ঢাকা বুধবার, ২২ এপ্রিল ২০২৬, ৯ বৈশাখ ১৪৩৩ | বেটা ভার্সন

বৈরী আবহাওয়ায় লিচুর ফলনে বিপর্যয়

বৈরী আবহাওয়ায় লিচুর ফলনে বিপর্যয়

দিনাজপুরের বীরগঞ্জে বিখ্যাত লিচু নিয়ে বেশ দুশ্চিন্তায় রয়েছেন কৃষক। বৈরী আবহাওয়ার কারণে এবার লিচুর ফলন নেই বাগানগুলোতে। যতটুকু ফলন এসেছে, সেটুকু বাঁচাতেই বাগানে এখন ব্যস্ত সময় পার করছেন চাষিরা। তবে দাম ভালো পেলে ক্ষতি কিছুটা কাটিয়ে উঠবে বলে জানিয়েছেন তারা। স্থানীয় কৃষি বিভাগের পক্ষ থেকে লিচু চাষিদের কারিগরি সহযোগিতা প্রদান করা হচ্ছে। উৎপাদন খরচ কমাতে কৃষি অফিসের পরামর্শ অনুযায়ী কিটনাশক স্প্রে করার পরামর্শ সংশ্লিষ্টদের।

লিচুর রাজধানী দিনাজপুরের বীরগঞ্জ উপজেলা বীরগাথাও পৌরসভার বিভিন্ন বাগানে গিয়ে দেখা যায়, গাছে গাছে থোকায় থোকায় ঝুলছে সবুজ রঙের লিচু। এ উপজেলায় ছোট-বড় আড়াই হাজার হেক্টর জমিতে লিচুর বাগান রয়েছে। যা থেকে প্রতিবছর লিচু উৎপাদন হয় প্রায় ১৫ হাজার টন।

উপজেলার ১১টি ইউনিয়নে ও ১টি পৌরসভায় লিচুর বাগান বেশি রয়েছে। মাদ্রাজী, বম্বাই, বেদানা, চায়না থ্রি, হাড়িয়া, কাঁঠালীসহ বিভিন্ন জাতের লিচু হয় এখানে। এবার আবহাওয়া অনুকূলে না থাকায় লিচুর ফলন নিয়ে বেশ দুশ্চিন্তায় রয়েছেন চাষি ও বাগানীরা। এছাড়াও ফলনের সঙ্গে লিচুর লক্ষমাত্রা নিয়েও রয়েছে শঙ্কা। অসময়ে বৃষ্টিপাতসহ শিলা পড়ে নষ্ট হয়ে গেছে উপজেলার বেশিরভাগ বাগানের লিচু। পাশাপাশি দিন দিন বৃদ্ধি পাচ্ছে উৎপাদন খরচ।

কৃষক ও বাগান চাষিরা জানান, কৃষকের এবার মরার উপর খাঁরার ঘা হয়ে দাড়িছে। তবে যতটুকু ফলন রয়েছে দাম ভালো পেলে ক্ষতি কিছুটা হলেও কাটিয়ে উঠবেন বলে জানালেন তারা। উপজেলা কৃষি কৃষিবিদ মো. শরিফুল ইসলাম জানান, লিচুর ফলন বৃদ্ধির জন্য স্থানীয় কৃষি অফিস থেকে কারিগরি সহায়তা প্রদান করা হচ্ছে। সেই সঙ্গে লিচুর উৎপাদন খরচ নিয়ন্ত্রণে রাখতে নিয়মানুযায়ী কিটনাশক স্প্রে করার পরামর্শ দিলেন এই কৃষি কর্মকর্তা। বাজারে লিচু আসতে এখনও মাসখানেক বাকি। তাই লিচু চাষিদের লোকসানের মুখ থেকে বাঁচাতে বাজার ব্যবস্থাপনাসহ লিচু রপ্তানির জন্য এখন থেকেই সরকারি বেসরকারিভাবে পরিকল্পনার প্রয়োজন বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।

আরও পড়ুন -
  • সর্বশেষ
  • সর্বাধিক পঠিত