
রাঙামাটির লংগদু উপজেলার মাইনীমুখ ইউনিয়নের গাঁথাছড়া গ্রামের প্রতিবন্ধী আমেনা বেগম তার পাঁচ মাসের শিশুকন্যা আফরিন রুমির চিকিৎসা খরচ জোগাতে চরম দূরবস্থায় দিন কাটাচ্ছেন। জন্মের পর থেকেই শিশু রুমি শারীরিক প্রতিবন্ধকতার শিকার— মাথা সোজা করে নাড়াতে পারে না এবং শরীরের বিভিন্ন অংশে মারাত্মক জটিলতা রয়েছে। চিকিৎসকরা জানিয়েছেন, রুমির মাথায় পানি জমেছে এবং জরুরি ভিত্তিতে মাথায় 'ওয়াশ' (অস্ত্রোপচার) করাতে হবে।
জন্মের পর প্রতিবন্ধী সন্তান প্রসব করায় আমেনাকে মেনে নেননি তার স্বামী। নিরুপায় হয়ে তিনি শিশুকন্যাকে নিয়ে ফিরে এসেছেন বাপের বাড়িতে। সম্প্রতি সিলেট অঞ্চলে তার বিয়ে হয়েছিল, কিন্তু ভাগ্যের নির্মম পরিহাসে সন্তান অসুস্থ হওয়ায় স্থান মেলেনি স্বামীর সংসারেও।
আমেনার বাপের বাড়ির অবস্থাও অত্যন্ত করুণ। তার পিতা মরহুম তারা মিয়া বেঁচে থাকতে ভিক্ষা করে সংসার চালাতেন। পিতামাতাহীন আমেনার নিজের বলতে মাথা গোঁজার মতো শক্ত কোনো ঠাঁই নেই, নেই চিকিৎসার মতো ন্যূনতম সাধ্য। সন্তানের জীবন বাঁচাতে এখন তিনি মানুষের দুয়ারে দুয়ারে ঘুরছেন। আমেনা বেগম বলেন, আমার বাবা-মা দুজনেই মারা গেছেন, তারা ভিক্ষা করতেন। থাকার মতো নিজস্ব কোনো জায়গা নেই, আর রুমির চিকিৎসার খরচ চালানোর মতো কোনো সামর্থ্যও আমার নেই।
এ বিষয়ে স্থানীয় বাসিন্দারা জানান, জন্মের পর থেকেই শিশুটি অসুস্থ। স্বামীও গ্রহণ না করায় মেয়েটি বাপের বাড়িতে ফিরে এসে সহায়-সম্বলহীন অবস্থায় সাহায্য চেয়ে বেড়াচ্ছে। সবাই যদি এই মুহূর্তে এগিয়ে না আসে, তবে ছোট্ট রুমিকে বাঁচানো সম্ভব হবে না। মাইনীমুখ ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান কামাল হোসেন কমল জানান, প্রতিবন্ধী শিশু রুমিকে নিয়ে তার মা আমাদের কাছে এসেছিলেন। আমরা সার্বিক বিষয়ে অবগত আছি। ইউনিয়ন পরিষদের পক্ষ থেকে সাধ্যমতো সাহায্যের হাত বাড়িয়ে দেওয়া হবে। তবে সমাজের বিত্তবানরা এগিয়ে আসলে শিশুটিকে সুস্থ করে তোলা সম্ভব হবে।