ঢাকা মঙ্গলবার, ০৫ মে ২০২৬, ২২ বৈশাখ ১৪৩৩ | বেটা ভার্সন

ব্রি’র নতুন ডিজি নিয়োগ ঘিরে দুই পক্ষের মুখোমুখি অবস্থান

কার্যালয়ে তালা
ব্রি’র নতুন ডিজি নিয়োগ ঘিরে দুই পক্ষের মুখোমুখি অবস্থান

গাজীপুরে অবস্থিত বাংলাদেশ ধান গবেষণা ইনস্টিটিউটে (ব্রি) নতুন মহাপরিচালক (ডিজি) নিয়োগকে কেন্দ্র করে চরম উত্তেজনা বিরাজ করছে। নবনিযুক্ত ডিজি ড. মো: আমিনুল ইসলামকে ‘ফ্যাসিবাদের দোসর ও দুর্নীতিবাজ’ আখ্যা দিয়ে নিয়োগ বাতিলের দাবিতে বিক্ষোভ করছেন বিজ্ঞানী ও কর্মকর্তা-কর্মচারীদের একটি অংশ। বিপরীতে, নিয়োগকে সঠিক দাবি করে পাল্টা অবস্থান নিয়েছে আরেকটি পক্ষ। গতকাল সোমবার সকাল থেকেই দুই পক্ষ ব্যানার ও বিপুল সংখ্যক লোকবল নিয়ে ব্রি মহাপরিচালকের কার্যালয়ের সামনে অবস্থান নিয়ে পাল্টাপাল্টি স্লোগান দিতে থাকে। এ সময় আন্দোলনকারীরা প্রতিষ্ঠানের বিভিন্ন কক্ষে তালা ঝুলিয়ে কর্মবিরতি পালন শুরু করেন। অনাকাঙ্ক্ষিত পরিস্থিতি এড়াতে প্রতিষ্ঠান চত্বরে পুলিশি নিরাপত্তা জোরদার করা হয়েছে।

আন্দোলনরত বিজ্ঞানীদের দাবি, সাম্প্রতিক প্রজ্ঞাপনের মাধ্যমে যাকে ডিজি হিসেবে নিয়োগ দেওয়া হয়েছে, তিনি বিগত সরকারের সময়ে ‘বিতর্কিত’ কর্মকাণ্ডের সঙ্গে জড়িত ছিলেন। গুরুত্বপূর্ণ এই প্রতিষ্ঠানের নেতৃত্বে বিতর্কতি কাউকে আনা হলে গবেষণা কার্যক্রম ব্যাহত হবে এবং প্রতিষ্ঠানটির স্বাভাবিক পরিবেশ নষ্ট হবে। এই নিয়োগ বাতিল না করা পর্যন্ত তারা আন্দোলন চালিয়ে যাবেন এবং নতুন নিয়োগপ্রাপ্ত ডিজিকে ইনস্টিটিউটে প্রবেশ করতে দেওয়া হবে না। ব্রি. বিজ্ঞানী সমিতির নির্বাচিত সহ-সভাপতি ড. এ বি এম আনোয়ার উদ্দিন বলেন, গত এক মাস ধরে মহাপরিচালকের পদটি শূন্য ছিল।

