
পিরোজপুরের মঠবাড়িয়ায় হৃদরোগ বিশেষজ্ঞ পরিচয় দিয়ে দীর্ঘ দিন ধরে সাধারণ মানুষের সঙ্গে প্রতারণা করে আসা এক ভুয়া ডাক্তারকে গ্রেপ্তার করেছে ভ্রাম্যমাণ আদালত। গতকাল রোববার দুপুরে পৌর শহরের দক্ষিণ বন্দর এলাকায় অভিযান চালিয়ে তাকে গ্রেপ্তার করা হয়। তবে গ্রেপ্তারের পর নিজের আসল পরিচয় লুকাতে ওই ব্যক্তি বারবার নাম পরিবর্তন করে এবং নিজের জাতীয় পরিচয়পত্র দেখাতে অস্বীকৃতি জানান। আটক ব্যক্তি নিজেকে ডা. লিয়াকত হোসেন পরিচয় দিয়ে উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের সামনের বিভিন্ন ক্লিনিকে হৃদরোগ ও মেডিসিন বিশেষজ্ঞ হিসেবে চিকিৎসা দিয়ে আসছিলেন। প্রশাসন সূত্রে জানা যায়, প্রায় এক মাস আগে এক প্রসূতি মাকে পরীক্ষা করে তার গর্ভের সন্তান মারা গেছে বলে ভুল রিপোর্ট দেন ওই কথিত ডাক্তার। পরে ডা. সৌমিত্র মজুমদার আল্ট্রাসনোগ্রাফি করে দেখেন বাচ্চাটি জীবিত ও সুস্থ। এই ঘটনার পর তার প্রেসক্রিপশনের ভুল ও অসংলগ্নতা দেখে স্থানীয় চিকিৎসকদের সন্দেহ আরও ঘনীভূত হয়। তাকে পর্যবেক্ষণে রাখার পর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের আরএমও ডা. সৌমিত্র সিনহা প্রশাসনকে বিষয়টি জানান। পরে সহকারী কমিশনার (ভূমি) ও নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট সুদীপ্ত দেবনাথের নেতৃত্বে অভিযান চালিয়ে দক্ষিণ বন্দর গোডাউন সংলগ্ন মসজিদের পাশে সাদেকা ভিলার নিচতলা থেকে তাকে আটক করা হয়। আটকের পর জিজ্ঞাসাবাদে ওই ব্যক্তি একেক সময় একেক নাম বলে বিভ্রান্তি তৈরি করছেন। প্রথমে নিজেকে ডা. লিয়াকত হোসেন দাবি করলেও বিএমডিসি ডাটাবেজে তার সত্যতা মেলেনি। পরবর্তীতে তিনি ডা. নুরুল ইসলাম এবং সর্বশেষে ‘উরিং চাং’ নামে এক চাকমা চিকিৎসকের পরিচয় দেন। বিস্ময়কর বিষয় হলো, জিজ্ঞাসাবাদের সময় তিনি তার আসল পরিচয় নিশ্চিত করতে কোনো জাতীয় পরিচয়পত্র বা বৈধ কাগজপত্র দেখাতে পারছেন না। এমনকি নিজের স্থায়ী ঠিকানার ব্যাপারেও বারবার মিথ্যা তথ্য দিচ্ছেন।