ঢাকা সোমবার, ৩১ আগস্ট ২০২৬, ১৬ ভাদ্র ১৪৩৩ | বেটা ভার্সন

পাথরঘাটায় বিভিন্ন সময়ে ট্রলারডুবিতে ৩৪৯ জেলে নিহত

নিখোঁজ ৬৮
পাথরঘাটায় বিভিন্ন সময়ে ট্রলারডুবিতে ৩৪৯ জেলে নিহত

জীবিকার তাগিদে বঙ্গোপসাগরে মাছ ধরতে গিয়ে ঝড়ের কবলে পড়ে ট্রলার ডুবে প্রতিবছর অনেক জেলে নিহত এবং নিখোঁজ হচ্ছেন উপকূলীয় জেলা বরগুনার পাথরঘাটা উপজেলার জেলেরা| ঝড়, জলোচ্ছ্বাস, উত্তাল ঢেউ ও বৈরী আবহাওয়ার কবলে ট্রলারডুবির পাশাপাশি গভীর সমুদ্রে যোগাযোগব্যবস্থার সীমাবদ্ধতাও বাড়াচ্ছে মৃত্যুর এ ঝুঁকি| নিখোঁজ জেলেদের অনেকেরই বছরের পর বছর সন্ধান না মেলায় অনিশ্চয়তায় দিন কাটছে স্বজনদের| নিখোঁজ জেলেরা জীবিত বা মৃত তালিকায় আনার জন্য সরকারি হিসেব অনুযায়ী ১২ বছর পার হতে হবে| সরকারি ভাবে হিসাবে না আসলে সাহায্য সহযোগিতা ও তেমন একটা পান না জেলে পরিবার | স্বজনের লাশ পাওয়া তো দূরের কথা ১২ বছর পার না হলে তাকে মৃত্যু বলেও শিকার করেননা প্রশাসন| ট্রলার ডুবির ঘটনার পর জেলে নিখোঁজ এবং মৃত্যুর পরিবারকে স্থানীয় কিছু সমাজ সেবক এবং রাজনৈতিক নেতারা কিছু সাহায্য সহযোগিতা করে থাকেন| কিন্তু কিছুদিন পার হয়ে যাওয়ার পর তারাও আর কোন খোঁজখবর নেন না| সংসারের একমাত্র উপার্জনক্ষম ব্যক্তিকে হারিয়ে অভাব অনটনের মধ্যেই তারা দিন পার করেন| এর মধ্য থেকে রেখে যাওয়া বাবা মা এবং ছোট ছোট সন্তানদের লেখাপড়া এবং চিকিৎসার সবকিছুই বহন করতে হয় তার স্ত্রীকে| পাথরঘাটা উপজেলা প্রশাসনের তথ্য অনুযায়ী, ২০০৭ সালে সিডরে নিহত হয়েছেন পাথরঘাটা উপজেলার ৩৪৯ জন জেলে এবং নিখোঁজ হন ৬৮ জন জেলে| বেসরকারি হিসেবে মৃত এবং নিখোঁজের সংখ্যা এরচেয়ে অনেক বেশি| নিহত জেলেদের মধ্যে পাথরঘাটা পৌরসভায় ১৩ জন, রায়হানপুর ইউনিয়নের ৯ জন, নাচনাপাড়া ইউনিয়নে ২ জন, চরদুয়ানী ইউনিয়নে ৪১ জন, পাথরঘাটা সদর ইউনিয়নে ১২৯ জন, কালো মেঘা ইউনিয়নে ৪১ জন, কাকচিড়া ইউনিয়নে ৭৭ জন ও কাঁঠালতলী ইউনিয়নে ৩৭ জন জেলে সরকারের নিহতদের তালিকায় আছেন|

বরগুনা জেলা ট্রলার শ্রমিক ইউনিয়নের সাবেক সভাপতি দুলাল মাস্টার দাবি করেন প্রতি বছরই বঙ্গোপসাগরে ট্রলার ডুবি এবং জলদস্যু দের হামলার ঘটনায় ১৫ থেকে ২০ জন জেলে সাগরে মাছ ধরতে গিয়ে মারা যায় এবং আহত হন শত শত জেলে| নিহত এবং নিখোঁজ এসব জেলের তালিকা প্রকাশ করে দুই বছর আগে পাথরঘাটা উপজেলা পরিষদের সামনে স্মৃতিফলক উন্মোচন করে উপজেলা প্রশাসন| সর্বশেষ ২০২৬ সালের ২৪ আগস্ট বৈরী আবহাওয়ার কবলে পড়ে 'এফবি বরকত' ট্রলারডুবির ঘটনায় পাঁচ জেলে নিখোঁজ হন| পরে একজনের মরদেহ উদ্ধার হলেও বাকি চারজনের সন্ধান এতদিনেও মেলেনি| নিহত এবং আহত জেলে পরিবারে দুই মাসের সংসার চালাতে চাল, ডাল, তেলসহ বিভিন্ন খাদ্য সামগ্রী পৌঁছে দিয়েছেন পাথরঘাটা উপজেলা বিএনপির সাবেক আহ্বায় বদিউজ্জামান সাহেদ|

সিডারে নিখোঁজ জেলে ইউসুফ আলীর ছোট ভাই ইয়াকুব আলী বলেন, ভাই দুই সন্তান রেখে সাগরে গিয়েছিল| আর ফেরেনি|

আরও পড়ুন -
  • সর্বশেষ
  • সর্বাধিক পঠিত