ঢাকা বৃহস্পতিবার, ১০ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ২৬ ভাদ্র ১৪৩৩ | বেটা ভার্সন

প্রতারণা মামলায় এনসিপি নেত্রী কারাগারে

প্রতারণা মামলায় এনসিপি নেত্রী কারাগারে

ফ্যামিলি কার্ড দেওয়ার কথা বলে টাকা নেওয়ার অভিযোগে আটক এনসিপি নেত্রী সাদিয়া আক্তারের বিরুদ্ধে নেত্রকোনা সদর থানায় প্রতারণার মামলা হয়েছে। গত মঙ্গলবার রাতে মামলাটি করেন প্রিয়া আক্তার নামে একজন ভুক্তভোগী। এর আগে সন্ধ্যায় নেত্রকোনা পৌর শহরের কুড়পাড় এলাকা তাকে আটক করে পুলিশে দেন এলাকাবাসী। গতকাল বুধবার আদালতের মাধ্যমে তাকে কারাগারে পাঠানো হয়েছে।গ্রেপ্তার সাদিয়া আক্তার নেত্রকোনা সদর উপজেলার মদনপুর ইউনিয়নের তেঁতুলিয়া গ্রামের সাইফুল ইসলামের মেয়ে। তিনি নেত্রকোনা সরকারি কলেজের অনার্স তৃতীয় বর্ষের শিক্ষার্থী। নেত্রকোনা জেলা শহরের কুড়পাড় এলাকায় পরিবারের সঙ্গে বসবাস করেন। তিনি জেলা এনসিপির সাংগঠনিক সম্পাদক বলে জানান নেত্রকোনা সদর থানার ওসি আবুল খায়ের।

জানা গেছে, এনসিপি নেত্রী সাদিয়া আক্তার ফ্যামিলি কার্ড দেওয়ার কথা বলে স্থানীয় কয়েকজনের কাছ থেকে তিন হাজার করে টাকা নিয়েছেন। গত মঙ্গলবার বিকালে নেত্রকোনা পৌর শহরের কুড়পাড় এলাকায় আবার টাকা আনতে গেলে এলাকাবাসী তাকে আটক করে পুলিশে খবর দেন। পরে ওইদিন সন্ধ্যায় পুলিশ গিয়ে তাকে আটক করে থানায় নিয়ে যায়। পরে মঙ্গলবার রাতে পৌর শহরের বলাইগুয়া এলাকার বাসিন্দা সুমন মিয়ার স্ত্রী প্রিয়া আক্তার বাদী হয়ে প্রতারণার অভিযোগে সাদিয়ার বিরুদ্ধে মামলা করেন। পুলিশ গতকাল বুধবার তাকে গ্রেপ্তার দেখিয়ে আদালতে পাঠায়। পরে বিচারক তাকে করাগারে পাঠানোর নির্দেশ দেন। বাদী প্রিয়া আক্তার বলেন, আমিসহ পাঁচজনের কাছ থেকে তিন হাজার করে টাকা নিয়েছেন। মঙ্গলবার সকালে আমাকে ফ্যামিলি কার্ড করে দেবে বলে সাদিয়া জানান। ওই দিন বিকেলে আরেক নারীর কাছ থেকে তিন হাজার টাকা নিতে গেলে স্থানীয় লোকজন তাকে আটক করেন। তিনি আমাদের সঙ্গে প্রতারণা করেছেন। আমি এর বিচার পেতে মামলা করেছি।

নেত্রকোনা সদর উপজেলা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক তাজ উদ্দিন ফারাস সেন্টু জানান, ফ্যামিলি কার্ড দেওয়ার কথা বলে টাকা হাতিয়ে নেওয়ার অভিযোগে সাদিয়া আক্তার নামে এনসিপি নেত্রীকে আটকের কথা শুনেছেন তিনি। সদর উপজেলায় ফ্যামিলি কার্ড দেওয়ার বিষয়ে এখনও আলোচনা বা সিদ্ধান্ত হয়নি। ফ্যামিলি কার্ড দেওয়ার কথা বলে কেউ টাকা চাইলে তাকে আটক করে পুলিশে সোপর্দ করার আহ্বান জানান তিনি। পুলিশ হেফাজতে থাকায় সাদিয়া আক্তারের সঙ্গে কথা বলা সম্ভব হয়নি। তবে জেলা এনসিপির সদস্য সচিব ফাহিম রহমান খান পাঠান বলেন, বিষয়টি খোঁজ নিয়ে দেখা হচ্ছে। মনে হয় তিনি (সাদিয়া) চক্রান্তের শিকার। তার বিরুদ্ধে পরিকল্পিত ষড়যন্ত্র হতে পারে। তিনি কোনো সংগঠনবিরোধী কর্মকাণ্ডে জড়িত থাকলে তার বিরুদ্ধে সাংগঠনিক ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

সদর থানার ওসি আবুল খায়ের জানান, ফ্যামিলি কার্ড দেওয়ার কথা বলে টাকা হাতিয়ে নেওয়ার অভিযোগে জেলা এনসিপির সাংগঠনিক সম্পাদক সাদিয়া আক্তারকে আটক করা হয়। পরে প্রতারণার মামলায় গ্রেপ্তার দেখিয়ে আদালতের মাধ্যমে কারাগারে পাঠানো হয়েছে।

আরও পড়ুন -
  • সর্বশেষ
  • সর্বাধিক পঠিত