ঢাকা শুক্রবার, ২০ ফেব্রুয়ারি ২০২৬, ৭ ফাল্গুন ১৪৩২ | বেটা ভার্সন

বায়ুদূষণে বিশ্বে শীর্ষে ঢাকা, চার স্থানে অস্বাভাবিক দূষণ

বায়ুদূষণে বিশ্বে শীর্ষে ঢাকা, চার স্থানে অস্বাভাবিক দূষণ

ভারতের রাজধানী দিল্লি ও পাকিস্তানের নগরী লাহোরকে ছাড়িয়ে গতকাল বৃহস্পতিবার সকালে বিশ্বে শীর্ষ দূষিত নগরী ঢাকা। দিল্লি ও লাহোরের কথা বলা হলো, কারণ, এই দুই শহর বেশির ভাগ সময় দূষণে শীর্ষে থাকে। চলতি ফেব্রুয়ারি মাসে একটি দিনও নির্মল বায়ু পায়নি রাজধানীবাসী। গতকাল বৃহস্পতিবার সকাল সাড়ে ৯টায় যখন এ প্রতিবেদন লেখা হচ্ছে, তখন বিশ্বের ১২১ শহরের মধ্যে ঢাকার বায়ুর মান ২৯১। বায়ুর এই মানকে ‘খুব অস্বাস্থ্যকর’ হিসেবে গণ্য করা হয়। ঢাকার চার স্থানে আজ বায়ুর মান অস্বাভাবিক খারাপ। একটি স্থানে বায়ুর মান ৫০০ ছাড়িয়ে গেছে। বায়ুর এত খারাপ মান সাম্প্রতিক সময়ে দেখা যায়নি। বায়ুদূষণের এ পরিস্থিতি তুলে ধরেছে সুইজারল্যান্ডভিত্তিক প্রতিষ্ঠান আইকিউএয়ার। প্রতিষ্ঠানটি বায়ুদূষণের অবস্থা নিয়মিত তুলে ধরে। বাতাসের মান নিয়ে তৈরি করা এই লাইভ বা তাৎক্ষণিক সূচক একটি নির্দিষ্ট শহরের বাতাস কতটা নির্মল বা দূষিত, সে সম্পর্কে মানুষকে তথ্য দেয় ও সতর্ক করে।

বায়ুদূষণের মাত্রা ২০০-এর বেশি হলে সেটিকে ‘খুব অস্বাস্থ্যকর’ বলে বিবেচনা করা হয়; আর ৩০০ হয়ে গেলে তা ‘দুর্যোগপূর্ণ’ বলে গণ্য করা হয়।

ঢাকার বায়ুদূষণ ভয়াবহভাবে বাড়ছে। বায়ুদূষণে ২০১৯ সালে দেশে প্রায় দেড় লাখ মানুষের মৃত্যু হয়েছে বলে বিশ্বব্যাংকের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে। এতে মোট দেশজ উৎপাদনের ক্ষতি প্রায় ৮ শতাংশ বলেও জানিয়েছে সংস্থাটি।

এ পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে বিভিন্ন সরকারের সময় নানা উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে; কিন্তু সেসবে কোনো কাজ হয়নি। অন্তর্বর্তী সরকারের সময় নানা উদ্যোগের কথা বলা হয়েছে, তাতে কাজের কাজ কিছু হয়নি। ঢাকা বা দেশের অন্য কোনো স্থানে দূষণ পরিস্থিতির উন্নতি হয়নি চোখে পড়ার মতো। নতুন সরকার দূষণ রোধে কী করতে পারে?

রাজধানীর চার স্থানে ভয়ানক দূষণ। এর মধ্যে সর্বোচ্চ দূষণ নিকুঞ্জের এএসএল সিস্টেমস লিমিটেডসংলগ্ন এলাকায়। মান ৫৪১। আর বাকি তিন স্থান হলো দক্ষিণ পল্লবী (৪২২), বেচারাম দেউড়ি (৪০০) ও ধানমন্ডি (৩৮০)।

দেশের সর্বত্রই বায়ুদূষণ বাড়ছে, তবে কিছু ক্ষেত্রে আজকাল ঢাকার বাইরের অন্যান্য এলাকায় বায়ুদূষণের মাত্রা অনেক বেশি থাকছে।

বায়ুদূষণ নিয়ন্ত্রণে যেসব কার্যক্রম আছে, তা মূলত ঢাকাকেন্দ্রিক। তবে এসব কার্যক্রমের তেমন কোনো ফল নেই।

গবেষণাপ্রতিষ্ঠান বায়ুমণ্ডলীয় দূষণ অধ্যয়নকেন্দ্রের (ক্যাপস) চেয়ারম্যান অধ্যাপক আহমেদ কামরুজ্জামান মজুমদার বলেন, রাজধানীর যেসব এলাকায় অতিরিক্ত দূষণ, সেসব এলাকাভিত্তিক দূষণ পর্যবেক্ষণ করতে হবে। কিন্তু পরিবেশ অধিদপ্তর, সিটি করপোরেশনের তেমন উদ্যোগ নেই। দেখা যাবে, হয়তো এসব এলাকায় নির্মাণ বা কোনো কারখানার দূষণ আছে। এখন এই এলাকাভিত্তিক পর্যবেক্ষণ জরুরি।

আরও পড়ুন -
  • সর্বশেষ
  • সর্বাধিক পঠিত