ঢাকা রোববার, ০১ নভেম্বর ২০২৬, ১৬ কার্তিক ১৪৩৩ | বেটা ভার্সন

নারী নেত্রী দেবাহুতি চক্রবর্তীর মৃত্যুতে রাজবাড়ীতে শোক

নারী নেত্রী দেবাহুতি চক্রবর্তীর মৃত্যুতে রাজবাড়ীতে শোক

নারী অধিকার প্রতিষ্ঠা, শিশুদের সাংস্কৃতিক বিকাশ, আইন পেশা ও ক্যানসার আক্রান্ত মানুষের সহায়তায় নিবেদিতপ্রাণ মানুষ ছিলেন দেবাহুতি চক্রবর্তী। তার মৃত্যুতে শোকের ছায়া নেমে এসেছে রাজবাড়ীর সামাজিক, সাংস্কৃতিক ও রাজনৈতিক অঙ্গনে। বাংলাদেশ মহিলা পরিষদের কেন্দ্রীয় নেত্রী, শিশু সংগঠক, সাংস্কৃতিক ব্যক্তিত্ব ও আইনজীবী দেবাহুতি চক্রবর্তীকে অশ্রুসিক্ত শ্রদ্ধায় শেষ বিদায় জানিয়েছেন রাজবাড়ীর সর্বস্তরের মানুষ। গতকাল শনিবার দুপুর সাড়ে ১২টার দিকে তার মরদেহবাহী অ্যাম্বুলেন্স ফরিদপুর ডায়াবেটিক মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের উদ্দেশে রাজবাড়ী ত্যাগ করে। এর আগে বেলা সাড়ে ১১টার দিকে সর্বসাধারণের শ্রদ্ধা নিবেদনের জন্য তাঁর মরদেহ রাজবাড়ী শহরের শহীদ খুশি রেলওয়ে মাঠে কেন্দ্রীয় শহীদ মিনারে নেওয়া হয়। সেখানে বিভিন্ন রাজনৈতিক, সামাজিক, সাংস্কৃতিক ও পেশাজীবী সংগঠনের নেতাকর্মীসহ নানা শ্রেণি-পেশার মানুষ ফুল দিয়ে তাঁর প্রতি শেষ শ্রদ্ধা জানান। শহীদ মিনারে শ্রদ্ধা নিবেদন করেন বাংলাদেশের কমিউনিস্ট পার্টি, বাংলাদেশ বিপ্লবী কমিউনিস্ট লীগ, বাংলাদেশ মহিলা পরিষদ, জেলা ছাত্রদল, উদীচী শিল্পীগোষ্ঠী, মৈত্রী থিয়েটার গ্রুপ, মীর মশাররফ হোসেন স্মৃতি সংসদ, রাবেয়া-কাদের স্মৃতি পাঠাগার, নজরুল সংগীত শিল্পী পরিষদ, রাজবাড়ী থিয়েটার, আবোল-তাবোল শিশু সংগঠনসহ বিভিন্ন সংগঠনের প্রতিনিধিরা। এ সময় অনেকেই কান্নায় ভেঙে পড়েন। প্রিয় মানুষটিকে হারানোর বেদনায় শোকাহত স্বজন, সহকর্মী ও শুভাকাঙ্ক্ষীদের মধ্যে নেমে আসে গভীর বিষাদের ছায়া।

এর আগে তার মরদেহ শহরের পান্না চত্বরে অবস্থিত বাংলাদেশ মহিলা পরিষদের কার্যালয়ে নেওয়া হয়। সেখানে সংগঠনের নেতাকর্মীরা তাকে শেষ শ্রদ্ধা জানান। পরে রাজবাড়ী বার অ্যাসোসিয়েশনে নেওয়া হলে আইনজীবীরাও তার প্রতি শ্রদ্ধা নিবেদন করেন। দীর্ঘদিন ক্যানসারের সঙ্গে লড়াই করে গত শুক্রবার বিকাল ৩টার দিকে রাজধানীর একটি হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় মারা যান ৭৩ বছর বয়সী দেবাহুতি চক্রবর্তী। পারিবারিক সূত্রে জানা গেছে, ২০১৩ সালে তিনি ক্যানসারে আক্রান্ত হন। পরে ভারতে চিকিৎসা নিয়ে দেশে ফেরেন। নিজে এই মরণব্যাধিতে আক্রান্ত হয়েও জীবনযুদ্ধে থেমে থাকেননি তিনি। বরং ক্যানসার আক্রান্ত মানুষের পাশে দাঁড়ানোর প্রত্যয় নিয়ে সমমনা ব্যক্তিদের সঙ্গে গড়ে তোলেন 'রাজবাড়ী ক্যানসার সোসাইটি'। সংগঠনটির মাধ্যমে ক্যানসার আক্রান্ত রোগীদের চিকিৎসা-পরামর্শসহ বিভিন্ন ধরনের সহযোগিতা দেওয়া হতো। শুধু ক্যানসার আক্রান্ত মানুষের পাশে দাঁড়ানোই নয়, শিশুদের সাংস্কৃতিক ও সৃজনশীল বিকাশেও ছিল তাঁর গুরুত্বপূর্ণ অবদান। রাজবাড়ী শহরের শিশুদের নিয়ে গড়ে তোলেন 'আবোল-তাবোল' নামের শিশু সংগঠন। দীর্ঘদিন ধরে সংগঠনটির মাধ্যমে শিশুদের সাংস্কৃতিক চর্চা, সৃজনশীলতা ও মননশীল বিকাশে কাজ করেছেন তিনি। শিশুদের কাছে তিনি ছিলেন একজন অভিভাবক ও প্রিয় সংগঠক। নারীর অধিকার প্রতিষ্ঠা এবং অসহায় ও নির্যাতিত নারীদের আইনি সহায়তা দেওয়ার ক্ষেত্রেও অগ্রণী ভূমিকা রেখেছেন দেবাহুতি চক্রবর্তী। দীর্ঘদিন বাংলাদেশ মহিলা পরিষদের সঙ্গে যুক্ত থেকে সংগঠনটির বিভিন্ন কার্যক্রমে সক্রিয় ছিলেন। তিনি মহিলা পরিষদের কেন্দ্রীয় কমিটির আন্তর্জাতিক সম্পাদক হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন। পাশাপাশি আইনজীবী হিসেবে রাজবাড়ী জেলা বার অ্যাসোসিয়েশনের প্রথম নারী আইনজীবী হওয়ার গৌরব অর্জন করেন। পারিবারিক সূত্রে আরও জানা গেছে, নিঃসন্তান দেবাহুতি চক্রবর্তী মৃত্যুর আগেই মানবকল্যাণে নিজের মরদেহ ফরিদপুর ডায়াবেটিক মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে দান করে গেছেন। তাঁর এই সিদ্ধান্তের মধ্য দিয়ে মৃত্যুর পরও চিকিৎসা ও মানবকল্যাণে অবদান রাখার দৃষ্টান্ত রেখে গেলেন তিনি।

আরও পড়ুন -
  • সর্বশেষ
  • সর্বাধিক পঠিত