
কুড়িগ্রাম পৌর এলাকায় প্রধান প্রধান সড়কগুলো যেন ধুলোর নগরে পরিণত হয়েছে। সামান্য বাতাস বা একটি যানবাহন চলাচল করলেই বাতাসে ধুলোর ঘন মেঘ সৃষ্টি হচ্ছে। এতে প্রতিদিন চরম ভোগান্তির শিকার হচ্ছেন পথচারী, যানবাহনের চালক এবং রাস্তার পাশের দোকানদারগণ। প্রধান শহরের ঘোষপাড়ায় দিবা ও নৈশ বাসস্ট্যান্ড এবং মাত্র আধা কি. মি. দুরে আঞ্চলিক বাস স্ট্যান্ড অবস্থিত। ফলে শহরের প্রধান তিনটি সড়কেই পণ্য বোঝাই ট্রাক, ট্রলি, ট্রাকটর, বালু বোঝাই ট্রাকসহ সব ধরনের অগনিত যানবাহন দিন ও রাতে চলাচল করে। শহরের উপর দিয়ে অতিরিক্ত যানবাহন চলাচলের কারণে ধুলাবালির দূষণে অতিষ্ঠ হয়ে পড়েছে জনজীবন, চরম হুমকিতে জনস্বাস্থ্য। মুখে মাস্ক, রুমাল ব্যবহার করেও যেন স্বস্তি পাচ্ছে না সাধারণ মানুষ। রাস্তার দুধারের দোকানীরা বসতে পারছেন না ধুলোর ভয়ে তাদের ব্যাবসা প্রতিষ্ঠানে। বিশেষ করে সড়কে চলাচলরত শিশু ও বয়স্করা শ্বাস কষ্ট জনিত রোগে আক্তান্ত হয়ে পড়ছে প্রতিনিয়ত।
কুড়িগ্রাম শহরের এই প্রধান প্রধান আঞ্চলিক সড়ক গুলি যেন এখন ধুলাবালির রাজ্য। এতে অনেক সময় দুর্ঘটনার শিকার হচ্ছে শিক্ষার্থী, পথযাত্রী ও সাধারণ মানুষ। পুরো শহরেই এখন ধুলোর দাপট। শহরের বিভিন্ন রাস্তার অনেক জায়গায় রাস্তার কার্পেটিং উঠে গেছে, কোথাও আবার সংস্কারের কাজ শুরু করে তা আবার অসমাপ্তভাবে ফেলে রাখা হয়েছে। যার ফলে সড়কজুড়ে তৈরি হয়েছে ধুলোর স্তর। যানবাহন চলাচলের সময় সেই ধুলো বাতাসে উড়ে আশপাশের দোকান ও বাড়িঘরে ঢুকে পড়ছে। সড়কে অতিরিক্ত ধুলাবালি উড়ছে। এতে বিভিন্ন শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের শিক্ষক-শিক্ষার্থী, শিশু, বৃদ্ধা, পথযাত্রী ও স্থানীয় বাসিন্দার আবাসস্থলে বসবাসে অতিষ্ঠ জনজীবন ও চরম হুমকিতে জনস্বাস্থ্য পতিত হয়েছে।
যানবাহন চলাচলের কারণে প্রধান আঞ্চলিক সড়কে কুয়াশার মতো ধুলো উড়তে দেখা যায়। অতিরিক্ত ধুলাবালির কারণে এলাকাবাসীর আবাসস্থলে বসবাস করাও অসম্ভব হয়ে পড়েছে। সড়কে অতিরিক্ত ধুলাবালি প্রধান কারণ কিছু ব্যবসায়ী ধরলা নদী থেকে অবৈধ ভাবে বালুর উত্তোলন করে ব্যবসা চালিয়ে আসছে দীর্ঘদিন ধরে। এই অবৈধ বালু বিক্রি করতে দিনরাত ট্রাক্টর বেপরোয়া ভাবে শহরের প্রধান সড়কে চলাচল করছে প্রতিনিয়ত। বালু বোঝাই গাড়ি গুলি থেকে অব্যাহত ছড়িয়ে ছিটিয়ে পড়া বালু প্রধান ও আঞ্চলিক সড়কে স্তপ হয়ে পড়ে থাকছে। আরও দেখা যায় যে, বর্তমানে আবহাওয়া শুষ্কতার কারণে যানবাহন চলাচলের সঙ্গে প্রচণ্ড পরিমাণে ধুলাবালি যত্রতত্র ছড়িয়ে পড়ছে।
কয়েকজন পথচারী জানান, রাস্তার ধুলাবালিতে বিভিন্ন রোগের জীবাণু থাকে। এতে শ্বাসকষ্ট হচ্ছে। এমন ধুলোয় আমরা সড়কে চলাচল করতে পারছি না। সারাদিন শত শত গাড়ীর সঙ্গে ধুলোয় সাদা হয়ে থাকে সারা শহর।
ঘোষ পাড়ার ব্যবসায়ী করিম জানান, ধুলোর কারণে দোকানে বসে ব্যবসা করা খুব কঠিন হয়ে পড়েছে। আমি অসুস্থ হয়ে পড়েছি। কুড়িগ্রাম জিয়া বাজারের ব্যবসায়ী বাদশা জানান, বাজারের সামনের রাস্তা দীর্ঘদিন থেকে খারাপ। একটি গাড়ী গেলেই ধুলাবালিতে ভরে যায় চারদিক। চরম কষ্টে দোকানদারী করতে হচ্ছে। শহরের প্রতিটি বাড়িতে সর্দি, কাশি, অ্যালার্জি, টনসিল প্রদাহ, গলাব্যথা, অ্যাজমাসহ বিভিন্ন রোগ ছড়িয়ে পড়ছে।
কুড়িগ্রাম জেনারেল হাসপাতালের নবজাতক ও শিশু বিশেষজ্ঞ ডা. মো. আল আমিন মাসুদ জানান, দীর্ঘদিন ধুলাবালির মধ্যে থেকে অনেকেই শ্বাসতন্ত্রের তথা ফুসফুসের বিভিন্ন রোগে আক্রান্ত হয়ে পড়েছে। গত একবছরে শ্বাসকষ্টজনিত রোগীর সংখ্যা ব্যপক হারে বাড়ছে। বিশেষ করে শিশুরা বেশী আক্রান্ত হচ্ছে নানান রোগে। বাড়ছে বিভিন্ন রোগের ঝুঁকি। তাছাড়া শিশু ও বয়স্কদের জন্য এ পরিস্থিতি বিশেষভাবে বিপজ্জনক।