হলেন- চকরিয়া সিকদারপাড়ার মিজানুর রহমানের ছেলে সাকিব, রামুর জোয়ারিয়ালানার আবুল হোসেনের ছেলে মো. সিরাজ, শহরের কলাতলি এলাকার মৃত জাকারিয়ার ছেলে আব্দুর রহিম, আব্দুর রশিদের ছেলে মোতাহের, বাহারছড়া এলাকার কালা মিয়ার ছেলে কামরুল হাসান, টেকনাফের আবু তাহের, মেহেদী, খোরশেদ আলম, টিটন সেন।
ফায়ার সার্ভিস ও স্থানীয়রা জানায়, গত বুধবার সন্ধ্যা সাড়ে ৭টার দিকে পাম্পটি থেকে গ্যাস ছড়িয়ে পড়তে শুরু করে। প্রায় ৩ ঘণ্টা ধরে গ্যাস বাতাসে মিশে আশপাশের প্রায় এক কিলোমিটার এলাকায় ছড়িয়ে যায়। ফায়ার সার্ভিস এসে মানুষকে নিরাপদে সরিয়ে নেওয়ার পাশাপাশি গ্যাস লিকেজ বন্ধের চেষ্টা করে। তবে রাত ১০টার দিকে হঠাৎ বিকট শব্দে বিস্ফোরণের পর আগুন ধরে যায়। ছড়িয়ে পড়তে থাকে আশপাশের এলাকাতেও।
ফায়ার সার্ভিসের পাশাপাশি আগুন নিয়ন্ত্রণে কাজ করে সেনাবাহিনী ও নৌবাহিনী।
কক্সবাজার ফায়ার সার্ভিস ও ডিভিল ডিফেন্সের উপ-সহকারী পরিচালক সৈয়দ মুহাম্মদ মোরশেদ জানান, গত বুধবার রাত পৌনে ২টার দিকে আগুন নিয়ন্ত্রণে আসে। আগুনে ফিলিং স্টেশনটি ছাড়াও আশপাশের অন্তত ১০টি বসতবাড়ি ও ২০টির বেশি গাড়ি পুড়ে যায়।
তিনি জানান, প্রাথমিক তদন্তে ধারণা করা হচ্ছে গ্যাস লিকেজ থেকেই বিস্ফোরণের ঘটনা ঘটেছে। ফিলিং স্টেশনটির কোনো বৈধ অনুমোদন ছিল না বলেও প্রমাণ পাওয়া গেছে। এ ঘটনায় মালিকপক্ষের বিরুদ্ধে প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে। এদিকে অগ্নিকাণ্ডে ক্ষতিগ্রস্ত এলাকা পরিদর্শন করেছেন কক্সবাজার-৩ আসনের নবনির্বাচিত সংসদ সদস্য লুৎফুর রহমান কাজল। তিনি ঘটনাস্থলে গিয়ে ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারগুলোর সঙ্গে কথা বলেন এবং সার্বিক পরিস্থিতি সম্পর্কে খোঁজখবর নেন। এ সময় তিনি অগ্নিকাণ্ডে ক্ষতিগ্রস্তদের মধ্যে তাৎক্ষণিক আর্থিক সহায়তা প্রদান করেন।
কক্সবাজারের জেলা প্রশাসক মো. আ. মান্নান জানান, ক্ষয়ক্ষতি নিরুপণের পর তাদের ক্ষতিপূরণ দেওয়া হবে। আর ঘটনায় অতিরিক্ত জেলা ম্যাজিস্ট্রেটকে (এডিএম) প্রধান করে ৫ সদস্যের তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়েছে। আগামী ৭ দিনের মধ্যে এই কমিটি তদন্ত প্রতিবেদন দাখিল করবে। এর পর প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে। কক্সবাজার সদর মডেল থানার ওসি মো. ছমিউদ্দিন বলেন, অগ্নিকাণ্ডের ঘটনায় ৯ জন দগ্ধ হয়েছেন বলে জানতে পারি। বিষয়টি তদন্ত করে দেখতে পুলিশের টিম মাঠে রয়েছে।