ঢাকা শুক্রবার, ২৪ এপ্রিল ২০২৬, ১১ বৈশাখ ১৪৩৩ | বেটা ভার্সন

চবির শাটল ট্রেন সংস্কারে ১১ দফা দাবি শিক্ষার্থীদের

চবির শাটল ট্রেন সংস্কারে ১১ দফা দাবি শিক্ষার্থীদের

চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ে (চবি) দীর্ঘদিন ধরে চলমান শাটল ট্রেন সংকট নিরসনে এবার ১১ দফা দাবি জানিয়েছে শিক্ষার্থীরা। এতে ট্রেন সংখ্যা বৃদ্ধি, বিকল্প রুট নির্মাণ এবং বিদ্যমান কোচ বাড়ানোর মতো গুরুত্বপূর্ণ প্রস্তাব অন্তর্ভুক্ত রয়েছে। গতকাল বৃহস্পতিবার দুপুর ১টার দিকে প্রশাসনিক ভবনের সামনে অবস্থান কর্মসূচি শেষে শিক্ষার্থীদের পক্ষ থেকে ১১ দফা দাবি পেশ করেন চাকসুর যোগাযোগ ও আবাসন বিষয়ক সম্পাদক ইসহাক ভুঁঞা।

এ সময় শিক্ষার্থীদের হাতে ‘বাপ-দাদার আমলের বগি, পরিবর্তন কর করতে হবে’, ‘শাটলের ঢিল ছুড়ে, প্রশাসন ঝিম মারে’, ‘শাটলের নিরাপত্তা, নিশ্চিত করতে হবে’, ‘ছাত্র মরে গরমে, ভিসি থাকে এসিতে’, ‘প্রক্টর থাকে এসিতে, ছাত্র মরে গরমে’ ইত্যাদি প্লেকার্ড দেখা যায়।

অবস্থান কর্মসূচিতে ইসহাক ভুঁঞা বলেন, আমরা দীর্ঘদিন ধরে শাটল ট্রেনের নানা সমস্যার কথা প্রশাসনের কাছে তুলে ধরেছি। কিন্তু সেগুলোর সমাধান আলোচনার মাধ্যমে আসেনি। তাই আমরা বাধ্য হয়েছি আন্দোলনে নামতে। আমি বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রশাসনের কাছে ১১টি দাবি জানিয়েছে। এই দাবিগুলো আগামী রোববার দুপুর ১২টার মধ্যে মেনে না নিলে আমরা আরও কঠোর কর্মসূচিতে যাব।

চবি শিক্ষার্থীদের ১১ দফা দাবি হলো :

১. ট্রেন সংখ্যা বৃদ্ধি : বন্ধ হয়ে যাওয়া ডেমো ট্রেনের স্থলে দ্রুত সময়ের মধ্যে শিক্ষার্থী সংখ্যার সঙ্গে সঙ্গতিপূর্ণভাবে অন্তত আরও একটি নতুন ট্রেন চালু করতে হবে। যাতে অতিরিক্ত ভিড় কমে এবং নিরাপদ যাতায়াত নিশ্চিত হয়।

২. শাটল ট্রেনের বিকল্প রুট তৈরি ও অপারেশন ব্যবস্থার উন্নয়ন : শুধুমাত্র একটি রুটে শাটল ট্রেন পরিচালনার ফলে বারবার ক্রসিং জটিলতা ও সময় অপচয় রোধে দ্বৈত লাইন চালুর পরিকল্পনা গ্রহণ করতে হবে। শাটল ট্রেনের নিরবিচ্ছিন্ন চলাচল নিশ্চিত করতে অন্যান্য যাত্রীবাহী ও তেলবাহী ট্রেনের সময়সূচির সঙ্গে সমন্বয় সাধন করতে হবে।

৩. কোচ বৃদ্ধির ব্যবস্থা : শাটলে ভিড় কমাতে বিদ্যমান ২টি ট্রেনে দ্রুত সময়ের মধ্যে প্রয়োজনীয় সংখ্যক কোচ সংযোজন করতে হবে।

