ঢাকা রোববার, ০৭ জুন ২০২৬, ২৪ জ্যৈষ্ঠ ১৪৩৩ | বেটা ভার্সন

সাভারে শ্রমিক ছাঁটাই, ন্যায্য পাওনার দাবিতে বিক্ষোভ

সাভারে শ্রমিক ছাঁটাই, ন্যায্য পাওনার দাবিতে বিক্ষোভ

ঢাকার সাভারে ঈদের ছুটিতে মুঠোফোনে খুদে বার্তার মাধ্যমে আল-মুসলিম গ্রুপের তৈরি পোশাক কারখানার ১,৮৬৮ শ্রমিক ছাঁটাই করা হয়েছে। ঈদের ছুটিতে পরিবার-পরিজন নিয়ে গ্রামের বাড়িতে যান আল্পনা আক্তার। কিন্তু ছুটির মধ্যেই তার মুঠোফোনে কর্মস্থল (আল-মুসলিম গ্রুপ) থেকে পাঠানো একটি খুদে বার্তায় জানতে পারেন, বাংলাদেশ শ্রম আইনের ২০ ধারা অনুযায়ী তাকে ছাঁটাই করা হয়েছে। এই ছোট্ট খুদে বার্তা তার ঈদের আনন্দ ম্লান করে দেয়। আল্পনার মতো আরও ১ হাজার ৮৬৭ জন শ্রমিক ও স্টাফকেও ঈদের ছুটির মধ্যে একইভাবে ছাঁটাই করা হয়। তবে এই বার্তা অনেকেই জানতেন না।

ঈদের ছুটি শেষে গতকাল শনিবার সকালে প্রথম কর্মদিবসে কর্মস্থলে এসে কারখানায় প্রবেশ করতে না পেরে ক্ষোভে ফেটে পড়েন ছাঁটাই হওয়া শ্রমিকেরা। সকাল ৯টার দিকে কয়েকশ’ শ্রমিক ঢাকা-আরিচা মহাসড়কের ঢাকাগামী লেন অবরোধ করে বিক্ষোভ শুরু করেন। এতে সড়কের একপাশে যান চলাচলে বিঘ্ন সৃষ্টি হয়। এর ঘণ্টা খানেক পর ১০টার দিকে পুলিশ কর্মকর্তাদের অনুরোধে শ্রমিকরা অবরোধ তুলে নেয়। শ্রমিকদের অভিযোগ, তাদের শ্রম আইনের ২৬ ধারা অনুযায়ী ছাঁটাই না করে ২০ ধারা প্রয়োগ করা হয়েছে। ফলে ৩ মাসের বেতনের সমপরিমাণ অর্থসহ অন্যান্য প্রাপ্য সুবিধা থেকে তারা বঞ্চিত হয়েছেন। শ্রমিক সংগঠনের নেতারাও দাবি করেছেন, ছাঁটাই প্রক্রিয়ায় শ্রম আইন যথাযথভাবে অনুসরণ করা হয়নি।

আল-মুসলিম গ্রুপের পক্ষ থেকে জানানো হয়, ব্যবসায়িক মন্দা ও ক্রয়াদেশ কমে যাওয়ায় অতিরিক্ত জনবল কমানোর সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। গ্রুপটির তিনটি কারখানায় কর্মরত ১৬ হাজার ২০০ শ্রমিক ও ১০ হাজার ৮০০ স্টাফের মধ্যে মোট ১ হাজার ৮৬৮ জনকে ছাঁটাই করা হয়েছে। এর মধ্যে উলাইল এলাকার একেএম নিটওয়্যার লিমিটেডের ১ হাজার ২৮৬ জন, রেডিও কলোনির প্যাসিফিক ব্লু জিনস ওয়্যারের ৫২৯ জন এবং আশুলিয়ার আল-মুসলিম অ্যাপারেলসের ৫৩ জন শ্রমিক ও স্টাফ রয়েছেন।

