প্রিন্ট সংস্করণ
০০:০০, ২০ ফেব্রুয়ারি, ২০২৬
আমাদের ভাবপ্রকাশের প্রধান মাধ্যম ভাষা। বাংলা ভাষাভাষী মানুষদের মাতৃভাষা বাংলা। এই ভাষাতেই আমরা যত সহজে নিজেদের অনুভূতি প্রকাশ করতে পারি অন্য কোন ভাষায় তা সম্ভব না ।
‘মা’ একটি ছোট্ট শব্দ তবে এই শব্দ বলার মাঝে মমতা, ভালোবাসা ও প্রশান্তি অনেকখানি। শুধু এই ‘মা’ ডাক শোনার মাঝে যেন একজন নারীর সমগ্র জীবনের সার্থকতা নিহিত। ঠিক এভাবেই বাংলা ভাষার প্রতিটা শব্দ আমাদের হৃদয়ের ভাষা ব্যক্ত করে শব্দের ছকে। বিশাল জনগোষ্ঠীর ভাষা বাংলা হওয়া সত্ত্বেও বাংলা ভাষা মাতৃভাষা হিসেবে উপেক্ষিত ছিল।
সংখ্যাগরিষ্ঠ মানুষের ভাষা বাংলা হওয়া সত্ত্বেও উর্দুকে আমাদের রাষ্ট্রভাষা হিসেবে চাপিয়ে দেওয়ার অপচেষ্টা করা হয়েছিল, যাতে আমাদের কোণঠাসা করে রাখা যায়। কিন্তু বাংলার আপামর জনতা বাংলা ভাষার প্রতি এরূপ অবমাননা মেনে নেয়নি। মায়ের ভাষায় কথা বলার অধিকার প্রতিষ্ঠার লড়াইয়ে একজন বোন হারিয়েছেন তার ভাই একজন স্ত্রী হারিয়েছেন তার স্বামী সেই সঙ্গে কত পরিবার হারিয়েছেন তাদের চিরচেনা স্বজন। এই ভাষা লাখো শহিদের রক্তে কেনা ধন। এই ভাষার প্রতি শ্রদ্ধা প্রদর্শন দেশপ্রেমের নামান্তর। বাঙালি সংস্কৃতিকে আঁকড়ে ধরতে আমাদের পরবর্তী প্রজন্মকে শুদ্ধ মাতৃভাষা চর্চার হাতেখরি দিতে হবে।
তারা অন্য যা কিছুতেই পারদর্শী হোক না কেন, তাদের আমাদের ভাষা আন্দোলনের মর্মবাণী বোঝাতে হবে। বাঙালির আত্মত্যাগের সঠিক ইতিহাস তাদের অবগত করা আমাদের দায়িত্ব।
আমাদের পরবর্তী প্রজন্ম গড়ার দায়িত্ব আমাদের নিতে হবে। আমাদের জাতীয়তাবাদের চেতনায় উদ্বুদ্ধ হতে হবে। আমাদের ভাষার ইতিহাস ঐতিহ্য ও গুরুত্ব সম্পর্কে পরবর্তী প্রজন্মকে জানতে উৎসাহিত করতে হবে। বাংলাভাষী হয়েও ভাষার বিকৃতি ভাষার জন্য অপমানজনক।
অভিভাবকদের করণীয়, সন্তানদের ছোট থেকেই শুদ্ধ ভাষার হাতেখড়ি দেওয়া। সন্তান যেন শুদ্ধভাবে বাংলা বর্ণমালা উচ্চারণ করতে পারে, এই ব্যাপারে নজর প্রদান জরুরি। শৈশবের শেখার গাঁথুনি যত মজবুত হবে তার ভিত্তি তত জোরালোভাবে গড়ে উঠবে। সন্তানদের আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা দিবসের ন্যায় জাতীয় দিবসগুলোতে সক্রিয় অংশগ্রহণের মাধ্যমে দেশের ইতিহাস জানতে ও জানাতে উৎসাহিত করতে হবে। বর্তমান বিশ্বায়নের এই যুগে প্রতিযোগিতামূলক বিশ্বের সঙ্গে ঠিকে থাকার জন্য ভিনদেশী ভাষা শেখার প্রয়োজনীয়তাকে অস্বীকার করার উপায় নেই। দক্ষতা বিকাশে আমি অবশ্যই ভিন দেশি ভাষা শেখার প্রয়োজনীয়তাকে ছোট করে দেখছি না। তবে সেই ভাষারপ্ত করার তাড়না আমাদের যেন নিজ ভাষা শেখার প্রয়োজনীয়তা কে ছাড়িয়ে না যায়। নিজ ভাষাকে সর্বপ্রথম প্রাধান্যের জায়গায় রাখতে হবে। কেননা, এই দেশের মাটি, আলো বাতাস ও ভাষার মাঝে আমরা আমাদের শেখড় খুঁজে ফিরি। লাখো শহিদের রক্তে পাওয়া মাতৃভাষা বাংলার সম্মান ও যত্ন অক্ষত থাকুক যুগ যুগ ধরে আমাদের হৃদয়ের মণিকোঠায়।
তৈয়বা খানম
শিক্ষার্থী, হাটহাজারী, চট্টগ্রাম