ঢাকা রোববার, ২০ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ৫ আশ্বিন ১৪৩৩ | বেটা ভার্সন

দশমিনায় আমন ধানের চারা রোপণে ব্যস্ত কৃষক

দশমিনায় আমন ধানের চারা রোপণে ব্যস্ত কৃষক

গত কয়েকদিনের বৃষ্টি শেষে তীব্র খরায় পুরোদমে ব্যস্ত সময় পার করছে পটুয়াখালীর দশমিনা উপজেলার আমনচাষিরা। বৃষ্টির পানিতে শুকিয়ে থাকা খাল, বিল ও জলাশয়ে পানি আর পানি। তীব্র খরায় শুকিয়ে যাওয়া ফসলের খেতেও ফিরে এসেছে আর্দ্রতা। নিচু জমিতে জমেছে বৃষ্টির পানি। আর এই সময়টায় রোপা আমন চাষে ব্যস্ত হয়ে উঠেছেন পটুয়াখালীর দশমিনা উপজেলার কৃষকরা। জমি প্রস্তুত, চাষাবাদ ও ধানের চারা রোপণে ব্যস্ত সময় পার করছেন চাষিরা। বিশেষ করে উপজেলার চরাঞ্চলের কৃষকরা নদীর পাড়ের জমিসহ ফসলি জমিতে ধান রোপণ করছেন।

উপজেলা কৃষি অফিষ সূত্রে জানা যায়, চলতি বছর উপজেলার সাতটি ইউনিয়নে বিভিন্ন জাতের সাড়ে ১৮ হাজার ২৫৮ হেক্টর জমিতে আমন ধান চাষের লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হয়েছে। যা গত বছরের তুলনায় প্রায় ১০০ হেক্টর জমিতে ধান রোপণ বেশি হয়েছে বলে দাবি কৃষি অফিসের। মূলত জুন-জুলাই মাস আমন ধান রোপণের সময়। এ বছর বৃষ্টিপাতও পিছিয়েছে। জুলাইয়ের মাঝামাঝি থেকে কৃষকরা আমনের চারা রোপণ শুরু করেছেন।

উপজেলার দশমিনা, বাঁশবাড়িয়া, চর-বোরহান, আলীপুরা, রনগোপালদী, বেতাগী সানকিপুর ও বহরমপুর এলাকায় আমনের ফলন ভালো হয়। এসব এলাকার কৃষকরা রোপা আমন ধানের চারা রোপণ করছেন বিস্তীর্ণ জমিতে। বৃষ্টি থাকায় কৃষকদের মধ্যে স্বস্তি দেখা দিয়েছে। ফসলি জমিতে বৃষ্টির ফলে ধান রোপণ সহজ হয়েছে বলেও জানান কৃষকরা।

দশমিনা সদর ইউনিয়নে ২ নম্বর ওয়ার্ড এলাকার কৃষক আব্দুর রহমান জানান, জমিতে আমন ধানের চাষ করা হচ্ছে। কিছুদিন আগে টানা খরা থাকায় সেচ দিয়ে জমিতে ধান লাগানো শুরু করেছিলাম। পরে বৃষ্টি শুরু হলে কৃষকদের মধ্যে স্বস্তি এসেছে। তিনি আরও বলেন, গত বছর প্রায় ৯ একর জমিতে রোপা আমন চাষ করছি। এতে আমার ব্যয় হয় প্রায় এক লাখ টাকা আর বিক্রি হয় দুই লাখ ৫০ হাজার টাকা। আর চলতি বছর ১০ একর জমিতে আমন চাষ করছি। এতে ব্যয় হবে ১ লাখ ৭০ হাজার টাকা। উপজেলা কৃষি বিভাগের নির্দেশনায় আমরা আমন চারা রোপণ করে আসছি।

উপজেলার বাঁশবাড়িয়া ইউনিয়নের দক্ষিণ দাসপাড়া গ্রামের কৃষক শংকর চন্দ্র শীল, দেলোয়ার হোসেন হাওলাদার, আলাউদ্দিন হাওলাদার, জামাল মৃধা, আবুল হোসেন মৃধা ও বহরমপুর ইউনিয়নের বগুড়া গ্রামের ইউনুচ তালুকদার, গিয়াস উদ্দিন ও আলতাফ হোসেন জানান, চলতি মৌসুমের শুরুর দিকে বৃষ্টিপাত একটু কম থাকলেও শেষ মূহুর্তের বৃষ্টিতে আমাদের আমন চাষে খুব উপকার হয়েছে। তবে সার-কীটনাশনের মূল্য বৃদ্ধিতে আমরা চিন্তিত। তারা আরও জানান, ধান সংগ্রহের পর বাজারে ন্যায্য মূল্য পেলে আমরা লাভবান হব। কিন্তু প্রাকৃতিক দুর্যোগ না হলে ফলনও বেশ ভালো হবে বলে তারা আশা প্রকাশ করেন।

এ বিষয়ে দশমিনা উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা মোহাম্মদ জাফর আহম্মেদ বলেন, বৃষ্টি হওয়ায় শেষ মূহুর্তে কৃষকরা পুরোদমে আমন ধানের চারা লাগানোর ব্যস্ত সময় পার করছেন। আবহাওয়া বর্তমানে অনুকূলে রয়েছে। আর আমরা চাষিদের চারাগুলো লাইন করে লাগানোর পরামর্শ দিয়ে যাচ্ছি। আশা করি, আউশের মতোই আমনেরও বাম্পার ফলন হবে।

আরও পড়ুন -
  • সর্বশেষ
  • সর্বাধিক পঠিত