ঢাকা বুধবার, ১৬ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ১ আশ্বিন ১৪৩৩ | বেটা ভার্সন

ম্যানেজিং কমিটির নির্বাচনে নতুন নিয়ম : শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের নেতৃত্বে যোগ্যতার নতুন দিগন্ত

ম্যানেজিং কমিটির নির্বাচনে নতুন নিয়ম : শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের নেতৃত্বে যোগ্যতার নতুন দিগন্ত

দেশের বেসরকারি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের ম্যানেজিং কমিটি ও গভর্নিং বডি গঠনের নিয়মে পরিবর্তনের উদ্যোগটি নিঃসন্দেহে ইতিবাচক একটি পদক্ষেপ। বিশেষ করে সভাপতি নির্বাচনের ক্ষেত্রে যোগ্যতা, জবাবদিহি ও অংশগ্রহণমূলক প্রক্রিয়াকে গুরুত্ব দেওয়ার যে প্রস্তাব এসেছে, তা শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের পরিচালনায় দীর্ঘমেয়াদি ইতিবাচক প্রভাব ফেলতে পারে।

প্রস্তাবিত নিয়মে শুধু নির্বাচিত সদস্যদের মধ্যেই সভাপতির পদ সীমাবদ্ধ না রেখে স্থানীয় শিক্ষানুরাগী, সমাজসেবক, জনপ্রতিনিধি এবং কর্মরত বা অবসরপ্রাপ্ত প্রথম শ্রেণির সরকারি কর্মকর্তাদের সুযোগ দেওয়ার কথা বলা হয়েছে। এতে শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের সঙ্গে যুক্ত হওয়ার জন্য অভিজ্ঞ, দায়িত্বশীল ও সমাজে গ্রহণযোগ্য ব্যক্তিদের পরিসর বাড়বে। একই সঙ্গে সভাপতির ন্যূনতম শিক্ষাগত যোগ্যতা স্নাতক বা সমমান রাখার বিষয়টিও যথার্থ। কারণ একটি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের নীতিনির্ধারণী পর্যায়ে থাকা ব্যক্তির শিক্ষাগত ও সামাজিক সক্ষমতা গুরুত্বপূর্ণ।

সভাপতি নির্বাচনে নির্বাচিত সদস্যদের সংখ্যাগরিষ্ঠ ভোট এবং সভায় অন্তত দুই-তৃতীয়াংশ সদস্যের উপস্থিতি বাধ্যতামূলক করার প্রস্তাবটিও প্রশংসনীয়। এতে গোপন সমঝোতা বা একতরফা সিদ্ধান্তের সুযোগ কমবে এবং নির্বাচনী প্রক্রিয়ায় অংশগ্রহণমূলক পরিবেশ তৈরি হবে। সমান ভোট হলে লটারির বিধান এবং পদ শূন্য হলে দ্রুত নতুন সভাপতি নির্বাচনের সুযোগ প্রশাসনিক স্থবিরতা কমাতে সহায়ক হতে পারে।

আরও গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হলো, একজন ব্যক্তির একাধিক শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে সভাপতির দায়িত্ব পালনের ক্ষেত্রে সীমা নির্ধারণের প্রস্তাব। এতে একই ব্যক্তিকে ঘিরে প্রতিষ্ঠান পরিচালনার প্রবণতা কমবে এবং আরও যোগ্য ও নতুন নেতৃত্ব সামনে আসার সুযোগ তৈরি হবে।

সভাপতির কিছু ক্ষমতা, বিশেষ করে প্রতিষ্ঠানপ্রধান ও সহকারী প্রধান নিয়োগের ক্ষমতা সীমিত করার প্রস্তাবও গুরুত্বের দাবি রাখে। নিয়োগপ্রক্রিয়ায় স্বচ্ছতা ও পেশাগত মান নিশ্চিত করতে দায়িত্বের পৃথকীকরণ প্রয়োজন। তবে মনে রাখতে হবে, এটি এখনো প্রস্তাবিত খসড়া; চূড়ান্ত হয়নি। তাই সংশ্লিষ্ট শিক্ষক, শিক্ষাবিদ, অভিভাবক ও শিক্ষাপ্রশাসনের অভিজ্ঞ ব্যক্তিদের মতামত নিয়ে আরও পরিমার্জন করা জরুরি। শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান কেবল একটি ভবন নয়; এটি ভবিষ্যৎ প্রজন্ম গড়ার কারখানা। সেই প্রতিষ্ঠানের নেতৃত্বে যোগ্যতা, সততা, অভিজ্ঞতা ও জবাবদিহি নিশ্চিত করার প্রতিটি উদ্যোগই তাই স্বাগত জানানোর মতো।

আরও পড়ুন -
  • সর্বশেষ
  • সর্বাধিক পঠিত