প্রিন্ট সংস্করণ
০০:০০, ২৫ ফেব্রুয়ারি, ২০২৬
ফসলের মৌসুমে সারের প্রাপ্যতা শুধু কৃষকের উদ্বেগ নয়, এটি সরাসরি খাদ্যনিরাপত্তার প্রশ্ন। মাঠের বাস্তবতা বলছে, কোথাও কোথাও টিএসপি ৪০ টাকা, ডিএপি ২৯-৩০ টাকা, এমওপি ২২-২৪ টাকায় কিনতে হচ্ছে। অর্থাৎ নির্ধারিত দামের বাইরে অতিরিক্ত অর্থ গুণতে বাধ্য হচ্ছেন কৃষকরা। অন্যদিকে প্রশাসনের দাবি, কোনো সংকট নেই। এই দুই অবস্থানের ফাঁকটাই এখন সবচেয়ে বড় প্রশ্ন।
রংপুর সদরে বাংলাদেশ কৃষি উন্নয়ন কর্পোরেশনের অনুমোদিত এক ডিলার জানিয়েছেন, চলতি ফেব্রুয়ারিতে একজন ডিলার টিএসপি মাত্র ১৫ বস্তা ও ডিএপি ৯৪ বস্তা পেয়েছেন, যা চাহিদার তুলনায় অপ্রতুল। বিশেষ করে ডিএপি সারের সংকটের কথা তিনি স্পষ্টভাবে উল্লেখ করেছেন। মাঠপর্যায়ের এমন বক্তব্যকে একেবারে উড়িয়ে দেওয়া যায় না, কারণ সরবরাহের ঘাটতি থাকলে বাজারে বাড়তি দামের প্রবণতা তৈরি হওয়াই স্বাভাবিক।
কৃষি মন্ত্রণালয়ের তথ্য বিশ্লেষণে দেখা যাচ্ছে, কিছু সারের ক্ষেত্রে গত বছরের একই সময়ের তুলনায় বরাদ্দ কমেছে। পরিমাণে কম হলেও এটি সরবরাহ ব্যবস্থার ওপর চাপের ইঙ্গিত দেয়। চাহিদা যদি সমান বা বেশি থাকে, আর বরাদ্দ কমে, তাহলে বাজারে সংকটের ধারণা তৈরি হওয়াই স্বাভাবিক। ফলে শুধু ‘সংকট নেই’ বললে বাস্তবতা বদলায় না।
এখানে তিনটি বিষয় জরুরি-
প্রথমত, বরাদ্দ ও বাস্তব সরবরাহের মধ্যে ফাঁক আছে কি না, তা স্বচ্ছভাবে প্রকাশ করতে হবে। জেলা ও উপজেলাভিত্তিক চাহিদা, বরাদ্দ এবং প্রকৃত বিতরণের তথ্য নিয়মিতভাবে প্রকাশ করলে বিভ্রান্তি কমবে।
দ্বিতীয়ত, বাজার তদারকি জোরদার করতে হবে। প্রমাণ পেলে ব্যবস্থা নেওয়া হবে- এ বক্তব্য যথেষ্ট নয়। নিয়মিত মনিটরিং, হটলাইন, ভ্রাম্যমাণ আদালত এবং কৃষকের সরাসরি অভিযোগ জানানোর সহজ ব্যবস্থা থাকতে হবে।
তৃতীয়ত, ডিলার পর্যায়ে সরবরাহের সমতা নিশ্চিত করা দরকার। কোনো এলাকায় অস্বাভাবিকভাবে কম বরাদ্দ গেলে তা দ্রুত সমন্বয় করতে হবে, যাতে কৃত্রিম সংকট তৈরি না হয়।
কৃষক ন্যায্যমূল্যে সার না পেলে তার প্রভাব শুধু একটি মৌসুমে সীমাবদ্ধ থাকে না। উৎপাদন খরচ বাড়ে, ফলন কমে, বাজারে খাদ্যের দাম বাড়ে। তাই সারের বাজারকে হালকাভাবে দেখার সুযোগ নেই। নবগঠিত সরকার জানিয়েছে দেশের কৃষি নিয়ে তাদের ব্যাপক পরিকল্পনা রয়েছে। আমরা আশা করব সার সংকট দূরীকরণে তারা দ্রুত পদক্ষেপ নিবে। কৃষির উন্নয়ন নিয়ে প্রশাসনের দাবি আর মাঠের বাস্তবতার মধ্যে যে ফাঁক রয়েছে সেই ফাঁকটুকু দূর করতে নবগঠিত সরকার দৃড়তার সঙ্গে কাজ করবে।
কৃষকদের উন্নয়নে যথাযথ ক্রিয়াশীলতা দেখাতে না পারলে কৃষকদের আস্থা ক্ষতিগ্রস্ত হবে। ফলে এখন প্রয়োজন তথ্যভিত্তিক স্বচ্ছতা, কঠোর নজরদারি এবং দ্রুত সমন্বয়। কৃষির-ভিত্তি মজবুত রাখতে হলে সারের বাজারকে স্থিতিশীল ও ন্যায্য রাখা অপরিহার্য। নবগঠিত সরকার সার সংকট মোকাবিলায় কার্যকর ভূমিকা রাখবে বলে আমরা আশা করছি।