
উত্তরের পথে ঈদ যাত্রায় টাঙ্গাইলের প্রধান যানজটের শঙ্কা ১৩ কিলোমিটারে। ঢাকা টাঙ্গাইল যমুনা সেতু মহাসড়কের এলেঙ্গা থেকে যমুনা সেতু পর্যন্ত সাড়ে ১৩ কিলোমিটার অংশ প্রতিবছরই হয়ে উঠে যাত্রীদের গলার কাঁটা। যাত্রী ও চালকরা এবারের ঈদুল ফিতরের ঈদ যাত্রায়ও যানজটের আশঙ্কা করছেন। অন্যদিকে টাঙ্গাইলের পুলিশ সুপার মুহাম্মদ শামসুল আলম সরকার মহাসড়কের ১৪টি স্পট চিহ্নিত করে আলাদা নজরদারি রাখবেন বলে জানান।
উত্তরবঙ্গের জেনিন সার্ভিসের বাস চালক আলম জানান, এবারে ঈদুল ফিতরের ঈদ যাত্রায় দুটি কারণে যানজটের আশঙ্কা রয়েছে। প্রথমত এলেঙ্গা থেকে যমুনা সেতু পর্যন্ত সাড়ক ১৩ কিলোমিটার সরু সড়ক, অব্যবস্থাপনা, নির্মাণাধীন কাজে কর্তৃপক্ষের গাফিলতি এর প্রধান কারণ। এছাড়া যমুনা সেতুতে টোল প্লাজায় যানবাহনের অতিরিক্ত চাপে এবং টোল আদায়ে হিমশিম খায় সেতু কর্তৃপক্ষ ।
সিরাজগঞ্জের শুভযাত্রা এন্টারপ্রাইজের চালক জুয়েল হোসেন জানান, ঢাকা-টাঙ্গাইল যমুনা সেতু মহাসড়ক দিয়ে উত্তরাঞ্চলের ২৩টি জেলার যানবাহন চলাচল করে। ফলে স্বাভাবিক সময়ের চেয়ে ঈদের সময় যানবাহনের চাপ বাড়ে কয়েক গুণ। যমুনা সেতু টোল প্লাজা থেকে সরু সেতুতে গেলে যানবাহনের ধীরগতি হয়ে যায়। এ কারণে এ বছরও টোল প্লাজায় যানজটের আশঙ্কা রয়েছে।
নির্জনা এন্টারপ্রাইজের বাস চালক আইয়ুব আলী জানান ঢাকা-টাঙ্গাইল যমুনা সেতু মহাসড়কে তিনটি ঝুঁকিপূর্ণ স্পট রয়েছে। প্রশাসন ৩টি স্পটে যথাযথ ব্যবস্থা নিতে পারলে এবারের ঈদ যাত্রা হতে পারে স্বস্তিদায়ক। স্পটগুলো হচ্ছে এলেঙ্গা, গোল চত্বর এবং টোল প্লাজা ও সেতু। এসব জায়গায় যানবাহনের জটলা বাধলেই যানজট সৃষ্টি হতে পারে। তিনি আরও বলেন এই তিনটি জায়গা ২০ মিনিটের জন্য স্থবির হয়ে পড়লে ওই যানজট নিরসনে পুড়ো একদিন লেগে যেতে পারে। একই গাড়ির হেল্পার আব্দুল বাসেত বলেন, ঢাকা টাঙ্গাইল যমুনা সেতু মহাসড়কে ঈদ আসলেই ফিটনেস বিহীন যানবাহন অবাধে চলাচল করে। ফিটনেসবিহীন যানবাহন গুরুত্বপূর্ণ সময়ে গুরুত্বপূর্ণ স্পটে একবার নষ্ট হলে যে কোনো সময় যানজটের সৃষ্টি হতে পারে। ওই যানবাহন অপসারণ না করা পর্যন্ত কৃত্রিম যানজটে যাত্রীদের ভোগান্তি হতে পারে সীমাহীন। তাই এসব বিষয়ে প্রশাসনের নজরদারি বাড়ানোর দাবি করেন তিনি।
কেয়া পরিবহনের চালক সাহেব আলী বলেন, ঢাকা-টাঙ্গাইল মহাসড়কে যমুনা সেতুতে ঈদ যাত্রায় মোটরসাইকেল চালকদের দৌড়াত্বে দূরপাল্লার যাত্রীদের ভোগান্তি পোহাতে হয়। মোটরসাইকেলের জন্য আলাদা টোল প্লাজার ব্যবস্থা থাকলেও সেতুর উপর ধীরগতির যানবাহনকে ওভারটেক করে দ্রুতগতিতে মোটরসাইকেল চালানোর কারণে যেকোনো সময় ঘটতে পারে মারাত্মক দুর্ঘটনা। এ বিষয়ে আব্দুল মোনেম লিমিটেডের প্রজেক্ট ম্যানেজার রবিউল আউয়াল জানান মহাসড়কের দুপাশের চার লেনে যানবাহন চলাচলের জন্য উন্মুক্ত করে দেওয়া হবে। তবে এবারের ঈদযাত্রায় যানজটে যাত্রীদের ভোগান্তি পোহাতে হবে না বলে আশা প্রকাশ করেন।
টাঙ্গাইলের পুলিশ সুপার মুহাম্মদ শামসুল আলম সরকার বলেন, টাঙ্গাইলের রাবনা বাইপাস থেকে যমুনা সেতু পর্যন্ত ১৪টি স্পট চিহ্নিত করেছি। এসব স্পটে তিনটি শিফটে ২৪ ঘণ্টাই পুলিশ সদস্যরা দায়িত্ব পালন করবে। এছাড়াও ঈদের ৫ দিন আগে থেকে যানজট নিরসনে মহাসড়কে এক হাজার পুলিশ সদস্য নিয়োজিত থাকবে। অন্যদিকে ঈদের পরেও সাত দিন পুলিশ সদস্যরা মহাসড়কে কাজ করবে।
টাঙ্গাইলের জেলা প্রশাসক শরীফা হক জানান, ঈদ যাত্রায় যাত্রী এবং চালকদের নিজ নিজ গন্তব্যে নির্বিঘ্নে পৌঁছে দিতে জেলা প্রশাসন নানা ধরনের উদ্যোগ গ্রহণ করেছে। টাঙ্গাইলের অংশে যে কয়েকটি গুরুত্বপূর্ণ স্পট রয়েছে সে সব স্পটে প্রশাসনের পক্ষ থেকে আলাদা মনিটরিং রাখা হবে। এছাড়াও মহাসড়কে যানজটের পাশাপাশি ডাকাতি ও ছিনতাইয়ের ব্যাপারে আলাদা নজরদারি রাখা হবে।