
পাবনার ঈশ্বরদীতে ঝিনাইদহ জেলার যুগ্ম জেলা ও দায়রা পরিচয়দানকারী এক ব্যক্তিকে আটক করেছে ঈশ্বরদী থানা পুলিশ। গত মঙ্গলবার রাত ১০টা ২৫ মিনিটের দিকে ঈশ্বরদী থানায় এ ঘটনা ঘটে। পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, ওই ব্যক্তি এক নারীসহ ঈশ্বরদী থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তার (ওসি) কক্ষে উপস্থিত হয়ে নিজেকে ঝিনাইদহ জেলার যুগ্ম জেলা ও দায়রা জজ হিসেবে পরিচয় দেন। এসময় তিনি ঈশ্বরদী রেলস্টেশন থেকে যশোরে যাবেন কিন্তু ট্রেন অনেক বিলম্ব থাকায় রেল স্টেশনে বিশ্রামের জন্য একটি রেস্ট রুমের ব্যবস্থার কথা বলেন। রেল স্টেশনে কোনো রেস্ট রুম নাই জানালে তিনি ডাকবাংলায় রেস্ট রুমের ব্যবস্থা করে দেওয়ার সহযোগিতা চান। এরপর তিনি ঈশ্বরদী হতে পুলিশ দিয়ে যশোরগামী ট্রেনে উঠিয়ে দেওয়ার জন্য নির্দেশ প্রদান করেন। একপর্যায়ে উক্ত ব্যক্তির কথাবার্তা ও আচরণে অসঙ্গতি লক্ষ্য করে পুলিশের সন্দেহ হয়।
পরে তাৎক্ষণিকভাবে তার পরিচয় যাচাই-বাছাই শুরু করে পুলিশ। যাচাই শেষে নিশ্চিত হওয়া যায়, তিনি কোনো বিচারক নন; বরং ভুয়া যুগ্ম ও জেলা দায়রা জজ পরিচয় দিয়ে প্রতারণার উদ্দেশে সেখানে অবস্থান করছিলেন। পরবর্তীতে জিজ্ঞাসাবাদে তিনি আরও জানান, তিনি ভুয়া যুগ্ম জেলা ও দায়রা জজ পরিচয় দানকারী, তিনি জেলা ও দায়রা জজ আদালত যশোরের সেরেস্তাদার হিসাবে কর্মরত ছিলেন এবং বর্তমানে চাকরিচ্যুত। আটক ব্যক্তির নাম সৈয়দ জিয়া পীর মোহাম্মদ আলী (জিয়া)। তিনি যশোর জেলার কোতোয়ালি থানার বাগমারা গ্রামের মৃত আব্দুল আলীমের ছেলে।
স্থানীয় সূত্রে আরও জানা যায়, তিনি আগে ভূমি অফিসে তহশিলদার হিসেবে কর্মরত ছিলেন। তবে নৈতিক স্খলনের অভিযোগে তিনি চাকরি হারান। এদিকে ঘটনার সময় তার সঙ্গে থাকা নারী পরিস্থিতি বুঝতে পেরে দ্রুত স্থান ত্যাগ করেন।