
ফরিদপুরে আইন-শৃঙ্খলা পরিস্থিতি স্বাভাবিক রাখা এবং নাগরিক দুর্ভোগ কমাতে একাধিক গুরুত্বপূর্ণ সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। মাদক ব্যবসা ও চোরাচালান বন্ধে অভিযান জোরদার, চুরি-ডাকাতি ও অপরাধ নিয়ন্ত্রণ, অবৈধ পার্কিং বন্ধ, মহাসড়কে ইজিবাইকসহ থ্রি-হুইলার চলাচল নিয়ন্ত্রণ এবং শহরের গুরুত্বপূর্ণ এলাকায় বখাটে ও দালালচক্রের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়ার ওপর গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে। গতকাল রোববার জেলা প্রশাসকের কার্যালয়ের সম্মেলন কক্ষে অনুষ্ঠিত জেলা আইন-শৃঙ্খলা কমিটির মাসিক সভায় এসব সিদ্ধান্ত ও নির্দেশনা আসে। সকাল সাড়ে ১০টা থেকে দুপুর সাড়ে ১২টা পর্যন্ত অনুষ্ঠিত সভায় সভাপতিত্ব করেন জেলা প্রশাসক ও জেলা ম্যাজিস্ট্রেট মাজহারুল ইসলাম। সভায় প্রধান অতিথি ছিলেন ফরিদপুর-৩ আসনের সংসদ সদস্য চৌধুরী নায়াব ইউসুফ আহমেদ। সভায় পুলিশ সুপার শাহরিয়ার মোহাম্মদ মিয়াজী, সিভিল সার্জন ডা. মাহমুদুল হাসান, জামায়াতে ইসলামীর ফরিদপুর জেলা শাখার সাবেক আমির ও কেন্দ্রীয় মজলিসে শূরার সদস্য অধ্যাপক মো. আবদুত তাওয়াব, জেলা বিএনপির আহ্বায়ক সৈয়দ মোদাররেস আলী ইছা, যুগ্ম আহ্বায়ক সৈয়দ জুলফিকার হোসেন জুয়েল, সদস্য সচিব এ কে এম কিবরিয়া স্বপন, মহানগর বিএনপির আহ্বায়ক এফএম কাইয়ুম জঙ্গি, মহানগর যুবদলের সভাপতি বেনজীর আহমেদ তাবরিজ, ফরিদপুর প্রেসক্লাবের সভাপতি কবিরুল ইসলাম সিদ্দিকী ও সাধারণ সম্পাদক মাহবুব হোসেন পিয়ালসহ বিভিন্ন রাজনৈতিক দলের নেতারা এবং সরকারি দপ্তরের কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন। সভায় জেলার সামগ্রিক আইন-শৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিয়ে পর্যালোচনা করা হয়। সন্ত্রাস ও উগ্রবাদ প্রতিরোধের পাশাপাশি চুরি, ডাকাতি ও অন্যান্য অপরাধ নিয়ন্ত্রণে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর তৎপরতা আরও বাড়ানোর ওপর গুরুত্ব দেওয়া হয়। একই সঙ্গে মাদক ব্যবসা ও চোরাচালানের বিরুদ্ধে নিয়মিত অভিযান পরিচালনার বিষয়েও জোর দেওয়া হয়। সভায় ফরিদপুর শহরের দীর্ঘদিনের যানজট সমস্যাও গুরুত্ব পায়। অবৈধ পার্কিংয়ের কারণে সড়কে যান চলাচলে বিঘ্ন সৃষ্টি হচ্ছে উল্লেখ করে অবৈধ পার্কিং বন্ধে কার্যকর ব্যবস্থা নেওয়ার ওপর গুরুত্ব দেওয়া হয়। গুরুত্বপূর্ণ সড়কগুলোতে প্রয়োজন অনুযায়ী স্পিডব্রেকার, সাইন ও ট্রাফিক সিগন্যাল স্থাপনের বিষয়েও আলোচনা হয়। জোবাইদা ফিলিং স্টেশনের সামনের এলাকায় যানজট নিরসনে চলমান সড়ক নির্মাণকাজ দ্রুত শেষ করার জন্য সংশ্লিষ্টদের নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে। পাশাপাশি শহরের ব্যস্ত সড়কগুলোতে যান চলাচল স্বাভাবিক রাখতে সংশ্লিষ্ট দপ্তরগুলোর মধ্যে সমন্বয় বাড়ানোর তাগিদ দেওয়া হয়। অম্বিকা হল ও কোর্ট চত্বর এলাকায় বখাটেদের উৎপাত নিয়েও সভায় আলোচনা হয়। এসব এলাকায় আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে পুলিশের টহল বাড়ানোর সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।