
মুন্সীগঞ্জের লৌহজংয়ে আদালতের নিষেধাজ্ঞা অমান্য করে বালু দিয়ে জমি ভরাট ও দখলের চেষ্টার অভিযোগ উঠেছে সুজন তালুকদারের বিরুদ্ধে। উপজেলার বোলতলী ইউনিয়নের দক্ষিণ চারিগাঁও গ্রামের মজিবুর রহমান তালুকদারের ছেলে সুজন তালুকদারের বিরুদ্ধে এ অভিযোগ করেছেন একই এলাকার মোফাজ্জল হোসেন দর্জির পরিবারের সদস্যরা। অভিযোগ সূত্রে জানা যায়, বোলতলী গ্রামের মৃত ওয়াজ উদ্দিন তালুকদারের ছেলে মজিবুর রহমান তালুকদার ও মৃত নাদের আলী দর্জির ছেলে মোফাজ্জল হোসেন দর্জি ১৯৮০ সালে যৌথভাবে ১৪২ শতাংশ জমি ক্রয় করেন। পরবর্তীতে ১৯৯৬ সালে উভয়ের সম্মতিতে বণ্টননামা দলিল সম্পাদন করা হয়। ওই বণ্টননামা অনুযায়ী মজিবুর রহমান তালুকদার ৫৪ শতাংশ এবং মোফাজ্জল হোসেন দর্জি ৮৮ শতাংশ জমির মালিকানা পান ।
মজিবুর রহমান তালুকদারের ৫৪ শতাংশ জমির মধ্যে তিনি প্রকৃত মালিক ৪৭ শতাংশের এবং অবশিষ্ট ৭ শতাংশ রাস্তার জন্য ছেড়ে দেওয়া হয়। মোফাজ্জল হোসেন দর্জির ছেলে শিশির হোসাইন বলেন, আমার বাবা দেশের বাইরে থাকা অবস্থায় মজিবুর রহমান তালুকদারের সঙ্গে যৌথভাবে বেশ কিছু জমি ক্রয় করেন। পরবর্তীতে ১৯৯৬ সালে উভয়ের সম্মতিতে বণ্টননামা দলিল করা হয়। কিন্তু বেশ কিছুদিন ধরে আমাদের ক্রয়কৃত সম্পত্তি রাস্তার নামে দখলের পাঁয়তারা করছেন সুজন তালুকদার। এ নিয়ে গ্রাম্য মজলিসে একাধিকবার বসা হলেও কোনো সমাধান হয়নি। তিনি আরও বলেন, পরবর্তীতে আরএস ২৩৭ দাগে ১৬ দশমিক ৫০ শতাংশ এবং আরএস ২৩৬ দাগে ৫ দশমিক ৫০ শতাংশ মোট ২২ শতাংশ জমির মালিকানা দাবি করে গত ২৯ জুন ২০২৬ তারিখে আদালতে মামলা দায়ের করি। পরে বিজ্ঞ আদালত ওই সম্পত্তির বিষয়ে ১৪৫ ধারায় আদেশ জারি করেন। আদালতের আদেশ থাকা সত্ত্বেও সেখানে বালু ফেলে রাস্তার নামে জমি ভরাট করে দখলের চেষ্টা করা হচ্ছে।
অভিযোগকারীদের দাবি, আদালতের আদেশ বহাল থাকা অবস্থায় বিরোধপূর্ণ জমিতে বালু ফেলে ভরাটের কাজ চলায় তারা উদ্বিগ্ন। এ ঘটনায় আদালতের আদেশ বাস্তবায়ন এবং বিরোধপূর্ণ জমিতে ভরাটের কাজ বন্ধে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানিয়েছেন তারা। এ বিষয়ে অভিযুক্ত সুজন তালুকদার বলেন, আমার বিরুদ্ধে করা অভিযোগটি সম্পূর্ণ মিথ্যা। মোফাজ্জল হোসেন দর্জির সঙ্গে আমাদের কোনো জমি-সংক্রান্ত বিরোধ নেই। তারা যে বিষয়টি নিয়ে অভিযোগ করেছেন, সেটিও সত্য নয়। সরকারি অর্থায়নে আমাদের এলাকায় একটি রাস্তা নির্মাণের কাজ চলছে। রাস্তাটি একটি ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান নির্মাণ করছে। এ নির্মাণকাজের সঙ্গে আমার কোনো সম্পৃক্ততা নেই। ১৪৫ ধারার মামলার তদন্ত কর্মকর্তা এএসআই নাছির উদ্দিন বলেন,আমি ঘটনাস্থলে গিয়ে বাদী এবং বিবাদী উভয় পক্ষকে বিজ্ঞ আদালতের নির্দেশ ১৪৫ ধারার নিষেধাজ্ঞার নোটিশ প্রদান করি। বাদী এবং বিবাদী কে আইনের প্রতি শ্রদ্ধারশীল থেকে কোনো প্রকার বিশৃঙ্খলা সৃষ্টি না করার নির্দেশ প্রদান করি।