৪. নির্দিষ্ট সময়সূচি অনুযায়ী ট্রেন চলাচল নিশ্চিতকরণ : শিডিউল বিপর্যয় রোধে ট্রেন নির্ধারিত সময়ে চলাচল নিশ্চিত করতে হবে। পাশাপাশি যেকোনো জরুরি পরিবর্তনের আগে বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন ও শিক্ষার্থীদের আগেই অবহিত করতে হবে।

৫. নিরাপত্তা কর্মী নিয়োগ : শিক্ষার্থীদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করার লক্ষ্যে ২টি শাটলের প্রতিটি বগিতে নিরাপত্তা কর্মী নিয়োগ করতে হবে।

৬. ইলেকট্রনিক সুবিধা নিশ্চিতকরণ : প্রতিটি ট্রেনে কার্যকর পাওয়ার কার, লাইট ও ফ্যান সচল রাখা এবং বৈদ্যুতিক সুবিধার মানোন্নয়ন নিশ্চিত করতে হবে। বগির ভেতরের তার ও বৈদ্যুতিক সংযোগগুলো নিরাপদভাবে ঢেকে রাখা, স্ট্যান্ডার্ড ওয়্যারিং সিস্টেম চালু করা।

৭. শাটল ট্রেনের গতি বৃদ্ধি : বিদ্যমান ট্রেনগুলোর যান্ত্রিক সক্ষমতা পর্যালোচনা করে গতি বৃদ্ধির প্রযুক্তিগত ব্যবস্থা গ্রহণ করতে হবে, যাতে শিক্ষার্থীদের মূল্যবান সময় অপচয় না হয়।

৮. বগি সংস্কার ও রক্ষণাবেক্ষণ : বগিগুলোর ফ্লোরের গর্ত, ভাঙা জানালা, দরজা ও সিটগুলো দ্রুত মেরামত করতে হবে। পাশাপাশি ট্রেনগুলোর নিয়মিত রক্ষণাবেক্ষণ, যান্ত্রিক ত্রুটি চিহ্নিতকরণ ও প্রতিকার নিশ্চিত করতে হবে। প্রতিটি বগিতে পরিষ্কার পরিচ্ছন্নতা বজায় রাখতে পরিচ্ছন্নতা কর্মী নিয়োগ করতে হবে।

৯. স্টেশন অবকাঠামো ও পরিবেশ উন্নয়ন : প্রতিটি স্টেশনে যথাযথ আলোকসজ্জা, পরিচ্ছন্নতা ব্যবস্থা জোরদার, শিক্ষার্থীদের চলাচল সহজ করতে সুশৃঙ্খল প্রবেশ ও নির্গমন ব্যবস্থাপনা গড়ে তোলা।

১০. স্টেশন প্ল্যাটফর্মের উন্নয়ন ও সম্প্রসারণ : বিশ্ববিদ্যালয় স্টেশনসহ শাটল রুটে থাকা অন্যান্য স্টেশনগুলোর প্ল্যাটফর্মের দৈর্ঘ্য বর্ধিত করে এমনভাবে তৈরি করতে হবে, যাতে ট্রেনের সমস্ত কোচ প্ল্যাটফর্মে ওঠে এবং শিক্ষার্থীদের নিরাপদভাবে ওঠানামার সুযোগ হয়। এছাড়া, প্রতিটি প্ল্যাটফর্মে ছাউনি, পর্যাপ্ত বসার ব্যবস্থা, আলোকসজ্জা ও অন্যান্য সুবিধা নিশ্চিত করতে হবে, যেন শিক্ষার্থীরা কোনো ভোগান্তি ছাড়াই রোদণ্ডবৃষ্টি থেকে সুরক্ষা পান।

১১. শাটল স্টেশন ও ট্রেনে নিরাপত্তা ব্যবস্থা জোরদার : বিশ্ববিদ্যালয় স্টেশনসহ প্রতিটি স্টেশনে পর্যাপ্ত নিরাপত্তা কর্মী নিয়োগ, সিসিটিভি ক্যামেরা স্থাপন ও কার্যকর নজরদারি ব্যবস্থা করা, ট্রেন ও স্টেশন এলাকায় প্রতিদিনের নিয়মিত টহল ও রেলওয়ে পুলিশের তৎপরতা বৃদ্ধি করা।

আরও পড়ুন -
  • সর্বশেষ
  • সর্বাধিক পঠিত