ঢাকা সোমবার, ২৭ এপ্রিল ২০২৬, ১৪ বৈশাখ ১৪৩৩ | বেটা ভার্সন

তীব্র গরমে তৃষ্ণার্ত নগরবাসী

তীব্র গরমে তৃষ্ণার্ত নগরবাসী

তীব্র দাবদাহে জনজীবন যখন ওষ্ঠাগত, তখন রাজধানীর বিশাল জনগোষ্ঠীর জন্য এক গ্লাস বিশুদ্ধ পানি পাওয়াই এখন দুঃসাধ্য হয়ে দাঁড়িয়েছে। এক প্রতিবেদনে উঠে আসা ঢাকা ওয়াসার সরবরাহ চিত্রের যে হাহাকার, তা শুধুই মৌসুমি সংকট নয়; আদতে এটি সংস্থাটির দীর্ঘদিনের পুঞ্জীভূত অব্যবস্থাপনা, দুর্নীতির উত্তরাধিকার এবং অপরিকল্পিত নগরায়ণের এক নিষ্ঠুর বহিঃপ্রকাশ। লক্ষ্যণীয়, প্রতিদিন গড়ে ৪৫ কোটি লিটার পানির ঘাটতির কারণে নগরীর বিশাল এলাকার মানুষ এখন ক্ষুব্ধ ও বিপর্যস্ত। বিশেষ করে পল্লবীতে পানির দাবিতে সাধারণ মানুষের সড়ক অবরোধের ঘটনাটি প্রমাণ করে, সংকটে তাদের পিঠ দেওয়ালে ঠেকে গেছে। বলাবাহুল্য, উন্নত বিশ্বে নাগরিকের জন্য বিশুদ্ধ পানির নিশ্চয়তা দেওয়া রাষ্ট্রের অন্যতম প্রধান অগ্রাধিকার। কিন্তু আমাদের দেশে এ মৌলিক অধিকারটি বলতে গেলে শুরু থেকেই নিদারুণভাবে উপেক্ষিত। এমনকি বাজারে বোতলজাত বা জারে করে যে পানি বিশুদ্ধ বলে বিক্রি হয়, এর মান ও উৎস নিয়েও জনমনে গভীর সংশয় রয়েছে।

উল্লেখ্য, বর্তমানে যে সংকট চলছে, এর শিকড় অনেক গভীরে। ফ্যাসিবাদী সরকারের আমলে ঢাকা ওয়াসার শীর্ষপদে আসীন থেকে জনৈক ব্যক্তি যেভাবে প্রতিষ্ঠানটিকে তার ব্যক্তিগত ও গোষ্ঠীগত স্বার্থের আখড়ায় পরিণত করেছিলেন, তার মাশুল এখন আড়াই কোটি নগরবাসীকে দিতে হচ্ছে। তৎকালীন হাজার হাজার কোটি টাকা ব্যয়ে নির্মিত বিভিন্ন বড় প্রকল্প আজ পূর্ণ সক্ষমতায় চলতে পারছে না স্রেফ লুটপাট ও পরিকল্পনার অভাবে। ওয়াসার বর্তমান প্রশাসনও সেই পুরোনো অব্যবস্থাপনার লিগ্যাসি থেকে পুরোপুরি বেরিয়ে আসতে পারছে কি না, তা নিয়ে প্রশ্নের অবকাশ রয়েছে। ২০ শতাংশ সিস্টেম লস বা পানির অপচয় কমানোর পরিবর্তে পাম্প নষ্ট হওয়া বা পানির স্তর নিচে নেমে যাওয়ার অজুহাত দিয়ে দায় এড়ানোর সংস্কৃতি এখনও প্রবল। এছাড়া ২০২টি গভীর নলকূপ অকেজো হয়ে পড়ে থাকা বা সরবরাহ লাইনের কাজ শেষ না হওয়া মূলত প্রশাসনিক ব্যর্থতারই নামান্তর। ফলে এখন সময় এসেছে, ঢাকা ওয়াসার সামগ্রিক কাঠামোর আমূল পরিবর্তনের।

শুধু ভূগর্ভস্থ পানির ওপর নির্ভর নয়, নির্মিত শোধনাগারগুলোর সক্ষমতা শতভাগ কাজে লাগানোর ওপর জোর দিতে হবে। পাশাপাশি সমস্যার উত্তরণে বর্তমান নীতিনির্ধারকদের স্বচ্ছতা ও জবাবদিহি নিশ্চিতের বিকল্প নেই। এ ব্যাপারে কার্যকর পদক্ষেপ নেওয়া হবে- এটাই প্রত্যাশা।

আরও পড়ুন -
  • সর্বশেষ
  • সর্বাধিক পঠিত