ঢাকা সোমবার, ১৪ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ৩০ ভাদ্র ১৪৩৩ | বেটা ভার্সন

ঘরে ঢুকে ইউপি সদস্যকে কুপিয়ে হত্যা

ঘরে ঢুকে ইউপি সদস্যকে কুপিয়ে হত্যা

নিজ ঘরে ঢুকে ওয়ার্ড যুবলীগ সভাপতি আনোয়ার হোসেন (৪৫) মেম্বারকে এলোপাতাড়ি কুপিয়ে ও রগ কেটে হত্যা করেছে দুর্বৃত্তরা। এ সময় স্বামীকে বাঁচাতে গিয়ে দুর্বৃত্তদের ধারালো অস্ত্রের আঘাতে গুরুতর আহত হয়েছেন তার স্ত্রী। আশঙ্কাজনক অবস্থায় তাকে উদ্ধার করে হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে। গতকাল রোববার ভোর আনুমানিক ৪টার দিকে কুমিল্লার বাঙ্গরা উপজেলার শ্রীকাইল ইউনিয়নের উত্তর পেন্নই এলাকায় এই নৃশংসতার ঘটনা ঘটে। নিহত আনোয়ার হোসেন ওই এলাকার মৃত মনু মিয়ার ছেলে। তিনি শ্রীকাইল ইউনিয়নের ২ নম্বর ওয়ার্ডের বর্তমান ইউপি সদস্য এবং ওয়ার্ড যুবলীগের সভাপতির দায়িত্বে ছিলেন।

নিহতের পারিবারিক সূত্রে জানা যায়, রাতে স্ত্রী ও ছোট সন্তানকে নিয়ে নিজ কক্ষে ঘুমিয়ে ছিলেন আনোয়ার। গভীর রাতে একদল সশস্ত্র দুর্বৃত্ত ঘরের দরজা ভেঙে ভেতরে প্রবেশ করে। কিছু বুঝে ওঠার আগেই তারা আনোয়ারের ওপর ঝাঁপিয়ে পড়ে এবং ধারালো অস্ত্র দিয়ে এলোপাতাড়ি কোপাতে থাকে। একপর্যায়ে তারা আনোয়ারের হাত ও পায়ের রগ কেটে মৃত্যু নিশ্চিত করে। স্বামীকে বাঁচাতে স্ত্রী এগিয়ে এলে তাকেও কোপানো হয়, এতে তাঁর হাতের রগ কেটে যায়। পরে চিৎকার শুনে স্থানীয়রা এসে তাদের উদ্ধার করে হাসপাতালে পাঠান। হত্যাকাণ্ডটিকে পরিকল্পিত উল্লেখ করে নিহতের ভাই জালাল হোসেন ও প্রত্যক্ষদর্শী স্ত্রী অভিযোগ করেন, গত তিন বছর ধরে আনোয়ারকে এলাকায় ফেরানো নিয়ে স্থানীয় একটি পক্ষের সঙ্গে দেনদরবার চলছিল। অভিযোগ ওঠে, এলাকার ফিরোজ মেম্বারের ছেলে আনোয়ার, পিন্টু, হাসান ও জালাল নামের ব্যক্তিরা আনোয়ারের কাছে ১০ কোটি টাকা চাঁদা দাবি করে আসছিল। এই বিপুল অঙ্কের চাঁদা দিতে রাজি না হওয়াতেই রাজনৈতিক প্রতিপক্ষ ও চাঁদাবাজরা পরিকল্পিতভাবে এই হত্যাকাণ্ড ঘটিয়েছে। নিহতের স্ত্রী দাবি করেন, হামলার সময় তিনি কয়েকজন ঘাতককে চিনে ফেলেছেন।

স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, নিহত আনোয়ার দীর্ঘদিন আওয়ামী যুবলীগের রাজনীতির সঙ্গে সক্রিয়ভাবে যুক্ত ছিলেন। ২০২৪ সালের ৫ আগস্টের আগে এলাকায় তার একচ্ছত্র রাজনৈতিক প্রভাব ছিল। বিশেষ করে এলাকার অবৈধ ড্রেজার ও মাটি ব্যবসার একক নিয়ন্ত্রণ ছিল তার হাতে। ২০২৩ সালে ড্রেজারবিরোধী অভিযানে গেলে তৎকালীন সহকারী কমিশনারের (ভূমি) গাড়িতে হামলার অভিযোগ উঠেছিল আনোয়ার ও তার বাহিনীর বিরুদ্ধে। তবে তৎকালীন রাজনৈতিক প্রভাবে তিনি পার পেয়ে যান। পরবর্তীতে ২০২৪ সালের ৫ আগস্ট রাজনৈতিক পটপরিবর্তনের পর আনোয়ারের বাড়িতে ব্যাপক হামলা, ভাঙচুর ও অগ্নিসংযোগের ঘটনা ঘটে। এরপর থেকে তিনি দীর্ঘদিন এলাকাছাড়া ছিলেন। সম্প্রতি এলাকায় ফেরাকে কেন্দ্র করে দীর্ঘদিনের রাজনৈতিক বিরোধ, পূর্বশত্রুতা ও ড্রেজার ব্যবসার আধিপত্য নিয়ে নতুন করে উত্তেজনার সৃষ্টি হয়। বাঙ্গরা বাজার থানার ওসি শফিউল আলম জানান, প্রাথমিকভাবে ধারণা করা হচ্ছে পূর্বশত্রুতা ও আধিপত্য বিস্তারের জের ধরে এই হত্যাকাণ্ড ঘটেছে।

আরও পড়ুন -
  • সর্বশেষ
  • সর্বাধিক পঠিত