ঢাকা শনিবার, ০১ আগস্ট ২০২৬, ১৭ শ্রাবণ ১৪৩৩ | বেটা ভার্সন

রাজবাড়ী প্রধান ডাকঘরের ১৩ কর্মকর্তার বিরুদ্ধে সমন জারি

রাজবাড়ী প্রধান ডাকঘরের ১৩ কর্মকর্তার বিরুদ্ধে সমন জারি

প্রতারণা ও জালিয়াতির মাধ্যমে সাদা কাগজে দাপ্তরিক সিল ব্যবহার করে অর্ধশতাধিক গ্রাহকের কাছ থেকে প্রায় কোটি টাকা আত্মসাতের অভিযোগে রাজবাড়ী প্রধান ডাকঘরের পোস্টমাস্টারসহ ১৩ জনের বিরুদ্ধে সমন জারি করেছেন আদালত। গত বৃহস্পতিবার ভুক্তভোগী গ্রাহকদের পক্ষে নাছরিন আক্তার রাজবাড়ীর অতিরিক্ত চিফ জুডিসিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট ও সদর আমলি আদালতে দণ্ডবিধির ৪০৬ ও ৪২০ ধারায় মামলা দায়ের করলে বিচারক মো. হায়দার আলী মামলাটি গ্রহণ করে অভিযুক্তদের বিরুদ্ধে সমন ইস্যুর আদেশ দেন।

মামলার অভিযোগে বলা হয়, রাজবাড়ী প্রধান ডাকঘরের তৎকালীন পোস্টমাস্টার বিকাশ চন্দ্রসহ কয়েকজন কর্মকর্তা-কর্মচারীর সহযোগিতায় লেটার রাইটার শিহাব মৃধা মেয়াদি সঞ্চয় হিসাব খোলার নামে বিভিন্ন সময়ে ৬১ জন গ্রাহকের কাছ থেকে সাদা স্লিপের মাধ্যমে প্রায় কোটি টাকা গ্রহণ করেন। পরে সেই অর্থ সরকারি কোষাগারে জমা না দিয়ে আত্মসাৎ করা হয় বলে অভিযোগ করা হয়েছে। মামলার আসামিরা হলেন- রাজবাড়ী প্রধান ডাকঘরের তৎকালীন পোস্টমাস্টার বিকাশ চন্দ্র, লেটার রাইটার শিহাব মৃধা, পিএলআই এজেন্ট মাহবুব মৃধা, লেটার রাইটার মাহবুবুর রহমান, পোস্টাল অপারেটর নাজমুল হাছান, ট্রেজারার পবিত্র কুমার সরকার, এমএলএসএস মো. রেজাউল আলম, পোস্টাল অপারেটর মো. গোলাম মোস্তফা বাচ্চু, পোস্টাল অপারেটর এস এম নুরুজ্জামান, পোস্টাল অপারেটর আসমা আক্তার, প্যাকার কাম মেইল ক্যারিয়ার বিউটি রানী দাস, পোস্টাল কর্মচারী নুরুল মাসুদ ও রোকসানা আক্তার।

বাদীপক্ষে আদালতে শুনানি করেন অ্যাডভোকেট অশোক কুমার ঘোষ-২, অ্যাডভোকেট নজরুল ইসলাম লাভলু এবং অ্যাডভোকেট খান মো. জহুরুল হক।

জানা গেছে, গত ১২ জুলাই কুষ্টিয়া বিভাগীয় ডাক কার্যালয়ের কর্মকর্তারা তদন্তে এসে ঘটনার মূল অভিযুক্ত লেটার রাইটার শিহাব মৃধাকে ডাকঘরে পেলেও তাকে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর কাছে হস্তান্তর করা হয়নি। এরপর থেকেই তিনি পলাতক রয়েছেন। তার বাড়িতে খোঁজ নিয়েও তাকে পাওয়া যায়নি। এদিকে ভুক্তভোগী গ্রাহকরা তাদের আমানতের টাকা ফেরতের দাবিতে নিয়মিত ডাকঘরে আসছেন। অভিযোগ ওঠার পর তৎকালীন পোস্টমাস্টার বিকাশ চন্দ্রকে কুষ্টিয়ায় বদলি করা হয়েছে। এ ঘটনায় গত ১৬ জুলাই খুলনা দক্ষিণাঞ্চলের পোস্টমাস্টার জেনারেল (চলতি দায়িত্ব) কবির আহমেদের স্বাক্ষরিত আদেশে চার সদস্যের একটি তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়। কমিটির সভাপতি করা হয়েছে খুলনা দক্ষিণাঞ্চলের অতিরিক্ত পোস্টমাস্টার জেনারেলকে। সদস্য সচিব হিসেবে রয়েছেন খুলনা সার্কেল অফিসের সুপারিন্টেনডেন্ট (তদন্ত)। এছাড়া ডেপুটি পোস্টমাস্টার জেনারেল (তদন্ত), দক্ষিণাঞ্চল, খুলনা এবং কুষ্টিয়া বিভাগের ডেপুটি পোস্টমাস্টার জেনারেলকে সদস্য করা হয়েছে।

তদন্ত কমিটিকে দ্রুত তদন্ত শেষ করে দায়-দায়িত্ব নির্ধারণ, প্রয়োজনীয় সুপারিশ এবং সরকারি ক্ষতির কারণ ও প্রতিকার বিষয়ে প্রতিবেদন জমা দিতে নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। রাজবাড়ী প্রধান ডাকঘরের নবাগত পোস্টমাস্টার শামীম আহমেদ বলেন, “২০২১ সাল থেকে শিহাব মৃধা হেল্পিং হ্যান্ড হিসেবে লেটার রাইটারের দায়িত্ব পালন করতেন। তিনি সরকারি কর্মচারী নন। ডাক অধিদপ্তরের নির্দেশনা অনুযায়ী এ ধরনের কর্মীরা বিভিন্ন ডাকঘরে দায়িত্ব পালন করেন। অভিযোগ রয়েছে, মেয়াদি সঞ্চয় হিসাব খোলার নামে গ্রাহকদের কাছ থেকে টাকা নিয়ে সরকারি কোষাগারে জমা না দিয়ে তিনি প্রায় অর্ধশত গ্রাহকের প্রায় কোটি টাকা আত্মসাৎ করেছেন। চলতি বছরের জানুয়ারি থেকে জুনের মধ্যে এসব ঘটনা ঘটে। গ্রাহকরা সঞ্চয়পত্রের বই না পাওয়ায় বিষয়টি প্রকাশ্যে আসে। তিনি আরও বলেন, আমি গত ৬ জুলাই রাজবাড়ী প্রধান ডাকঘরে যোগদান করেছি। যোগদানের পর বিষয়টি জানতে পেরে ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষকে অবহিত করি। তাদের পরামর্শে থানায় সাধারণ ডায়েরি করতে গেলে পুলিশ মামলা করার পরামর্শ দেয়। পরে বিষয়টি কুষ্টিয়া বিভাগীয় কার্যালয় এবং খুলনা সার্কেল অফিসে জানানো হয়। বর্তমানে চার সদস্যের তদন্ত কমিটি কাজ করছে। তদন্ত প্রতিবেদন পাওয়ার পর পরবর্তী আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

আরও পড়ুন -
  • সর্বশেষ
  • সর্বাধিক পঠিত