
দুর্নীতির বিরুদ্ধে জিরো টলারেন্স ঘোষণা দিয়ে পার্বত্য চট্টগ্রামবিষয়ক মন্ত্রী দীপেন দেওয়ান বলেছেন, পার্বত্য চট্টগ্রামে উন্নয়নের সবক্ষেত্রে দুর্নীতিমুক্ত ব্যবস্থাপনা নিশ্চিত করতে হবে।
দুর্নীতি করলে দলের কাউকে ছাড় নয়। গত বুধবার রাঙামাটি পার্বত্য জেলা পরিষদের সম্মেলন কক্ষে স্থানীয় গণমাধ্যকর্মীদের সঙ্গে মতবিনিময় সভায় এসব কথা বলেন মন্ত্রী।
তিনি বলেন, এখন থেকে এখানে নিয়োগ বাণিজ্য, ঘুস, টেন্ডারবাজি, দখল-দারিত্বসহ কোনো রকম অনিয়ম-দুর্নীতি দেখতে চাই না। কেউ দুর্নীতির চেষ্টা করলে তার বিরুদ্ধে তদন্তসাপেক্ষে আইনি কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া হবে। পার্বত্যমন্ত্রী বলেন, ৫ আগস্টের পরবর্তী আমার দলীয় কতিপয় ব্যক্তির বিরুদ্ধেও অনেককিছু নিয়ে দুর্নীতির অভিযোগ কানে এসেছে। ভবিষ্যতে যে কারওর বিরুদ্ধে এ ধরনের অভিযোগ উঠলে তদন্তসাপেক্ষে ব্যবস্থা নেওয়া হবে। তিনি বলেন, পার্বত্য চট্টগ্রামে সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতি ও শান্তিপূর্ণ সহাবস্থান নিশ্চিত করতে হবে।
এজন্য দলমত নির্বিশেষ সবার সার্বিক সহযোগিতা চাই। এ অঞ্চলে সমস্যা অনেক। বেকারত্ব বড় সমস্যা। বেকারত্ব দূরীকরণে শূন্যপদে চাকরিতে নিয়োগ, প্রাথমিক শিক্ষক নিয়োগ, কাপ্তাইয়ে অবস্থিত কাগজকল কর্ণফুলী পেপার মিল (কেপিএ) পুনরায় চালুসহ পর্যটন সেক্টরে উন্নয়ন, শিল্পকারখানা স্থাপন ও আত্মকর্মসংস্থানের পদক্ষেপ নেওয়া হবে। মন্ত্রী বলেন, পর্যটনের ক্ষেত্রে শুধু দেশি পর্যটক নয়, এখানে বৈদেশিক মুদ্রা উপার্জনের লক্ষ্যে বিদেশি পর্যটকদের আগমন নিশ্চিত করতে হবে। নিরাপত্তার বিষয়ে আমি প্রশাসন ও সংশ্লিষ্ট সংস্থাগুলোর সঙ্গে আলোচনা করব।
তিনি বলেন, তিন পার্বত্য জেলায় হিমাগার স্থাপনসহ কৃষিক্ষেত্রে বিভিন্ন মেয়াদে প্রকল্প নেওয়া হবে। এ অঞ্চলের শিক্ষা, স্বাস্থ্য, অবকাঠামো, যোগাযোগ ব্যবস্থার উন্নয়নে প্রয়োজনীয় ও টেকসই কর্মসূচি বাস্তবায়ন করা হবে। কাপ্তাই হ্রদের সুবলং, কাচালং নদীর খনন শিগগিরই শুরু হবে।
এছাড়া মৎস্যসম্পদ উন্নয়নে খাল খনন ও জলাশয় সংরক্ষণসহ কৃষি চাষাবাদে প্রকল্প হাতে নেওয়া হবে।
দীপেন দেওয়ান বলেন, তিন পার্বত্য জেলায় সুষম উন্নয়ন নিশ্চিত করা হবে। বরাদ্দ সেভাবে দেওয়া হবে। বর্তমান সরকার পার্বত্য অঞ্চলের উন্নয়নে অত্যন্ত আন্তরিক, তাই প্রয়োজন সবার সার্বিক সহযোগিতা।
এসময় পার্বত্য চট্টগ্রামবিষয়ক মন্ত্রণালয়ের যুগ্ম সচিব কংকন চাকমা, জেলা বিএনপির সভাপতি দীপন তালুকদার, সহ-সভাপতি সাইফুল ইসলাম চৌধুরী ভূট্টো, অ্যাডভোকেট সাইফুল ইসলাম পনির, সাধারণ সম্পাদক অ্যাডভোকেট মামুনুর রশীদ, জিয়া পরিষদের জেলা সভাপতি মানস মুকুর চাকমা প্রমুখ উপস্থিত ছিলেন।