ঢাকা মঙ্গলবার, ২৮ এপ্রিল ২০২৬, ১৫ বৈশাখ ১৪৩৩ | বেটা ভার্সন

রংপুরে আশীর্বাদ হয়ে এলো বৃষ্টি, বাঁচল ৫০ কোটি টাকা

* ডিজেল নিয়ে সংকটের মধ্যে আমরা অনেক কৃষক ঠিকমতো সেচ দিতে পারি নাই
রংপুরে আশীর্বাদ হয়ে এলো বৃষ্টি, বাঁচল ৫০ কোটি টাকা

রংপুরে বোরো আবাদে সেচ নিয়ে যখন দুঃশ্চিন্তায় কৃষক, তখন আশীর্বাদ হয়ে নেমে এসেছে বৃষ্টি। শুকিয়ে যাওয়া ফসলের খেত পানিতে ভরে গেছে। এতে আগামী দুই থেকে তিনটি সেচ সাশ্রয় হয়েছে কৃষকের। ফলে সেচ খাতে ৫০ কোটি টাকার অর্থ সাশ্রয় হচ্ছে। কমবে বোরোর উৎপাদন খরচও।

রংপুর কৃষি বিভাগ সূত্র জানায়, দোনপ্রতি (২৪ শতক) কৃষকের একবার সেচ দিতে খরচ হয় প্রায় ১২৫ টাকা। তিন বার সেচ দিতে দোনপ্রতি কমপক্ষে ৩৭৫ টাকা খরচ করলে হেক্টর প্রতি কৃষকের খরচ হতো ৩ হাজার ৭০০ টাকা। এ বছর রংপুরে ১ লাখ ৩২ হাজার ৮৩৫ হেক্টর জমিতে বোরো আবাদ হয়েছে। হিসাব অনুযায়ী কৃষকের সেচ সাশ্রয় হচ্ছে প্রায় ৫০ কোটি টাকা।

রংপুর মিঠাপুকুর উপজেলার ইসলামপুরের কৃষক আজিজার রহমান বলেন, ডিজেল নিয়ে সংকটের মধ্যে আমরা অনেক কৃষক ঠিকমতো সেচ দিতে পারি নাই। গত শনিবার থেকে রংপুরে বৃষ্টি হওয়ায় খেতগুলো পানিতে পরিপূর্ণ হয়ে গেছে। কমপক্ষে তিনটি সেচ আমাদের বেঁচে গেল। এতে ধানের আবাদ ভালো হবে। তবে ভারী বৃষ্টি হতে থাকলে নিচু জমিগুলোতে জলাবদ্ধতা দেখা যাবে। আমরা আবহাওয়া দেখে ফসলের দিকে নজর রাখছি।

রংপুর নগরীর নজিরেরহাটের কৃষক শ্যামল রায় বলেন, সার, কীটনাশকের বেশি দামের কারণে উৎপাদন খরচ বেড়েছিল, তা বৃষ্টির কারণে সেচ কম লাগবে বলে কিছুটা লাঘব হবে। বর্তমানে আমার খেত পানিতে পরিপূর্ণ। উঁচু জমি হওয়ায় বৃষ্টি নিয়ে কোনো ধরনের সমস্যা হবে না। এছাড়া বৃষ্টিতে খেতে পানি জমায় নানা ধরনের পোকাণ্ডমাকড়ের হাত থেকে ফসল রক্ষা পাবে।

রংপুর কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের উপ-পরিচালক সিরাজুল ইসলাম বলেন, রংপুরে বৃষ্টিপাত কৃষকের জন্য আশীর্বাদ হয়েছে। এতে কৃষকের সেচ সাশ্রয় হওয়ায় উৎপাদন খরচ কমেছে। শনিবার ও রবিবার রংপুর জেলার ৮ উপজেলা ও রংপুর কৃষি অঞ্চলের ৫টি জেলাতেই বৃষ্টি হয়েছে। বর্তমানে ধানের প্রজনন মৌসুম চলছে। এ সময় ক্ষেতে পানির প্রয়োজন ছিল। যে পরিমাণ বৃষ্টি হয়েছে, আগামী ১০ থেকে ১২ দিন খেতে পানি দেওয়ার প্রয়োজন পড়বে না। যদি এমন আবহাওয়া বিরাজ করে তবে এবার কম সেচেই বোরো উৎপাদন করা যাবে। এছাড়া বোরো খেতে জলাবদ্ধতা নিরসনের জন্য কৃষকদের পরামর্শ দেওয়া হচ্ছে।

রংপুর আবহাওয়া অফিস জানিয়েছে, রংপুরসহ পার্শ্ববর্তী এলাকায় গভীর সঞ্চালনশীল মেঘমালা তৈরি হতে পারে। এতে রবিবার থেকে বৃহস্পতিবার পর্যন্ত রংপুর বিভাগে ভারী থেকে অতিভারী বৃষ্টিপাতের পূর্বাভাস রয়েছে। এতে অস্থায়ী জলাবদ্ধতাও দেখা দিতে পারে। আবহওয়া অফিস রবিবার দুপুর ১২টা থেকে সোমবার দুপুরে ১২টা পর্যন্ত রংপুর বিভাগে ১৪৫ দশমিক ৩ মিলিমিটার বৃষ্টিপাত রেকর্ড করেছে।

রংপুর আবহওয়া কর্মকর্তা মোস্তাফিজার রহমান বলেন, রংপুরে বজ্রসহ ভারী বৃষ্টিপাত হচ্ছে। এটি ৫ দিন ধরে চলমান থাকার পূর্বাভাস রয়েছে। এ তথ্য কৃষি বিভাগসহ সংশ্লিষ্টদের জানিয়ে দেওয়া হয়েছে। তারা প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করছে। যেহেতু বজ্রপাত হচ্ছে, তাই সাধারণ মানুষকে চলাচলের ক্ষেত্রে সাবধানতা অবলম্ব করতে হবে।

আরও পড়ুন -
  • সর্বশেষ
  • সর্বাধিক পঠিত