ঢাকা শুক্রবার, ২৭ মার্চ ২০২৬, ১৩ চৈত্র ১৪৩২ | বেটা ভার্সন

সড়ক দুর্ঘটনা

কুষ্টিয়ায় নিহত চারজনের বাড়িতে শোকের মাতম

পদ্মায় বাসডুবি
কুষ্টিয়ায় নিহত চারজনের বাড়িতে শোকের মাতম

রাজবাড়ীর দৌলতদিয়া ফেরিঘাটে যাত্রীবাহী সৌহার্দ্য পরিবহনের বাস নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে পদ্মা নদীতে ডুবে যাত্রীরা নিখোঁজ ও ডুবে মারা যায়। এরমধ্যে কুষ্টিয়ার জুগিয়া এলাকার মর্জিনা খাতুন হাসি। তার দাফন সম্পন্ন হয়েছে। মর্মান্তিক ঘটনায় শোকে বিহল এলাকাবাসী। এসময় কান্নাজড়িত কন্ঠে স্বজনদের বিলাপ করতে দেখা গেছে।

কুষ্টিয়ার নিহতরা হলেন- কুষ্টিয়া পৌরসভার মজমপুর গ্রামের মো. আবু বক্কর সিদ্দিকের স্ত্রী মর্জিনা খাতুন হাসি (৫৬), কুষ্টিয়ার খোকসা উপজেলার খাগড়বাড়িয়ার হিমাংশু বিশ্বাসের ছেলে রাজীব বিশ্বাস (২৮), একই উপজেলার ধুশুন্ডু গ্রামের দেলোয়ার হোসেনের ছেলে ইস্রাফিল (৩), একই উপজেলার সমসপুর গ্রামের গিয়াসউদ্দিন রিপনের মেয়ে আয়েশা সিদ্দিকা (১৩)। কুষ্টিয়ার নিহত ৪ জনের মধ্যে ৩ জনের দাফন সম্পন্ন হয়েছে।

খোকসায় নিহত আয়েশা সিদ্দিকা ও ইস্রাফিলের দাফন সম্পন্ন হয়েছে। রাজিবের শেষকৃত্যের প্রক্রিয়া সম্পন্ন হয়েছে। খোকসা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মোশাররফ হোসেন এই তথ্য নিশ্চিত করেছেন। গতকাল বৃহস্পতিবার কুষ্টিয়া পৌর এলাকার বারখাদা পালপাড়া এলাকার বাসিন্দা মর্জিনা খাতুন হাসির জানাযা শেষে জুগিয়া কবরস্থানে দাফন সম্পন্ন করা হয়েছে। সেখানে নিহতের স্বামী আবু বক্কর ও ভাই, স্বজন ও প্রতিবেশীরা উপস্থিত ছিলেন এবং তারা জানাজায় অংশ নেন।

ঢাকায় বসবাসরত চিকিৎসক মেয়ের বাসায় যাওয়ার জন্য রাজবাড়ীর পাংশা থেকে সৌহার্দ্য পরিবহনের বাসে উঠেন স্থানীয় পল্লী বিদ্যুতের বিলিং সুপার ভাইজার মর্জিনা খাতুন হাসি। এর ঘণ্টাখানেক পরেই মুত্যুর খবর পান পরিবারের লোকজন। বাস দুর্ঘটনাকে দায়িত্বে অবহেলা ও অব্যবস্থাপনা হিসেবে দেখছেন স্বজন ও এলাকার মানুষ। তারা এ ঘটনার সুষ্ঠু তদন্ত ও দায়ীদের বিচার চান।

অন্যদিকে জেলার খোকসায় নিহত আরও তিনজনের লাশ পরিবারের কাছে বুঝিয়ে দেওয়া হয়েছে। এদের মধ্যে আয়েশা সিদ্দিকা, রাজীব বিশ্বাস, তিন বছরের শিশু ইস্রাফীলের লাশ রয়েছে। এদিকে মর্জিনা খাতুন হাসি যাকে হাসি আপা নামে চিনতেন পুরো এলাকার মানুষ। হাসিখুশি মানুষটি সবার সঙ্গে মিশতেন, খোঁজ খবর রাখতেন। সেই মানুষটির চির বিদায়ে এলাকায় শোকের ছায়া। স্বজনদের মধ্যে কান্নার রোল। হাসিকে হারিয়ে কান্না করছে পুরো এলাকার মানুষ।

আরও পড়ুন -
  • সর্বশেষ
  • সর্বাধিক পঠিত