ঢাকা শনিবার, ২৮ মার্চ ২০২৬, ১৪ চৈত্র ১৪৩২ | বেটা ভার্সন

বাগেরহাটে আধিপত্য বিস্তারে দুই বংশের মধ্যে সংঘর্ষ, নিহত এক

বাগেরহাটে আধিপত্য বিস্তারে দুই বংশের মধ্যে সংঘর্ষ, নিহত এক

বাগেরহাটের চিতলমারি উপজেলায় আধিপত্য বিস্তারকে কেন্দ্র করে বিবাদমান বিশ্বাস ও শেখ বংশের দুই গ্রুপের মধ্যে সংঘর্ষে হামলা, ভাঙচুর, লুটপাট ও অগ্নিসংযোগের ঘটনা ঘটেছে। এসময় অন্তত ১৫টি বসত বাড়িতে আগুন দিয়ে পুড়িয়ে দেওয়ার ঘটনা ঘটে। সংঘর্ষে রাজিব শেখ (২০) নামের এক যুবক নিহত ও নারীসহ ১০ থেকে ১৫ জন আহত হয়েছেন। নিহত রাজিব শেখ উপজেলার কলাতলা ইউনিয়নের চিংগড়িয়া গ্রামের ফারুক শেখের ছেলে। এ ঘটনায় একজনকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। গত বৃহস্পতিবার বিকাল ৫টা থেকে রাত সাড়ে ৮টা পর্যন্ত সাড়ে ৩ ঘন্টাব্যাপি উপজেলার কলাতলা ইউনিয়নের চিংগড়িয়া গ্রামের বিবাদমান দুই গ্রুপের এ হামলা ভাঙচুর লুটপাট ও অগ্নি সংযোগ চলতে থাকে। স্থানীয়রা জানান, প্রায় ২ শতাধিক হামলাকারীরা একাধিক বাড়িতে ভাঙচুর ও লুটপাট চালিয়ে পরে আগুন ধরিয়ে দেয়। ফলে অন্তত ১৫টি বাড়ি সম্পূর্ন ধংসস্তুপে পরিনত হয়। হামলা কারিরা এতটাই হিংস্র ছিল যে পাকা দালানের মালামাল লুটে নেওয়ার পরে বাথরুমের কমট ও বেসিন খুলে নিতে না পেরে ভাংচুর করে রেখে যায়।

তাদের নিসংশতা থেকে রেহাই পায়নি পশু পাখিও। একাধিক ঘরের মধ্যে দেখা গেছে, শষ্যদানা দানার পাশাপশি হাঁস, মুরগী ও ছাগল পুড়ে অংগার হয়েগেছে। পরিস্থিতি এতটাই উত্তপ্ত হয়ে ওঠে যে, খবর পেয়ে ফায়ার সার্ভিসের সদস্যরা ঘটনাস্থলে পৌঁছালেও তাৎক্ষণিকভাবে আগুন নিয়ন্ত্রণে কাজ করতে পারেনি। পরে পুলিশ ও সেনাবাহিনী ঘটনাস্থলে ঘটনাস্থলে এসে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে।

চিংগড়িয়া গ্রামের বাসিন্দা ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারের সদস্য লিয়াকত শেখ ও কালাম শেখসহ একাধিক বাসিন্দা জানান, ২০১২ সালে চিতলমারীর মধুমতি নদীর চরের জায়গা দখল নিয়ে চিংগড়িয়া গ্রামের সাঈদ বিশ্বাস গ্রুপ ও অবসরপ্রাপ্ত পুলিশ কর্মকর্তা শেখ মনজুরুল আলম গ্রুপের মধ্যে বিরোধ শুরু হয়। সে সময় সংঘর্ষে শেখ মনজুরুল আলম এর ভাই আলম শেখ নামের একজন নিহত হয়। এছাড়া একই বিরোধের জেরে গত ২৮ জানুয়ারি চিংগড়িয়া গ্রামের লিচুতলা এলাকায় দুই গ্রুপের মধ্যে সংঘর্ষে সাঈদ বিশ্বাস গ্রুপের নিজাম উদ্দিন মারা যান। তার মৃত্যুকে কেন্দ্র করে এই দুই গ্রুপের মধ্যে চাপা ক্ষোভ চলে আসছিল। এছাড়া এই দুই গ্রুপের মধ্যে তুচ্ছ ঘটনা নিয়ে অর্ধশতাধিক বার সংঘর্ষে জড়িয়েছে এই দুই প্রতিপক্ষ দল। আর এই সংঘর্ষে উভয় পক্ষে অন্তত ৭ জন নিহতের বিষয়টি নিশ্চিত করেছে স্থানীয় বাসিন্দারা। ক্ষতিগ্রস্ত বাবুল শেখের স্ত্রী পলাশি বেগম বলেন, রাতে বিশ্বাস গোষ্ঠির ২ শতাধিক সন্ত্রাসী লোহার রড, দা, লাঠি ও দেশীয় অস্ত্র নিয়ে আমাদের বাড়ীতে হামলা চালায়। এসময় তারা আমাদের বাড়ীসহ আশপাশের শেখ পরিবারের প্রায় ২০/২৫টি বাড়ীতে ভাংচুর ও লুটপাট চালিয়ে আগুন ধরিয়ে দেয়। ভয়ে শেখ বাড়ীর পুরুষ মানুষরা পালিয়ে গেলেও রাজিবকে ওরা মেরে ফেলে। খবর পেয়ে ফায়ার সার্ভিসের লোকজন ঘটনাস্থলে আসলেও সন্ত্রাসীদের ভয়ে আগুন নেভানে আসতে পারেনি। ক্ষতিগ্রস্ত রিপন শেখ বলেন, বিশ্বাস বাড়ীর সন্ত্রাসীরা আমাদের শেখ বাড়ীর প্রতিটি বাড়ীতে আগুন দিয়ে ব্যাপক লুটপাট চালায়। তারা প্রতিটি বাড়ী থেকে নগদ টাকা, স্বর্ণালংকার, গরু ও ছাগলসহ ঘরের টিভি, ফ্রিজ লুট করে নিয়ে যায়। ওরা আমার চাচাতো ভাই রাজিবকে হত্যা করে। পুলিশ ঘটনাস্থলে থাকলেও কিছুই করেনি। আমার এ ঘটনার বিচার চাই।

বাগেরহাট অতিরিক্ত পুলিশ সুপার শামীম হোসেন বলেন, বিশ্বাস ও শেখ বংশের দুই গ্রুপের মধ্যে মধ্যে সংঘর্ষে একজন নিহত হয়েছেন। নিহতের লাশ খুলনা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে রয়েছে। এ ঘটনায় একজনকে আটক করা হয়েছে। ফের সংঘর্ষের আশংঙ্কায় ওই এলাকায় পুলিশ মোতায়েন করা হয়েছে। ঘটনার সঙ্গে জড়িত অন্যান্য আসামিদের ধরতে পুলিশের অভিযান চলছে।

আরও পড়ুন -
  • সর্বশেষ
  • সর্বাধিক পঠিত