
সিরাজগঞ্জে ঝড় ও প্রবল বৃষ্টির আশংকায় ইরি বোরো ধান কাটা পুরোদমে শুরু হয়েছে। এ কারণে কৃষকেরা ব্যস্ত সময় পার করছে। এ ধান কাটতে এখন শ্রমিক সংকট ও তার মজুরি বৃদ্ধি পেয়েছে। অবশেষে কৃষকেরা ভাড়ায় কম্বাইন হারভেস্টার (ধান কাটার মেশিন) দিয়ে দিনরাত ধান কাটছে। সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা যায়, জেলার ৯টি উপজেলার বিভিন্ন স্থানে ১ লাখ ৪২ হাজার হেক্টর জমিতে ইরি বোরো ধান চাষাবাদের লক্ষ্যমাত্রা ধরা হয়েছিল। কৃষকেরা এ লক্ষ্যমাত্রার চেয়ে কিছুটা বেশি চাষাবাদ করেছে এবং উৎপাদনের লক্ষ্যমাত্রা ধরা হয়েছে ৬ লাখ ৯ হাজার ১৫০ মেট্রিক টন। এ চাষাবাদে সার ও কীটনাশক প্রয়োগ এবং আবহাওয়া অনুকূলে থাকায় বাম্পার ফলন হয়েছে। গত মাসের মাঝামাঝি থেকে এ ধান কাটা ও মাড়াই শুরু হয়েছে। তবে কয়েকদিন ধরে দফায় দফায় ঝড়ো হাওয়া ও বৃষ্টির কারণে এ ধান কাটা নিয়ে কৃষকেরা বিপাকে পড়েছে। এরমধ্যে শস্যভাণ্ডার খ্যাত সিরাজগঞ্জের চলনবিল এলাকার তাড়াশ, রায়গঞ্জ, শাহজাদপুর ও উল্লাপাড়া উপজেলার কৃষকেরা বেশি বিপাকে পড়েছে। স্থাানীয় কৃষকেরা বলছেন, ঝড় ও প্রবল বৃষ্টির আশংকায় এ জেলায় ইরি বোরো ধান কাটা এখন পুরোদমে শুরু হয়েছে এবং কৃষকেরা ব্যস্ত সময় পার করছে। বর্তমানে প্রতি কামলা সংকট ও তার মজুরি বৃদ্ধি পেয়েছে এবং ৮০০ টাকা থেকে ৯০০ টাকা দিয়েও কামলা পাওয়া যাচ্ছে না। অবশেষে জেলার বিভিন্ন স্থান থেকে কম্বাইন হারভেস্টার মেশিন ভাড়া এনে কৃষকেরা এ ধান কাটছে দিনরাত। এ মেশিনে ধান কাটা মাড়াই ও বস্তাজাতও করা হয়। প্রতিবিঘা ধান কাটতে এ মেশিন মালিক ভাড়া নিচ্ছে ৩ হাজার ৩০০ টাকা। তাও আবার এ মেশিনও অনেক স্থানে পাওয়া যাচ্ছে না। অবশেষে কৃষকেরা বেশি দামে কামলা কিনে এ ধান কাটছে। তারা আক্ষেপ করে আরও বলছেন, সরকার ধান ক্রয় অভিযান শুরু করলেও নানা কারণে এ ধান বিক্রি করতে পারছি না। যে কারণে সরকারি মূল্যর চেয়ে কম দামে স্থানীয় হাট বাজারে এ ধান বিক্রি করতে হচ্ছে। এমনকি এ ধান বিক্রি করে কাটা ও মাড়াই খরচে হিসাব মিলছে না। স্থানীয় কৃষি বিভাগের একজন কর্মকর্তা বলছেন, জেলায় ৬৮টি কম্বাইন হারভেস্টার মেশিন এ ধান কাটা ও মাড়াই কাজে রয়েছে। ব্যক্তি মালিকানা এসব মেশিনগুলো জেলার বিভিন্ন স্থানে ধান কাটছে। বিগত সরকার আমলে জাপান ও চীন থেকে এসব ধান কাটা মেশিন আনা হয়েছিল। এ বিষয়ে জেলা কৃষি বিভাগের উপ-পরিচালক একেএম মঞ্জুরে মাওলা বলেন, এবার ইরি-বোরো ধানের বাম্পার ফলন হয়েছে। ঝড় ও প্রবল বৃষ্টির আশংকায় এ ধান কাটতে কৃষকেরা ব্যস্ত সময় পার করছে। কামলা সংকট ও মূল্য বৃদ্ধির কারণে অনেক কৃষক কম্বাইন হারভেস্টার মেশিন দিয়ে ধান কাটছে। এরইমধ্যেই ৭০% ধান কাটা শেষ হয়েছে বলে তিনি উল্লেখ করেন।