ঢাকা রোববার, ০১ নভেম্বর ২০২৬, ১৬ কার্তিক ১৪৩৩ | বেটা ভার্সন

আড়াই কোটি টাকায় নির্মিত হচ্ছে সেতু

সংযোগ সড়কের অস্তিত্ব নেই
আড়াই কোটি টাকায় নির্মিত হচ্ছে সেতু

পটুয়াখালীর কুয়াকাটার ধূলাসার ইউনিয়নের গঙ্গামতি তেত্রিশকানি এলাকায় খাল ও সংযোগ সড়কের দৃশ্যমান অস্তিত্ব না থাকলেও প্রায় আড়াই কোটি টাকা ব্যয়ে নির্মাণ করা হচ্ছে একটি গার্ডার সেতু। সেতুটির নির্মাণকাজ ঘিরে এর প্রয়োজনীয়তা, সরকারি অর্থের যথাযথ ব্যবহার নিয়ে প্রশ্ন তুলেছেন স্থানীয় বাসিন্দারা। তাদের অভিযোগ, যেখানে খাল নেই, সেখানে সেতু নির্মাণ করা হচ্ছে। আবার সেতুর দুই পাশে নেই চলাচলের উপযোগী সংযোগ সড়ক। ফলে বিপুল অর্থ ব্যয়ে নির্মিত সেতুটি শেষ পর্যন্ত জনসাধারণের কতটা কাজে আসবে, তা নিয়ে সংশয় রয়েছে। স্থানীয়দের, এলাকাবাসী প্রশ্ন তুলছে যাচাই না করেই কি প্রকল্পটি গ্রহণ করা হয়েছে? স্থানীয় সরকার প্রকৌশল অধিদপ্তর (এলজিইডি) সূত্রে জানা যায়, ধূলাসার ইউনিয়নের ৯ নম্বর ওয়ার্ডের গঙ্গামতি তেত্রিশকানি এলাকায় বেড়িবাঁধের বাহিরে সেতুটির নির্মাণকাজ চলছে। ২০২১-২২ অর্থবছরে নেওয়া প্রকল্পটির ব্যয় প্রায় আড়াই কোটি টাকা। গত বছর কোরবানির ঈদের পর নির্মাণকাজ শুরু হয়। চলতি বছরের শেষ দিকে কাজের নির্ধারিত মেয়াদ শেষ হওয়ার কথা রয়েছে। স্থানীয়দের দাবি, আওয়ামী লীগ সরকারের আমলে গিয়াস উদ্দিন নামের এক ব্যক্তি নির্মাণকাজটির দায়িত্ব পেয়েছিলেন। ৫ আগস্টের পর কাজটির দায়িত্ব পায় ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান জসিম উদ্দিন খান। তবে ঠিকাদার পরিবর্তন ও কাজ হস্তান্তরের প্রক্রিয়া সম্পর্কে সংশ্লিষ্ট দপ্তরের আনুষ্ঠানিক বক্তব্য পাওয়া যায়নি। সরেজমিন দেখা যায়, সেতুটির আশপাশে কয়েকটি বসতঘর রয়েছে। তবে সেখানে দৃশ্যমান কোনো খাল কিংবা সেতুর সঙ্গে সংযুক্ত চলাচলের রাস্তা চোখে পড়েনি। ফলে সেতুটি নির্মাণের পর কীভাবে মানুষ এটি ব্যবহার করবে, তা নিয়ে স্থানীয়দের মধ্যে নানা প্রশ্ন দেখা দিয়েছে।

ট্যুর গাইড অ্যাসোসিয়েশনের সাংগঠনিক সম্পাদক মো. ইসমাইল হোসেন বলেন, আমাদের এলাকায় উন্নয়ন হোক, এটা আমরা চাই। কিন্তু যেখানে খাল নেই, রাস্তা নেই, সেখানে এত টাকা খরচ করে সেতু নির্মাণের প্রয়োজনীয়তা কী? সেতু নির্মাণের আগে মানুষের চলাচলের ব্যবস্থা ও জায়গার বাস্তব অবস্থা বিবেচনা করা উচিত ছিল। স্থানীয় বাসিন্দা মতিউর রহমান মতি বলেন, সেতু হলে মানুষের উপকার হওয়ার কথা। কিন্তু এখানে সেতুর দুই পাশে চলার মতো রাস্তা নেই। খালেরও অস্তিত্ব দেখা যাচ্ছে না। তাহলে এই সেতু দিয়ে মানুষ চলাচল করবে কীভাবে? প্রকল্পের টাকা খরচ হলেই তো উন্নয়ন হয় না, মানুষের কাজে আসতে হবে। আমাদের কাছে সেতুর চেয়ে একটি সাইক্লোন শেল্টার বেশি জরুরি। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক স্থানীয় আরেক বাসিন্দা বলেন, সেতুর নির্মাণকাজের কারণে আশপাশের কয়েকটি পরিবারের ভোগান্তি হচ্ছে। কেউ কেউ ঘরবাড়ি নিয়েও সমস্যায় পড়েছেন। আমরা চাই, সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ সরেজমিন এসে বিষয়টি দেখুক। জনগণের টাকায় এমন কোনো প্রকল্প বাস্তবায়ন করা উচিত নয়, যা শেষ পর্যন্ত মানুষের কোনো উপকারে আসবে না।

স্থানীয়দের আরও অভিযোগ, কয়েক দিন আগে খালের অস্তিত্ব না থাকায় ভেকু দিয়ে খালের মতো করে জায়গা তৈরির কাজ করতে দেখা গেছে। এ বিষয়ে কলাপাড়া উপজেলা এলজিইডির নির্বাহী প্রকৌশলী মো. মনিরুজ্জামানের সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে তিনি বলেন, সেতুটি স্থানীয়দের হাঁটাচলার সুবিধা দেবে।

তবে প্রকল্পটির প্রয়োজনীয়তা, নকশা, সম্ভাব্য উপকারভোগী, খালের অস্তিত্ব এবং পানি নিষ্কাশনের পরিকল্পনা সম্পর্কে বিস্তারিত ব্যাখ্যা পাওয়া যায়নি। অন্যদিকে, নির্মাণকাজের দায়িত্বে থাকা ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানের স্বত্বাধিকারী জসিম উদ্দিন খানের সঙ্গে কথা বলতে গেলে তিনিও সংবাদ প্রকাশ না করার অনুরোধ জানান।

আরও পড়ুন -
  • সর্বশেষ
  • সর্বাধিক পঠিত