ঢাকা বৃহস্পতিবার, ১৯ মার্চ ২০২৬, ৫ চৈত্র ১৪৩২ | বেটা ভার্সন

দুর্গম এক কলেজের ৩৮ শিক্ষার্থী পেলেন বিশ্ববিদ্যালয়ে ভর্তির সুযোগ

দুর্গম এক কলেজের ৩৮ শিক্ষার্থী পেলেন বিশ্ববিদ্যালয়ে ভর্তির সুযোগ

বান্দরবান জেলার লামায় দুর্গম পাহাড়ে অবস্থিত কোয়ান্টাম কসমো স্কুল অ্যান্ড কলেজ এবারও সাফল্যের ধারা অব্যাহত রেখেছে। ২০২৫ সালে এইচএসসি পরীক্ষায় উত্তীর্ণ শিক্ষার্থীদের মধ্যে এ পর্যন্ত ৩৮ জন শিক্ষার্থী মেধার ভিত্তিতে দেশের বিভিন্ন পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয়ে ভর্তির সুযোগ পেয়েছে। তার মধ্যে ৩ জন সরকারি মেডিকেল কলেজ,২ জন চুয়েটে (চট্টগ্রাম প্রকৌশল ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়), ১ জন রুয়েটে (রাজশাহী প্রকৌশল ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়), ৭ জন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়, ১১ জন চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়, ১ জন জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়, ১ জন রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়, ১ জন জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়, ১ জন সরকারি নার্সিং কলেজ এবং সম্প্রতি সফল শিক্ষার্থীদের এই তালিকায় যুক্ত হয়েছে আরও ১০ জন। এছাড়া বিভিন্ন বিশ্ববিদ্যালয়ের অপেক্ষমান তালিকায় রয়েছে আরও ৬ জন শিক্ষার্থী। ভর্তির সুযোগ পাওয়া শিক্ষার্থীরা হলেন, ধনলাল ত্রিপুরা সরকারি শহীদ সৈয়দ নজরুল ইসলাম মেডিকেল কলেজ, উছাইলা মারমা সাতক্ষীরা মেডিকেল কলেজ, অংক্যসিং মারমা মাগুরা মেডিকেল কলেজ।

ইঞ্জিনিয়ারিং বিশ্ববিদ্যালয়ে ভর্তির সুযোগ পেয়েছে মংথুইনু মারমা (চুয়েট), জিসান তঞ্চগ্যা (চুয়েট) এবং শফিকুল ইসলাম (রুয়েট)। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় চান্স পাওয়া শিক্ষার্থীরা হলো : লাল নেই সাং বম (একাউন্টিং অ্যান্ড ইনফরমেশন সিস্টেমস), ওয়াইংজ্য মার্মা (ব্যাংকিং ও ইনস্যুরেন্স), ইয়াসিনুর রহমান পরান (গণযোগাযোগ ও সাংবাদিকতা), ওয়ারেছুল হক রিয়াদ (ফারসি ভাষা ও সাহিত্য), শৈমংসাই মারমা (ব্যাংকিং ও ইনস্যুরেন্স), সৈকত উদ্দিন আহমেদ (একাউন্টিং অ্যান্ড ইনফরমেশন সিস্টেমস), জুলিনময় ত্রিপুরা (অর্গ্যানাইজেশন স্ট্র্যাটেজি অ্যান্ড লিডারশিপ)। চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ের ফিজিক্যাল এডুকেশন অ্যান্ড স্পোর্টস সায়েন্স বিভাগে চান্স পেয়েছে ৬ জন শিক্ষার্থী। তারা হলো : নেওয়ান চাক, অনিল তংচংগ্যা, মো. সজীব, সজীব কিসকো, মোছা. আয়েশা খাতুন ও মোছা. শাহনাজ খাতুন। একই বিশ্ববিদ্যালয়ের বিভিন্ন বিভাগে সুযোগ পেয়েছে আরও ৪ জন রেশমি সাঁওতাল (ইসলামের ইতিহাস ও সংস্কৃতি), সারজিনা আক্তার (বাংলাদেশ স্টাডিজ), মোছা. লাবিবা তাজরিন (চারুকলা), সজীব খিয়াং (সংগীত)। রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের ফোকলোর বিভাগে চান্স পেয়েছে মো. জাহিদ হাসান। এছাড়া জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ের ফিন্যান্স ও ব্যাংকিং বিভাগে ফুংপ্রে মুরুং এবং জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রিন্টমেকিং বিভাগে মংনুসিং মারমা ভর্তির জন্য নির্বাচিত হয়েছে। পটুয়াখালী নার্সিং ইনস্টিটিউটে চান্স পেয়েছে কাজল চাকমা (ডিপ্লোমা-ইন-নার্সিং)।

এর আগের বছর ২০২৪ সালের এইচএসসি পরীক্ষায় উত্তীর্ণদের মধ্যে ২৫ জন সুযোগ পেয়েছিল দেশের বিভিন্ন পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয়ে।

উল্লেখ্য, গুচ্ছভুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়গুলোর ভর্তি পরীক্ষা এখনও অনুষ্ঠিত হয়নি এবং অন্যান্য বিশ্ববিদ্যালয়ের ভর্তি কার্যক্রম চলমান রয়েছে। এসব বিশ্ববিদ্যালয়ের ভর্তি কার্যক্রম শেষ হলে এ সংখ্যা আরও বাড়তে পারে।

বর্তমানে আড়াাই হাজারের বেশি শিশু-কিশোর লেখাপড়া করছে কোয়ান্টাম কসমো স্কুল ও কলেজে। দেশের বিভিন্ন প্রান্তের সুবিধাবঞ্চিত ছেলেমেয়েরা এখানে আলোকিত মানুষ হিসেবে গড়ে উঠছে সুশৃঙ্খল পরিবেশ, লেখাপড়া, মেডিটেশন, কোয়ান্টাম ব্যায়াম খেলাধুলা, শুদ্ধাচার চর্চা ও সহশিক্ষা কার্যক্রমের মধ্য দিয়ে। প্রতি বছরই এ কলেজ থেকে শিক্ষার্থীরা দেশের বিভিন্ন বিশ্ববিদ্যালয়ে ভর্তির সুযোগ পাই। অন্যান্য বছরের মতো এবারও সাফল্যের ধারা অব্যাহত রেখেছে কোয়ান্টাম কসমো স্কুল অ্যান্ড কলেজ।

দুর্গম পাহাড়ে অবস্থিত এ কলেজের আলো ছড়িয়ে পড়ছে সারাদেশে।

আরও পড়ুন -
  • সর্বশেষ
  • সর্বাধিক পঠিত