গতকাল যাকে নিয়োগ দেওয়া হয়েছে, তিনি বিগত সরকারের আমলের সুবিধাভোগী ও দোসর। কুমিল্লায় থাকাকালীন তার বিরুদ্ধে দুর্নীতির অভিযোগ প্রমাণিত হয়েছে। ফ্যাসিস্ট আমলের নানা বিতর্কিত কর্মকাণ্ডে তিনি নেতৃত্ব দিয়েছেন। বিজ্ঞানী সমিতির সাধারণ সম্পাদক ড. হাবিবুর রহমান মুকুল জানান, ব্যক্তিগত কোনো বিরোধ নয়, বরং তার বিতর্কিত অতীত এবং জ্যেষ্ঠতা লঙ্ঘন করে পদ বাগিয়ে নেওয়ার কারণে সাধারণ বিজ্ঞানী ও শ্রমিকরা ক্ষুব্ধ। এই নিয়োগ বাতিল না হওয়া পর্যন্ত আমরা নতুন ডিজিকে প্রতিষ্ঠানে প্রবেশ করতে দেব না। অন্যদিকে, নিয়োগের পক্ষে অবস্থান নেওয়া আন্দোলনকারীরা বলছেন ভিন্ন কথা। তাদের দাবি, দীর্ঘ ১ মাস ডিজি না থাকায় প্রতিষ্ঠানের প্রশাসনিক কাজে স্থবিরতা নেমে এসেছে এবং কর্মকর্তা-কর্মচারীরা গত মাসের বেতন পাননি। নতুন ডিজির পক্ষে অবস্থান নেওয়া প্রতিবাদীরা জানান, মন্ত্রণালয় নিয়ম মেনেই ডিজি নিয়োগ দিয়েছে। আমরা তাকে স্বাগত জানাতে এসেছি। যারা তার বিরোধিতা করছে, তারাই মূলত প্রতিষ্ঠানের শৃঙ্খলা নষ্ট করতে চাইছে। নবনিযুক্ত ডিজি ড. মো: আমিনুল ইসলাম বলেন, আমি মনে করি এখানে কোনো পক্ষ নেই। ধান গবেষণায় যারা কাজ করে, তাদের একটাই লক্ষ্য থাকে দেশকে খাদ্যে স্বয়ংসম্পূর্ণ করা। এইভাবে এখানে আওয়ামী লীগ, বিএনপি, জামায়াত, জাতীয় পার্টি এইভাবে ভাগ করার কোনো সুযোগ নেই। হয়তো কারো মনে ইয়ে থাকতে পারে, কারও মনে হয়তো একটা সাপোর্ট থাকতে পারে- সেটা তারা অন্তরের বিষয়। আর এটা মনে করার কোন কারণ নেই, এখানে সবাই এক দল সাপোর্ট করবে, তাই না? বিভিন্ন জনের মতামত থাকবে কিন্তু এখানে সরকারি কর্মকর্তা হিসেবে কর্মচারী হিসেবে কোনো রাজনৈতিক মতপ্রকাশের সুযোগ নেই। তিনি আরও বলেন, আমি সবাইকে নিয়ে বসব। বিভাগীয় প্রধানরা আছেন, বিজ্ঞানী সমিতি আছে, সবাইকে নিয়ে বসব। বসে আমরা করণীয় কি, কি কারণে এটা হচ্ছে, এটা আমাকে সবার সঙ্গে আলোচনা করে খতিয়ে দেখতে হবে- কারণটা কি? আসলে পক্ষ হওয়ার তো কোনো সুযোগ নেই। আমি মনে করি, কিছু একটা ভুল বোঝাবুঝি হয়েছে। কারণ তাদের বিষয়টা জানা থাকতে হবে, সরকারি আদেশ এটা, একদম রাষ্ট্রপতির আদেশক্রমে এই নিয়োগটা করা হয়েছে।

এখন এটা তো রাষ্ট্রদ্রোহিতার সামিল হয়ে যাবে- যদি আমরা আদেশটা না মানি। সুতরাং আশা করি কোন পক্ষ নাই, হয়তো ভুল বোঝাবুঝির কারণে এটা করতেছে তারা। বর্তমানে ব্রি প্রাঙ্গণে উভয় পক্ষের মুখোমুখি অবস্থানের কারণে থমথমে পরিস্থিতি বিরাজ করছে। আন্দোলনকারীরা তাদের দাবিতে অনড় থাকায় এবং নতুন ডিজি এখনও দায়িত্ব বুঝে নিতে না পারায় প্রশাসনিক ও গবেষণা কার্যক্রমে অচলাবস্থা সৃষ্টি হয়েছে। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে পুলিশ সতর্ক অবস্থানে রয়েছে।

আরও পড়ুন -
  • সর্বশেষ
  • সর্বাধিক পঠিত