অপারেটর সাগরিকা বেগম বলেন, ‘আমি ২০১৭ সাল থেকে আল-মুসলিম গ্রুপের কর্মরত। আগাম কোনো নোটিশ ছাড়াই ঈদের ছুটির মধ্যে মোবাইলে বার্তা পাঠিয়ে আমাকে ছাঁটাই করা হয়েছে। এতে আমি চরম অনিশ্চয়তার মধ্যে পড়েছি।’ তিনি আরও দাবি করেন, শ্রম আইনের ২৬ ধারা অনুযায়ী ছাঁটাই করা হলে চাকরির ৯ বছরের জন্য ৯টি মূল বেতনের সমপরিমাণ অর্থ, তিন মাস ১৩ দিনের বেতন এবং অন্যান্য সুবিধা পাওয়ার কথা ছিল। কিন্তু তাকে বিকাশের মাধ্যমে মাত্র ১ লাখ ৩ হাজার টাকা পাঠানো হয়েছে, যার কোনো বিস্তারিত হিসাব দেওয়া হয়নি।

আরেক শ্রমিক বিপ্লব হোসাইন বলেন, দেড় বছর আগে চাকরিতে যোগ দিয়েছিলাম। কী কারণে আমাকে ছাঁটাই করা হয়েছে, সেটিও জানানো হয়নি। চাকরি চলে যাওয়ার বিষয়ে আপত্তি নেই, তবে আইন অনুযায়ী পাওনা বুঝিয়ে দিতে হবে। বাংলাদেশ গার্মেন্টস অ্যান্ড শিল্প শ্রমিক ফেডারেশনের কেন্দ্রীয় সভাপতি রফিকুল ইসলাম সুজন বলেন, সর্বশেষ নিয়োগপ্রাপ্ত শ্রমিকদের ক্ষেত্রে শ্রম আইনের ২০ ধারা প্রযোজ্য হতে পারে। তবে দীর্ঘদিন কর্মরত শ্রমিকদের ছাঁটাই করতে হলে ২৬ ধারা অনুযায়ী ৩ মাসের বেতনসহ অন্যান্য সুবিধা দিতে হয়। আল-মুসলিম গ্রুপ এই শ্রমিক ছাঁটাইয়ের ক্ষেত্রে সেই বিধান অনুসরণ করা হয়নি। তবে আল-মুসলিম গ্রুপের উপমহাব্যবস্থাপক (প্রশাসন) মো. আবু রায়হান বলেন, ব্যবসায়িক সংকট ও ক্রয়াদেশ কমে যাওয়ায় শ্রম আইনের ২০ ধারা অনুযায়ী অতিরিক্ত জনবল ছাঁটাই করা হয়েছে। নিয়ম অনুযায়ী সংশ্লিষ্ট শ্রমিকদের সব আইনগত পাওনা ও বকেয়া পরিশোধ করা হয়েছে।

আশুলিয়া শিল্প পুলিশ-১ এর পুলিশ সুপার মোমিনুল ইসলাম ভূঁইয়া বলেন, ২৬ ধারা অনুযায়ী শ্রমিকরা আনুমানিক আরও ১ মাসের বেতনসহ অন্যান্য সুবিধা পেতে পারেন। এ বিষয়ে আল-মুসলিম গ্রুপের এমডি ও সংসদ সদস্য শেখ মোহাম্মদ আব্দুল্লাহ স্যারের সঙ্গে কথা হয়েছে। তিনিও শ্রমিকদের পাওনা পরিশোধে আগ্রহ প্রকাশ করেছেন। কর্তৃপক্ষ সংশ্লিষ্ট শ্রমিকদের সঙ্গে আলোচনা করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণের প্রতিশ্রুতি দিয়েছেন।

আরও পড়ুন -
  • সর্বশেষ
  • সর্বাধিক পঠিত