ঢাকা মঙ্গলবার, ১০ মার্চ ২০২৬, ২৫ ফাল্গুন ১৪৩২ | বেটা ভার্সন

সংগ্রামী নারীদের গল্প

নারী নেতৃত্বের উজ্জ্বল দৃষ্টান্ত উখিয়ার ইউএনও রিফাত আসমা

নারী নেতৃত্বের উজ্জ্বল দৃষ্টান্ত উখিয়ার ইউএনও রিফাত আসমা

নারীর ক্ষমতায়ন, নেতৃত্ব ও সাফল্যের আলোচনায় উখিয়া উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) রিফাত আসমার নাম উঠে আসে অনিবার্যভাবেই। প্রশাসনিক দক্ষতা, দৃঢ় নেতৃত্ব ও জনসেবায় নিষ্ঠার মাধ্যমে তিনি এরইমধ্যে উখিয়া উপজেলায় ইতিবাচক দৃষ্টান্ত স্থাপন করেছেন।উখিয়ার ৪২ বছরের প্রশাসনিক ইতিহাসে প্রথম নারী উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন ৩৫তম বিসিএস (প্রশাসন) ক্যাডারের কর্মকর্তা রিফাত আসমা। ১৯৮৩ সালে উপজেলা প্রতিষ্ঠার পর প্রথম নারী ইউএনও হিসেবে দায়িত্ব গ্রহণ করে তিনি কক্সবাজার জেলার ৯ জন ইউএনওর মধ্যে আলোচনার কেন্দ্রবিন্দুতে উঠে এসেছেন। উখিয়ার প্রশাসনিক ইতিহাসে এটি একটি গুরুত্বপূর্ণ মাইলফলক হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে।

রোহিঙ্গা অধ্যুষিত ও দেশের অন্যতম চ্যালেঞ্জপূর্ণ এই উপজেলায় দায়িত্ব পালনে দক্ষতা, বিচক্ষণতা ও দায়িত্বশীলতার পরিচয় দিয়ে তিনি এরইমধ্যে প্রশংসা ও সুনাম অর্জন করেছেন। বিশেষ করে সহকারী রিটার্নিং কর্মকর্তা হিসেবে দিন-রাত কঠোর পরিশ্রমের মাধ্যমে ২০২৬ সালের ১২ ফেব্রুয়ারি অনুষ্ঠিত ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন শান্তিপূর্ণ ও সংঘাতমুক্ত পরিবেশে সম্পন্ন করতে তিনি গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করেন। সুষ্ঠু ও ত্রুটিমুক্ত নির্বাচন উপহার দিয়ে তিনি উপজেলাবাসীর প্রশংসা কুড়িয়েছেন। অনেকের মতে, উখিয়ায় বড় ধরনের সংঘাত ছাড়াই জাতীয় সংসদ নির্বাচন এই প্রথম অনুষ্ঠিত হয়েছে। চট্টগ্রাম বিভাগীয় শহরে জন্ম নেওয়া রিফাত আসমা ২০১৭ সালের ২ মে পাবনা জেলা প্রশাসনে সহকারী কমিশনার ও নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট হিসেবে কর্মজীবন শুরু করেন। পরবর্তীতে খাগড়াছড়ির মানিকছড়ি উপজেলা এবং কুমিল্লার ব্রাহ্মণপাড়া উপজেলায় সহকারী কমিশনার (ভূমি) হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন। এরপর তিনি রাঙ্গামাটি সদর উপজেলার ইউএনও হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন। ২০২৪ সালের ২৪ মার্চ সেখানে দায়িত্ব গ্রহণের পর একই বছরের ৯ সেপ্টেম্বর থেকে বরকল উপজেলার ইউএনওর অতিরিক্ত দায়িত্বও পালন করেন। পার্বত্য অঞ্চলের দুটি গুরুত্বপূর্ণ উপজেলার প্রশাসনিক দায়িত্ব পালনের অভিজ্ঞতা তার প্রশাসনিক দক্ষতা ও নেতৃত্বকে আরও সমৃদ্ধ করেছে।

২০২৫ সালের ১৪ ডিসেম্বর তিনি উখিয়া উপজেলার ইউএনও হিসেবে দায়িত্ব গ্রহণ করেন। দায়িত্ব নেওয়ার পর থেকেই শিক্ষা, পরিবেশ সংরক্ষণ, আইনশৃঙ্খলা রক্ষা, নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্যের বাজার তদারকি, যানজট নিরসন, সরকারি রাজস্ব আদায়, খাসজমি উদ্ধার, বাল্যবিবাহ প্রতিরোধ, মোবাইল কোর্ট পরিচালনা, মাদক ও চোরাচালান দমনে দিন-রাত সক্রিয় ভূমিকা পালন করে চলেছেন। দায়িত্ব গ্রহণের পর তিনি নিয়মিত বিভিন্ন শিক্ষা প্রতিষ্ঠান পরিদর্শন করছেন এবং শিক্ষার্থীদের মাদক, মোবাইল আসক্তি ও বাল্যবিবাহের ক্ষতিকর দিক সম্পর্কে সচেতন করছেন। পাশাপাশি শিক্ষার্থীদের খেলাধুলা ও সহশিক্ষা কার্যক্রমে সম্পৃক্ত করতে উৎসাহিত করছেন। সরকারি বিভিন্ন দপ্তরের সঙ্গে সমন্বয় করে উন্নয়ন কার্যক্রম ত্বরান্বিত করতে তিনি গড়ে তুলেছেন ‘টিম উখিয়া উপজেলা’। তার নেতৃত্বে দলটির সদস্যরা আন্তরিকতা ও দায়বদ্ধতার সঙ্গে দায়িত্ব পালন করছেন। বর্তমানে তিনি উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার পাশাপাশি উপজেলা পরিষদের প্রশাসক এবং সহকারী কমিশনার (ভূমি) হিসেবে অতিরিক্ত দায়িত্ব পালন করছেন। প্রচারবিমুখ ও কর্মনিষ্ঠ এই নারী কর্মকর্তা নীরবে মানুষের কল্যানে দায়িত্ব পালন করে যাচ্ছেন।

আরও পড়ুন -
  • সর্বশেষ
  • সর্বাধিক পঠিত