
চুয়াডাঙ্গায় গরমের শুরুতেই গলে যাচ্ছে রাস্তার পিচ। এছাড়া তাপমাত্রা গড়িয়েছে ৩৬ ডিগ্রির ওপরে। কয়েকদিন আগে হালকা শীতের আমেজ থাকলেও হঠাৎ তাপমাত্রার ঊর্ধ্বগতি জনজীবনকে অস্থির করে তুলেছে। এক লাফে তাপমাত্রা বেড়ে মৃদু তাপপ্রবাহ শুরু হওয়ায় জেলার বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষ চরম ভোগান্তিতে পড়েছেন। গত কয়েক দিন বৃষ্টি না থাকায় গরম বেড়েছে।
গতকাল বুধবার বিকালে চুয়াডাঙ্গায় সর্বোচ্চ তাপমাত্রা রেকর্ড করা হয়েছে ৩৬ দশমিক ৩ ডিগ্রি সেলসিয়াস। এ সময় বাতাসের আর্দ্রতা ছিল ৩৮ শতাংশ, যা গরমের তীব্রতা আরও বাড়িয়ে দিয়েছে।
হঠাৎ এই তাপমাত্রা বৃদ্ধিতে সবচেয়ে বেশি বিপাকে পড়েছেন খেটে খাওয়া মানুষ ও মোটরসাইকেলের চালকরা। বিশেষ করে জেলার বিভিন্ন তেল পাম্পে দীর্ঘ লাইনে দাঁড়িয়ে থাকা চালকদের দুর্ভোগ চরমে পৌঁছেছে। সরেজমিনে দেখা যায়- জেলা শহরের চুয়াডাঙ্গা পৌরসভা সামনের সড়কে কয়েক জায়গায় রাস্তার পিচ গলে গেছে। মোটরসাইকেল-যানবাহন চলাচলের সময় তা গাড়ির টায়ারেও লেপ্টে যাচ্ছে। চুয়াডাঙ্গা শহরের একটি ডাবের দোকানে থাকা ক্রেতা সাইফুল ইসলাম বলেন, আসলে আমরা চুয়াডাঙ্গার মানুষ জানি, এ জেলায় শীতের সময় শীত বেশি আবার গরমের সময় গরম বেশি। এখনও গরমের মৌসুম সেভাবে আসে নাই, এখনই দেখছি রাস্তার পিচ গলে যাচ্ছে। রাস্তা দিয়ে যাওয়ার সময় রাস্তার তাপ বেশি অনুভূত হচ্ছে। একটা অসহনীয় অবস্থা।
নাম প্রকাশ করে এক ইজিবাইক চালক বলেন, রোদের তাপ হচ্ছে ও গরমের জন্য গাড়ি চালানো কষ্ট হচ্ছে। চুয়াডাঙ্গা শহরের মোটরসাইকেল চালক রকিবুল ইসলাম বলেন, এই গরমে লাইনে দাঁড়িয়ে থাকা খুব কষ্টকর। মাথা ঘুরে যায়। তেল নিতেই ঘণ্টার পর ঘণ্টা অপেক্ষা করতে হচ্ছে, এর মধ্যে গরমে শরীর একেবারে ক্লান্ত হয়ে যাচ্ছে। অন্য চালক হাশেম বলেন, সকাল থেকে লাইনে দাঁড়িয়ে আছি। রোদে দাঁড়িয়ে থাকতে থাকতে শরীর খারাপ হয়ে যাচ্ছে। তেলের জন্য যেমন কষ্ট, তার ওপর এই গরম দুটো মিলে অবস্থা খুব খারাপ।
শুধু চালকরাই নয়, দিনমজুরদের অবস্থাও করুণ হয়ে উঠেছে। তীব্র রোদে কাজ করতে গিয়ে অনেকেই অসুস্থ হয়ে পড়ছেন। চুয়াডাঙ্গা প্রথম শ্রেণির আবহাওয়া পর্যবেক্ষণাগারের সিনিয়র পর্যবেক্ষক সাইদুর রহমান বলেন, চলতি মৌসুমে প্রথমবারের মতো তাপমাত্রা ৩৬ ডিগ্রি অতিক্রম করেছে। জেলার ওপর দিয়ে বর্তমানে মৃদু তাপপ্রবাহ বয়ে যাচ্ছে, যা আগামী কয়েকদিন অব্যাহত থাকতে পারে।