
কুষ্টিয়ার মিরপুর উপজেলার বারুইপাড়া ইউনিয়নের ছত্রগাছা মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের একটি কক্ষে ষষ্ঠ শ্রেণির ছাত্রীকে ধর্ষণের ঘটনায় ওই বিদ্যালয়ের পিয়ন মো. হামিদুল ইসলামকে (৫২) গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। ভুক্তভোগী ওই ছাত্রীর মা বাদী হয়ে গত শুক্রবার রাতে পিয়ন হামিদুলের নাম উল্লেখ করে একটি ধর্ষণ মামলা দায়ের করেন। গতকাল শনিবার বিষয়টি জানিয়েছেন মিরপুর থানার ওসি শহিদুল ইসলাম।
জানা যায়, গত বৃহস্পতিবার সকাল ৯টার দিকে ওই ছাত্রী এসএসসি পরীক্ষার্থীদের বিদায় অনুষ্ঠানে অংশ নিতে বিদ্যালয়ে যায়। কিন্তু সন্ধ্যা হয়ে গেলেও সে বাড়িতে ফিরে না আসায় পরিবারের সদস্যরা উদ্বিগ্ন হয়ে বিভিন্ন স্থানে খোঁজাখুঁজি শুরু করেন। পরে রাত ৮টার দিকে তারা বিদ্যালয়ে গিয়ে পিয়ন হামিদুলের কাছে মেয়েটির খোঁজ জানতে চান। এ সময় পিয়ন দাবি করেন, বিদ্যালয়ে কেউ নেই এবং তিনি বিদ্যালয়ের চাবি দিতেও অস্বীকৃতি জানায়। এ নিয়ে পরিবারের সদস্যদের সঙ্গে তার কথা কাটাকাটি হয়। বিষয়টি জানাজানি হলে স্থানীয় লোকজন সেখানে জড়ো হয়ে জোরপূর্বক পিয়ন হামিদুলের কাছ থেকে চাবি নিয়ে বিদ্যালয়ে প্রবেশ করে। এ সময় বিদ্যালয়ের নিচতলায় ওই ছাত্রীর পায়ের স্যান্ডেল, দোতালায় স্কুল ব্যাগ পাওয়া যায় এবং তিন তলার একটি শ্রেণিকক্ষ থেকে অচেতন অবস্থায় ওই স্কুল ছাত্রীকে উদ্ধার করা হয়।
পরে মিরপুর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নেওয়া হলে সেখানে কর্তব্যরত চিকিৎসক তাকে উন্নত চিকিৎসার জন্য কুষ্টিয়া ২৫০ শয্যা বিশিষ্ট জেনারেল হাসপাতালে রেফার্ড করেন। বর্তমানে ওই ছাত্রী হাসপাতালের গাইনি ওয়ার্ডে চিকিৎসাধীন রয়েছে। কুষ্টিয়া জেনারেল হাসপাতালের আবাসিক মেডিকেল অফিসার (আরএমও) ডা. হোসেন ইমাম জানান, ওই ছাত্রীর স্বাস্থ্য পরীক্ষা করে ধর্ষণের আলামত পাওয়া গেছে। তিনি বর্তমানে আশঙ্কামুক্ত রয়েছে এবং হাসপাতালের গাইনি ওয়ার্ডে তার চিকিৎসা চলছে।
মিরপুর থানার ওসি শহিদুল ইসলাম বলেন, এ ঘটনায় বিদ্যালয়ের পিয়ন হামিদুল ইসলামকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। ওই ছাত্রীর মা শুক্রবার রাতে বাদী হয়ে একটি মামলা করেছেন। মামলা নং ৬। গ্রেপ্তার পিয়ন হামিদুলকে আদালতে পাঠানো হয়েছে। জিজ্ঞাসাবাদের জন্য আদালতে আসামির রিমান্ড চাওয়া হবে।